হাজীগঞ্জে বসতঘরে হামলা, ভাংচুর ও মারধরে বৃদ্ধাসহ দুই নারী আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় রোববার (২৩ মার্চ) থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী আসমা আক্তার (৩০)। তিনি উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের হাজী বাড়ির আব্দুর রহমানের স্ত্রী।
এর আগে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই নারীর বসতঘরে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগে একই বাড়ির মৃত আবু বকরের ছেলে ইমান হোসেন (১৮) ও মনির হোসেন (২০) এবং মৃত আবু বকরের স্ত্রী অজুফা বেগমকে বিবাদী করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাদী আসমা আক্তার ও বৃদ্ধা রশিদা বেগমের বিরুদ্ধে পাশর্^বর্তী ঘরের আলামিনের স্ত্রী তাছলিমাকে শলা-পরামর্শ দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ এনে শনিবার দিবাগত রাতে বিবাদী ইমান হোসেন, মনির হোসেন ও তাদের মা অজুফা বেগম অশ্লিষ ভাষায় গালমন্দ করেন।
এরপর দরজা ভাংচুর করে আসমা বেগমের বসতঘরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে তাকেসহ বৃদ্ধা রশিদা বেগমকে মারধর করেন বিবাদীরা। পরে তারা হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর আগেও একাধিকবার বসতঘরে হামলা ও তাদেরকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
আহত বৃদ্ধা রশিদা বেগম জানান, তাদের (বিবাদী) সাথে আমাদের কোন বিরোধ নেই। তারপরও তারা গায়ে পড়ে আমাদের সাথে ঝগড়া-বিবাদ করে আসছে। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে এ পর্যন্ত তারা পাঁছবার আমাদেরকে মারধর করেছে। বিষয়টি আমরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েছি।
তিনি বলেন, আমার স্বামী মারা গেছে, ছেলে বিদেশে (প্রবাসে)। পুরুষ বলতে আমাদের ঘরে কেউ নেই। অথচ অজুফা বেগম তিনি ও তার ছেলেদের নিয়ে আমাদের উপর বার বার হামলা ও মারধর করে যাচ্ছে। তাই, বাধ্য হয়ে নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচার চেয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
এদিকে ওই বাড়িতে অভিযুক্ত ইমান হোসেনকে না পাওয়া তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মনির হোসেন জানান, ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। তবে এরা কেউ কারো কথা শুনে না।
অপর বিবাদী অজুফা বেগম তাকে উল্টো মারধর করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার জালের সাথে একটু ঝড়গা হলেই তিনি উল্টা-পাল্টা কথা-বার্তা বলেন।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।