ঢাকা ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদরাসার ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক আটক

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১২:০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • 202

অভিযুক্ত হুজুর মো. মোস্তাফিজুর রহমান— সংগৃহীত

গত ৯ দিন আগে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে (১০) ধর্ষণ করেছেন ‘বড় হুজুর’। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে সালিশ বসায় মাদ্রাসা কমিটি। বিকাল ৪টার দিকেও সালিশ শেষ হয় না। এমন ঘটনার খবরে উৎসুক জনতা ভিড় করেন মাদ্রাসায়। পরে সালিশ বৈঠক থেকে ‘বড় হুজুর’ মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করে পুলিশ। এছাড়াও ওই শিক্ষার্থী ও তার বাবাকে হেফাজতে নেয় তারা।

আজ বিকাল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের তালোয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোডিং থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকৃকত মো. মোস্তাফিজুর রহমান ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে।

এলাকাবাসী জানায়, গত ১২ জুলাই মাদ্রাসাটির অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল। সেদিন মাত্র পাঁচজন শিশু মাদ্রাসায় শুয়ে ছিল। এরপর সকাল ১১টার দিকে মাদ্রাসার বড় হুজুর মোস্তাফিজুর রহমান এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা সেদিন অন্য শিশুরাও দেখে ফেলে। ভয়ে তারা সেদিন ঘটনা কাউকে কিছু বলেনি। এরপর বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করলে বিষয়টি মাদ্রাসায় ছড়িয়ে পড়ে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ নিয়ে এক শিশুকে মারধর করে কাউকে কিছু না বলতে ভয়ভীতি দেখান শিক্ষক মোস্তাফিজ। মারধরের বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেলে ধর্ষণের ঘটনাটি সামনে চলে আসে। এরপর দুপুর ২টার দিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মাদ্রাসায় সালিশ বৈঠক বসায় মাদ্রাসা কমিটি। সালিশে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি ও এক বিএনপি নেতাসহ অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন। সালিশের বিষয়টি টের পেলে স্থানীয়রা মাদ্রাসায় ভিড় করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ উপস্থিত হয়।

পুলিশ আসার আগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বললেন, ‘১২ তারিখ সকালে ঘুমিয়ে ছিলাম। সে সময় হুজুর এসে আমার সাথে জিনা (ধর্ষণ) করেছে। তখন আমি চোখ খুললে হুজুর মাথায় হাত দিয়ে বলে মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ।’

ওই শিক্ষার্থী আরও বলেছেন, ‘স্বপ্ন দেখার কথা বলে হুজুর মোস্তাফিজুর রহমান ১০ থেকে ১২ দিন তাকে ধর্ষণ করেছেন।’

শিক্ষার্থীর বাবার মন্তব্য, ‘হুজুর একাধিকবার ছেলেকে ধর্ষণ করেছে। সেই খবর শুনে মাদ্রাসায় এসে দেখি সালিশ চলছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

সালিশ বসানোর কথা স্বীকার করে মাদ্রাসার সভাপতি মো. জু্লফিকার মাহমুদ বলছিলেন, ‘দুপুরে ঘটনাটি জানতে পেরে অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে সালিশ বৈঠক বসানো হয়েছে। এখনও বিষয়টি স্পষ্ট নয়। আগামীকাল (বুধবার) সকালে আরও বড় পরিসরে সালিশ বসানো হবে।’

এমন ঘটনায় সালিশ করা যায় কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সালিশে মীমাংসা করা যায়। আগে আমরা বসি। সমাধান না হলে পরে আইনের কাছে যাব।’

বিএনপি নেতা আব্দুল করিম স্পষ্ট করেন, ‘আমি মাদ্রাসার সহ-সভাপতি। সেজন্য খবর পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আগামীকাল (বুধবার) কমিটির সবাই মিলে আবার বসা হবে।

তবে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা মিথ্যা বলছে।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন জানালেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি আমাদের মোবাইল টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। মোবাইল টিম ভুক্তভোগী ও তার বাবা এবং অভিযুক্ত হজুরকে থানায় নিয়ে এসেছে। ​

এ সময় তিনি আরও বলেছেন, ‘ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন

মাদরাসার ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক আটক

আপডেট : ১২:০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

গত ৯ দিন আগে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে (১০) ধর্ষণ করেছেন ‘বড় হুজুর’। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে সালিশ বসায় মাদ্রাসা কমিটি। বিকাল ৪টার দিকেও সালিশ শেষ হয় না। এমন ঘটনার খবরে উৎসুক জনতা ভিড় করেন মাদ্রাসায়। পরে সালিশ বৈঠক থেকে ‘বড় হুজুর’ মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করে পুলিশ। এছাড়াও ওই শিক্ষার্থী ও তার বাবাকে হেফাজতে নেয় তারা।

আজ বিকাল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের তালোয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোডিং থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকৃকত মো. মোস্তাফিজুর রহমান ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে।

এলাকাবাসী জানায়, গত ১২ জুলাই মাদ্রাসাটির অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল। সেদিন মাত্র পাঁচজন শিশু মাদ্রাসায় শুয়ে ছিল। এরপর সকাল ১১টার দিকে মাদ্রাসার বড় হুজুর মোস্তাফিজুর রহমান এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা সেদিন অন্য শিশুরাও দেখে ফেলে। ভয়ে তারা সেদিন ঘটনা কাউকে কিছু বলেনি। এরপর বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করলে বিষয়টি মাদ্রাসায় ছড়িয়ে পড়ে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ নিয়ে এক শিশুকে মারধর করে কাউকে কিছু না বলতে ভয়ভীতি দেখান শিক্ষক মোস্তাফিজ। মারধরের বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেলে ধর্ষণের ঘটনাটি সামনে চলে আসে। এরপর দুপুর ২টার দিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মাদ্রাসায় সালিশ বৈঠক বসায় মাদ্রাসা কমিটি। সালিশে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি ও এক বিএনপি নেতাসহ অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন। সালিশের বিষয়টি টের পেলে স্থানীয়রা মাদ্রাসায় ভিড় করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ উপস্থিত হয়।

পুলিশ আসার আগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বললেন, ‘১২ তারিখ সকালে ঘুমিয়ে ছিলাম। সে সময় হুজুর এসে আমার সাথে জিনা (ধর্ষণ) করেছে। তখন আমি চোখ খুললে হুজুর মাথায় হাত দিয়ে বলে মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ।’

ওই শিক্ষার্থী আরও বলেছেন, ‘স্বপ্ন দেখার কথা বলে হুজুর মোস্তাফিজুর রহমান ১০ থেকে ১২ দিন তাকে ধর্ষণ করেছেন।’

শিক্ষার্থীর বাবার মন্তব্য, ‘হুজুর একাধিকবার ছেলেকে ধর্ষণ করেছে। সেই খবর শুনে মাদ্রাসায় এসে দেখি সালিশ চলছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

সালিশ বসানোর কথা স্বীকার করে মাদ্রাসার সভাপতি মো. জু্লফিকার মাহমুদ বলছিলেন, ‘দুপুরে ঘটনাটি জানতে পেরে অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে সালিশ বৈঠক বসানো হয়েছে। এখনও বিষয়টি স্পষ্ট নয়। আগামীকাল (বুধবার) সকালে আরও বড় পরিসরে সালিশ বসানো হবে।’

এমন ঘটনায় সালিশ করা যায় কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সালিশে মীমাংসা করা যায়। আগে আমরা বসি। সমাধান না হলে পরে আইনের কাছে যাব।’

বিএনপি নেতা আব্দুল করিম স্পষ্ট করেন, ‘আমি মাদ্রাসার সহ-সভাপতি। সেজন্য খবর পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আগামীকাল (বুধবার) কমিটির সবাই মিলে আবার বসা হবে।

তবে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা মিথ্যা বলছে।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন জানালেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি আমাদের মোবাইল টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। মোবাইল টিম ভুক্তভোগী ও তার বাবা এবং অভিযুক্ত হজুরকে থানায় নিয়ে এসেছে। ​

এ সময় তিনি আরও বলেছেন, ‘ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’