ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে পৌর ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ: কার্যালয় ভাঙচুর, ছুরিকাঘাতে আহত ৬

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ছাত্রদলের দুই পক্ষের বিরোধের জেরে পৌর ছাত্রদলের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মামুন তরফদার (২০) নামে এক ছাত্রদল নেতা গুরুতর আহতসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। আহত মামুনকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বাম পাশের বুকের নিচে ১৮টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে স্বজনদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১২টার মধ্যে ফরিদগঞ্জ বাজারের ভান্ডারী মহল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

আহতরা হলেন—পৌর ছাত্রদল নেতা মামুন তরফদার (২০), তানজিল গাজী (২৫), জিসান আহমেদ (২৫), ইফাজ (২১), রাশেদ (২০) ও হানজালা রাফি (২১)। তাদের মধ্যে মামুনকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যরা ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, কয়েকদিন আগে ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে ছাত্রদল নেতা আশিকুর রহমানের অনুসারী রাহুল ও ছাত্রদল নেতা তানজিল গাজীর অনুসারী হানজালা রাফির মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে শনিবার সন্ধ্যায় ফরিদগঞ্জ শহীদ মিনার এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পরে রাতে বিরোধের জের ধরে ভান্ডারী মহল এলাকায় পৌর ছাত্রদলের কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে একদল যুবক কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার সময় বাধা দিতে গেলে পৌর ছাত্রদল নেতা মামুন তরফদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার সহকর্মীরা। এতে তার বুকের বাম পাশে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।

পৌর ছাত্রদল নেতা তানজিল গাজী অভিযোগ করে বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা ভান্ডারী মহলে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আশিকুর রহমানের অনুসারী ৩০ থেকে ৪০ জন যুবক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে কার্যালয়ে ভাঙচুর করে। এসময় হামলাকারীরা মামুন তরফদারকে ধারালো ছুরি দিয়ে বুকের বাম পাশে আঘাত করেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তবে হামলায় নিজের অনুসারীদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা আশিকুর রহমান বলেন, কলেজের ঘটনাটি নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের বসে মীমাংসার কথা ছিল। কিন্তু রাতে শহীদ মিনারের সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও হাতাহাতি হয়। পরে রাহুলের মা-বাবাসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে কিছু বহিরাগত ও পরিবারের সদস্যরা দলীয় কার্যালয়ের দিকে চলে যান। খবর পেয়ে তারাও সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। মামুন তরফদারকে কে বা কারা আঘাত করেছে, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন আশিকুর রহমান।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অবগত হয়েছে। কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

বিসিএস কর্মকর্তা ডা. আঁচলের মৃত্যু, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শোক

ফরিদগঞ্জে পৌর ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ: কার্যালয় ভাঙচুর, ছুরিকাঘাতে আহত ৬

আপডেট : ১১:১৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ছাত্রদলের দুই পক্ষের বিরোধের জেরে পৌর ছাত্রদলের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মামুন তরফদার (২০) নামে এক ছাত্রদল নেতা গুরুতর আহতসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। আহত মামুনকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বাম পাশের বুকের নিচে ১৮টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে স্বজনদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১২টার মধ্যে ফরিদগঞ্জ বাজারের ভান্ডারী মহল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

আহতরা হলেন—পৌর ছাত্রদল নেতা মামুন তরফদার (২০), তানজিল গাজী (২৫), জিসান আহমেদ (২৫), ইফাজ (২১), রাশেদ (২০) ও হানজালা রাফি (২১)। তাদের মধ্যে মামুনকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যরা ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, কয়েকদিন আগে ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে ছাত্রদল নেতা আশিকুর রহমানের অনুসারী রাহুল ও ছাত্রদল নেতা তানজিল গাজীর অনুসারী হানজালা রাফির মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে শনিবার সন্ধ্যায় ফরিদগঞ্জ শহীদ মিনার এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পরে রাতে বিরোধের জের ধরে ভান্ডারী মহল এলাকায় পৌর ছাত্রদলের কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে একদল যুবক কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার সময় বাধা দিতে গেলে পৌর ছাত্রদল নেতা মামুন তরফদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার সহকর্মীরা। এতে তার বুকের বাম পাশে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।

পৌর ছাত্রদল নেতা তানজিল গাজী অভিযোগ করে বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা ভান্ডারী মহলে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আশিকুর রহমানের অনুসারী ৩০ থেকে ৪০ জন যুবক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে কার্যালয়ে ভাঙচুর করে। এসময় হামলাকারীরা মামুন তরফদারকে ধারালো ছুরি দিয়ে বুকের বাম পাশে আঘাত করেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তবে হামলায় নিজের অনুসারীদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা আশিকুর রহমান বলেন, কলেজের ঘটনাটি নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের বসে মীমাংসার কথা ছিল। কিন্তু রাতে শহীদ মিনারের সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও হাতাহাতি হয়। পরে রাহুলের মা-বাবাসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে কিছু বহিরাগত ও পরিবারের সদস্যরা দলীয় কার্যালয়ের দিকে চলে যান। খবর পেয়ে তারাও সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। মামুন তরফদারকে কে বা কারা আঘাত করেছে, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন আশিকুর রহমান।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অবগত হয়েছে। কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।