চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ১০ বছর বয়সি শিশুকে বলৎকারের শাস্তি হিসেবে নাকে খত ও জুতার বাড়ি দেওয়া হয়েছে আল আমিন নামের এক যুবককে। এছাড়াও ভবিষ্যতে এমন অসামাজিক কাজ করবেন না বলে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় (৫ এপ্রিল) সংবাদকর্মীদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলৎকারের শিকার শিশুটির বাবা।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাতে উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের আহম্মদপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত সালিশি বৈঠকে অভিযুক্তকে এ শাস্তি দেওয়া হয়। অভিযুক্ত আলামিন ওই গ্রামের ছোয়ানি বাড়ির মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি ওই এলাকার চার রাস্তা মোড়ের আল আমিন এন্টার প্রাইজের (মুদি ও কনফেকশনারী) সত্ত্বাধীকারী।
শিশুটির বাবা জানান, গত ২৮ রমজান ও ২৯ মার্চ শনিবার সকালে আল আমিন এন্টারপ্রাইজে যায় তার ছেলে। এসময় ছেলেটিকে দোকানের পিছনে নিয়ে বলৎকার করেন আল আমিন। পরে শিশুটি বাড়িতে এসে বিষয়টি জানালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বলৎকারের ঘটনাটি জানান তার বাবা। কিন্তু অদৃশ্য কারণে ঘটনাটি চাপা পড়ে যায়।
পরবর্তীতে গত ১ মার্চ, মঙ্গলবার ওই গ্রামের পাশবর্তী গ্রামের আহম্মদপুরের একটি মুদি দোকানে সাড়ে ৬ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে বলৎকারের ঘটনাটি সামনে আসে। এরপর আল আমিন তার দোকান বন্ধ করে স-পরিবারে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে আল আমিন এন্টারপ্রাইজ ও তার বসতঘরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ওই সময়ে অভিযুক্ত আল আমিনকে এলাকায় না পাওয়ায় এবং তাকে একাধিকবার মুঠোফোনে ফোন দিলে, তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শিশুটির বাবা আরো জানান, বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার রাতে এলাকায় সালিশি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে আল আমিনকে শাস্তি দেওয়ার কারণে এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে তিনি মামলা করেন নি।
কি শাস্তি দেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ১’শ গজ নাকে খত ও ২’শ জুতার বাড়ি দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এমন অসামাজিক কাজ করবেন না বলে এলাকাবাসীর কাছে মুচলেকা দেয় অভিযুক্ত আল আমিন।
এদিকে শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত আল আমিনের সাথে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার নামে মিথ্যা কথা রটিয়েছে। আমি পালিয়ে যাইনি, শশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে কেউ আমাকে জানায়নি।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, বিষয়টি কেউ আমাদেরকে জানায়নি এবং এ বিষয়ে কেউ অভিযোগও দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।