অনলাইন ডেস্ক:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি যোগ্যতায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নূন্যতম ডিগ্রি পাস। আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হতে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বালাই ছিল না।
উল্লেখ্য, সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্লিপের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে।
মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তাই সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নূন্যতম ডিগ্রি পাস করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে প্রস্তাব আসার পর এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হবে বলে দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
জানা গেছে, অনেক বিদ্যালয়ে কমিটির সভাপতি হিসেবে নিরক্ষর ব্যক্তিকে নির্বাচন করায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও শিক্ষার মান বাড়াতে তারা কোনো ধরনের সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দিতে পারেন না, বরং বিদ্যালয়ের উন্নয়নসহ বিভিন্ন অর্থ হাতিয়ে নিতে ব্যস্ত থাকেন। নানা সময়ে শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। সভাপতিরা স্থানীয় ব্যক্তি ও ক্ষমতাবান হওয়ায় নানা ধরনের অনিয়ম করলেও শিক্ষকরা ভয়ে তাদের বাধা দেন না। এ ধরনের বিভিন্ন অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে আসায় যোগ্য ব্যক্তিদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভাপতি নির্বাচন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এফ এম মঞ্জুর কাদির দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিরা বিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য তাদের অনেক সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ বাস্তবায়ন করা হয়। যদি সভাপতি অযোগ্য হন তবে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাকে সভাপতি হতে হলে স্নাতক বা ডিগ্রি পাস হতে হবে। তিনি বলেন, এ বিষয়টি কার্যকর করতে মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবনা তৈরি করে পাঠাতে বলা হয়েছে। এই প্রস্তাবনায়ই পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরা হবে। তারপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সভা করে সিদ্ধান্ত দেবে।