ঢাকা ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজী না হওয়ায় মা মেয়েকে কোপালো বখাটেরা

  • আপডেট: ১২:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০১৯
  • ১৩

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি:

মাদ্রাসা পুড়য়া ছাত্রীকে বিয়ে দিতে রাজী না হওয়ায় রাতের আঁধারে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মা মেয়েসহ তিনজনকে কুপিয়েছে বখাটে। গত তিন দিন ধরে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুসহ ওই পরিবারটি। বখাটের ভয়ে থানায় মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না তারা। যদিও সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম পোয়া গ্রামে গত রোববার রাতে ঘটে।
জানা গেছে, পশ্চিম পোঁয়া গ্রামের মুকবুল আহাম্মেদের মেয়ে আলিম পরীক্ষার্থী সাথী আক্তার(১৭)কে পাশ্ববর্তী সুলতান আহম্মেদের ছেলে বখাটে ওয়াসিম বেশ কিছুদিন ধরে উত্যক্ত করতো। ঘটনাটি সাথী তার পরিবারকে জানালেও ভয়ে তারা কাউকে কিছু বলেনি।
সাথীর মা সাহিদা বেগম জানায়, বখাটে ওয়াসিম বেশ কয়েকবার বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। বিষয়টি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে জানান তিনি।
এরই মধ্যে কয়েকদিন পূর্বে তার মেয়ের জন্য অন্যস্থান থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে। কিন্তু তিনি এই মূহূর্তে বিয়ে দিবেন না বলে তাদের বিদায় করেন।এদিকে সাথীর বিয়ের প্রস্তাব আসার সংবাদ শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বখাটে ওয়াসিম। সে ও তার সঙ্গীরা গত রোববার রাতে সাথীর ঘরের জানালা ভেঙ্গে এলোপাথারি কোপায় তাদেরকে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রথমে মেয়ে সাথীকে কুপিয়ে আহত করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার উপর এমনকি তিন বছরের শিশু আয়েশা আক্তারকে কুপিয়ে আহত করে তারা।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই রাতেই তাদেরকে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায় স্থানীয় লোকজন। স্থানীয় লোকজন জানায়, হামলাকারীরা শিশুসহ তিনজনকে মারাত্মক ভাবে কুপিয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, শিশুসহ তিনজনকে মারাত্মক আহত অবস্থায় নিয়ে আসে লোকজন। মূমূর্ষ অবস্থা থেকে বর্তমানে তারা কিছুটা উন্নতির দিকে।
সরেজমিন হাসাপাতালে গিয়ে দেখা যায়, স্থান সংকটের কারণে আহত মা মেয়ে তিনজন একই বেডে অবস্থান করছেন। তারা এখনো বখাটের ভয়ে আতংকিত।তাদরে চোখে মুখে এখনো অতংকের চিহ্ন দেখা গেছে।
সাথীর পিতা মুকবুল আহাম্মদ জানান, মামলা করলে আবারো হামলা করবে এই হুমকির আতংকে তারা মামলা করতে ভয় পাচ্ছেন।
এদিকে সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশের এসআই সুমন্ত ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে গিয়েছেন। তিনি জানান, আহত ও তার পরিবারকে থানায় অভিযোগ করার জন্য বলেছেন।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

ফরিদগঞ্জে মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজী না হওয়ায় মা মেয়েকে কোপালো বখাটেরা

আপডেট: ১২:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০১৯

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি:

মাদ্রাসা পুড়য়া ছাত্রীকে বিয়ে দিতে রাজী না হওয়ায় রাতের আঁধারে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মা মেয়েসহ তিনজনকে কুপিয়েছে বখাটে। গত তিন দিন ধরে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুসহ ওই পরিবারটি। বখাটের ভয়ে থানায় মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না তারা। যদিও সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম পোয়া গ্রামে গত রোববার রাতে ঘটে।
জানা গেছে, পশ্চিম পোঁয়া গ্রামের মুকবুল আহাম্মেদের মেয়ে আলিম পরীক্ষার্থী সাথী আক্তার(১৭)কে পাশ্ববর্তী সুলতান আহম্মেদের ছেলে বখাটে ওয়াসিম বেশ কিছুদিন ধরে উত্যক্ত করতো। ঘটনাটি সাথী তার পরিবারকে জানালেও ভয়ে তারা কাউকে কিছু বলেনি।
সাথীর মা সাহিদা বেগম জানায়, বখাটে ওয়াসিম বেশ কয়েকবার বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। বিষয়টি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে জানান তিনি।
এরই মধ্যে কয়েকদিন পূর্বে তার মেয়ের জন্য অন্যস্থান থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে। কিন্তু তিনি এই মূহূর্তে বিয়ে দিবেন না বলে তাদের বিদায় করেন।এদিকে সাথীর বিয়ের প্রস্তাব আসার সংবাদ শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বখাটে ওয়াসিম। সে ও তার সঙ্গীরা গত রোববার রাতে সাথীর ঘরের জানালা ভেঙ্গে এলোপাথারি কোপায় তাদেরকে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রথমে মেয়ে সাথীকে কুপিয়ে আহত করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার উপর এমনকি তিন বছরের শিশু আয়েশা আক্তারকে কুপিয়ে আহত করে তারা।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই রাতেই তাদেরকে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায় স্থানীয় লোকজন। স্থানীয় লোকজন জানায়, হামলাকারীরা শিশুসহ তিনজনকে মারাত্মক ভাবে কুপিয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, শিশুসহ তিনজনকে মারাত্মক আহত অবস্থায় নিয়ে আসে লোকজন। মূমূর্ষ অবস্থা থেকে বর্তমানে তারা কিছুটা উন্নতির দিকে।
সরেজমিন হাসাপাতালে গিয়ে দেখা যায়, স্থান সংকটের কারণে আহত মা মেয়ে তিনজন একই বেডে অবস্থান করছেন। তারা এখনো বখাটের ভয়ে আতংকিত।তাদরে চোখে মুখে এখনো অতংকের চিহ্ন দেখা গেছে।
সাথীর পিতা মুকবুল আহাম্মদ জানান, মামলা করলে আবারো হামলা করবে এই হুমকির আতংকে তারা মামলা করতে ভয় পাচ্ছেন।
এদিকে সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশের এসআই সুমন্ত ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে গিয়েছেন। তিনি জানান, আহত ও তার পরিবারকে থানায় অভিযোগ করার জন্য বলেছেন।