ঢাকা ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মতলব উত্তরে প্রেমিক যুগলকে জিম্মি করে, চাঁদা দাবির অভিযোগে মসজিদের ইমামসহ ৩জন গ্রেপ্তার

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১১:৫৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • 198

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে প্রেমিক যুগলকে পথরোধ করে জিম্মি, মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মসজিদের ইমামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া একটি ভিভো স্মার্টফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মতলব উত্তরের একটি মসজিদের সাবেক ইমাম মেজবাহ উদ্দিন (৩২), মো. গোলাম হাবিব সুজন (৩৫) ও স্বাস্থ্য সহকারী জিসান মাহমুদ (৩৮)।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে আব্দুল্লাহ আল মামুন তার প্রেমিকাকে নিয়ে ফরাজীকান্দি উয়েশিয়া দরবার শরীফ জিয়ারত শেষে ফেরার পথে দরবার শরীফের অতিথি ভবনের সামনে পৌঁছান। এ সময় মেজবাহ উদ্দিন, গোলাম হাবিব সুজন, জিসান মাহমুদ, আরিফুর রহমান, সোলেমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন তাদের পথরোধ করেন।

তাদের জোরপূর্বক মেজবাহ উদ্দিনের ফুফুর বাড়ি ফরাজীকান্দি শিকদার বাড়িতে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাদের মারধর করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন তার বিকাশ নম্বর থেকে গোলাম হাবিব সুজনের বিকাশ নম্বরে ৩১ হাজার টাকা পাঠান। বাকি ২০ হাজার টাকা দেওয়ার শর্তে তার ব্যবহৃত ভিভো স্মার্টফোনটি রেখে দেওয়া হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রেমিক যুগলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার পর অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে বাকি টাকা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীকে চাপ দিতে থাকেন। পরে নিরুপায় হয়ে তিনি মতলব উত্তর থানায় অভিযোগ করেন।

বিষয়টি চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে অবহিত করা হলে তার নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব, মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল হাসান এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলিমুল হক প্রধানের তত্ত্বাবধানে অভিযান চালানো হয়।

মতলব উত্তর থানার এসআই জীবন চৌধুরী, এএসআই রবিউল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেজবাহ উদ্দিন, গোলাম হাবিব সুজন ও জিসান মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

মতলব উত্তর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলিমুল হক প্রধান বলেন, প্রেমিক যুগলকে অবৈধভাবে আটক করে মারধর, ভয়ভীতি দেখানো এবং টাকা আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের হেফাজত থেকে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলার রুজু করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল গ্রেপ্তার

মতলব উত্তরে প্রেমিক যুগলকে জিম্মি করে, চাঁদা দাবির অভিযোগে মসজিদের ইমামসহ ৩জন গ্রেপ্তার

আপডেট : ১১:৫৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে প্রেমিক যুগলকে পথরোধ করে জিম্মি, মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মসজিদের ইমামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া একটি ভিভো স্মার্টফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মতলব উত্তরের একটি মসজিদের সাবেক ইমাম মেজবাহ উদ্দিন (৩২), মো. গোলাম হাবিব সুজন (৩৫) ও স্বাস্থ্য সহকারী জিসান মাহমুদ (৩৮)।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে আব্দুল্লাহ আল মামুন তার প্রেমিকাকে নিয়ে ফরাজীকান্দি উয়েশিয়া দরবার শরীফ জিয়ারত শেষে ফেরার পথে দরবার শরীফের অতিথি ভবনের সামনে পৌঁছান। এ সময় মেজবাহ উদ্দিন, গোলাম হাবিব সুজন, জিসান মাহমুদ, আরিফুর রহমান, সোলেমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন তাদের পথরোধ করেন।

তাদের জোরপূর্বক মেজবাহ উদ্দিনের ফুফুর বাড়ি ফরাজীকান্দি শিকদার বাড়িতে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাদের মারধর করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন তার বিকাশ নম্বর থেকে গোলাম হাবিব সুজনের বিকাশ নম্বরে ৩১ হাজার টাকা পাঠান। বাকি ২০ হাজার টাকা দেওয়ার শর্তে তার ব্যবহৃত ভিভো স্মার্টফোনটি রেখে দেওয়া হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রেমিক যুগলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার পর অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে বাকি টাকা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীকে চাপ দিতে থাকেন। পরে নিরুপায় হয়ে তিনি মতলব উত্তর থানায় অভিযোগ করেন।

বিষয়টি চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে অবহিত করা হলে তার নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব, মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল হাসান এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলিমুল হক প্রধানের তত্ত্বাবধানে অভিযান চালানো হয়।

মতলব উত্তর থানার এসআই জীবন চৌধুরী, এএসআই রবিউল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেজবাহ উদ্দিন, গোলাম হাবিব সুজন ও জিসান মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

মতলব উত্তর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলিমুল হক প্রধান বলেন, প্রেমিক যুগলকে অবৈধভাবে আটক করে মারধর, ভয়ভীতি দেখানো এবং টাকা আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের হেফাজত থেকে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলার রুজু করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।