ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২ বছর ধরে প্রবাসির স্ত্রীর সাথে মাদরাসা শিক্ষকের অনৈতিক সম্পর্ক, অবশেষে জনতার হাতে ধরা

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৯:০৩:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • 285

ছবি-সংগৃহিত।

দুই বছর ধরে স্বামী প্রবাসী। আর স্ত্রীকে নিয়ে মত্ত্ব লিলায় মেতে উঠেছে মাদ্রাসা শিক্ষক। কখনো আবাসিক হোটেলে কখনো বাসা বাড়ীতে চলছে মেলা-মেশা। অবশেষে ধরা খেলো জনতার হাতে। এলাকাবাসি বিবাহ পড়ানোর কথা বললেও বিবাহতে রাজি নেই মাদরাসার শিক্ষক। তাই দেয়া হলো পুলিশে। এমনই এক চাঞ্চল্যকর নাটকের ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে।

প্রবাসে থাকা স্বামীর অগোচরে মাদ্রাসা শিক্ষকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছে প্রবাসির স্ত্রী রুপালী খাতুন। পরবর্তীতে বিয়েতে অসম্মতি জানানোকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে গতকাল পুরো এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনতার কাছে হাতেনাতে আটক হওয়ার পর অবশেষে উভয়ের ঠাঁই হয়েছে পুলিশ হেফাজতে।

আটককৃতদের প্রাথমিক স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার সেজিয়া নলবিলপাড়া গ্রামের রুপালী খাতুনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার বাসিন্দা ও মাদ্রাসা শিক্ষক হাবিবুল্লাহ।

রুপালীর স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফোনে তাদের যোগাযোগ শুরু হয়। দেখতে দেখতে সেই পরিচয় গড়ায় গভীর প্রেমে। গত দুই বছরে তারা একাধিকবার গোপনে দেখা করেন এবং উভয়ের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানা যায়।

গতকাল পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রেমিক হাবিবুল্লাহ ও রূপালী খাতুন দু’জন দুই প্রান্ত থেকে এসে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় মিলিত হন। সেখানে খাবার গ্রহণের একপর্যায়ে রূপালী খাতুন মাদ্রাসা শিক্ষক হাবিবুল্লাহকে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে পরিণতি দিয়ে দ্রুত বিয়ে করার তাগিদ দেন। তবে বিয়ের কথা উঠতেই সুর বদলে ফেলেন প্রেমিক হাবিবুল্লাহ। তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।

বিয়ে নিয়ে দু’জনের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা ও কথাকাটাকাটি। তাদের আচরণ, অস্বাভাবিক কথাবার্তা এবং উত্তেজনাপূর্ণ চালচলন রেস্তোরাঁয় উপস্থিত সাধারণ মানুষের নজরে আসে।

রেস্তোরাঁর ভেতরের পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় উৎসুক জনতা তাদের ঘিরে ফেলে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জনতার প্রশ্নের মুখে একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে তাদের পরকীয়া সম্পর্ক, প্রবাসে থাকা স্বামী এবং বিয়ের নামে প্রতারণার থলের বিড়াল।

প্রবাসীর স্ত্রীর এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং একজন মাদ্রাসা শিক্ষকের অনৈতিক লালসা ও প্রতারণার এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ ও ধিক্কার প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

মতলব উত্তরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ দুইজন গ্রেপ্তার

২ বছর ধরে প্রবাসির স্ত্রীর সাথে মাদরাসা শিক্ষকের অনৈতিক সম্পর্ক, অবশেষে জনতার হাতে ধরা

আপডেট : ০৯:০৩:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

দুই বছর ধরে স্বামী প্রবাসী। আর স্ত্রীকে নিয়ে মত্ত্ব লিলায় মেতে উঠেছে মাদ্রাসা শিক্ষক। কখনো আবাসিক হোটেলে কখনো বাসা বাড়ীতে চলছে মেলা-মেশা। অবশেষে ধরা খেলো জনতার হাতে। এলাকাবাসি বিবাহ পড়ানোর কথা বললেও বিবাহতে রাজি নেই মাদরাসার শিক্ষক। তাই দেয়া হলো পুলিশে। এমনই এক চাঞ্চল্যকর নাটকের ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে।

প্রবাসে থাকা স্বামীর অগোচরে মাদ্রাসা শিক্ষকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছে প্রবাসির স্ত্রী রুপালী খাতুন। পরবর্তীতে বিয়েতে অসম্মতি জানানোকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে গতকাল পুরো এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনতার কাছে হাতেনাতে আটক হওয়ার পর অবশেষে উভয়ের ঠাঁই হয়েছে পুলিশ হেফাজতে।

আটককৃতদের প্রাথমিক স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার সেজিয়া নলবিলপাড়া গ্রামের রুপালী খাতুনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার বাসিন্দা ও মাদ্রাসা শিক্ষক হাবিবুল্লাহ।

রুপালীর স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফোনে তাদের যোগাযোগ শুরু হয়। দেখতে দেখতে সেই পরিচয় গড়ায় গভীর প্রেমে। গত দুই বছরে তারা একাধিকবার গোপনে দেখা করেন এবং উভয়ের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানা যায়।

গতকাল পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রেমিক হাবিবুল্লাহ ও রূপালী খাতুন দু’জন দুই প্রান্ত থেকে এসে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় মিলিত হন। সেখানে খাবার গ্রহণের একপর্যায়ে রূপালী খাতুন মাদ্রাসা শিক্ষক হাবিবুল্লাহকে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে পরিণতি দিয়ে দ্রুত বিয়ে করার তাগিদ দেন। তবে বিয়ের কথা উঠতেই সুর বদলে ফেলেন প্রেমিক হাবিবুল্লাহ। তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।

বিয়ে নিয়ে দু’জনের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা ও কথাকাটাকাটি। তাদের আচরণ, অস্বাভাবিক কথাবার্তা এবং উত্তেজনাপূর্ণ চালচলন রেস্তোরাঁয় উপস্থিত সাধারণ মানুষের নজরে আসে।

রেস্তোরাঁর ভেতরের পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় উৎসুক জনতা তাদের ঘিরে ফেলে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জনতার প্রশ্নের মুখে একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে তাদের পরকীয়া সম্পর্ক, প্রবাসে থাকা স্বামী এবং বিয়ের নামে প্রতারণার থলের বিড়াল।

প্রবাসীর স্ত্রীর এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং একজন মাদ্রাসা শিক্ষকের অনৈতিক লালসা ও প্রতারণার এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ ও ধিক্কার প্রকাশ করেছেন।