কচুয়া উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার মেজবাহ উদ্দিন (জসিম ) এর ভয়ংকর জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। রেজিস্ট্রার মেজবাহ উদ্দিন জসিম বিরুদ্ধে একাধিক জন্ম তারিখ ব্যবহার করে তৎকালীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য সুপারিশ ক্রমে ও প্রভাব বিস্তার করে নিয়োগ জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে প্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্সটি করার অভিযোগ উঠে। এছাড়াও মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অর্থের বিনিময়ে জালিয়াতি করা সার্টিফিকেট আলিম করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) লাইসেন্স বানিয়ে নিয়েছেন তিনি। তিনি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন।তার বিরুদ্ধে অসংখ্য বাল্যবিবাহ, ভুয়া কাবিননামা, অতিরিক্ত টাকা আদায় নানান অভিযোগ রয়েছে । রেজিস্ট্রার নিকাহ্ কাজী মেজবাহ উদ্দিন জসিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওই ইউনিয়নের বড় তুলাগাঁও আব্দুল গফুর বাদী হয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট অফিসে বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে আব্দুল গফুর উল্লেখ করে বলেন, আমাদের এলাকার বর্তমান লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী মো. মেজবাহ উদ্দিন সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থা ও অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর লাইসেন্সটি অর্জন করেছেন। তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংঘটিত অনিয়ম ও সুস্পষ্ট জালিয়াতির মাধ্যমে। প্যানেল বাতিল: বিচার-৭/২-এর-১৯৯/৭৬ (অংশ-০১) ৩০১, স্মারক নম্বর: নিকাহ ১০-২৮৫ (তারিখ: ১৭-০৮-২০১০ খ্রি.) অনুযায়ী প্রেরিত প্যানেলের ২ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ আসে। উক্ত অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তখন প্যানেলটি বাতিল ঘোষণা করেছিল। প্যানেল বাতিল হওয়া সত্ত্বেও, তৎকালীন সরকারের আমলে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) ডি.ও. লেটার সংগ্রহ করে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে তা মন্ত্রণালয়ে জমা দেন।
জন্মতারিখ জালিয়াতি: মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাইয়ের সময় তাঁর একাধিক জন্মতারিখ ব্যবহারের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় এবং এ কারণে তাঁকে প্রাথমিকভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি তথ্য গোপন করে অবৈধভাবে এই লাইসেন্সটি হাতিয়ে নেন। অভিযোগগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত সাপেক্ষে কাজী মো. মেজবাহ উদ্দিনের অবৈধভাবে প্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্সটি অনতিবিলম্বে বাতিল করার প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।
স্থানীয়রা জানান, নিকাহ রেজিস্ট্রার মেজবাহ উদ্দিন গোহট উত্তর ইউনিয়নসহ আশপাশের ইউনিয়ন যতগুলো বাল্যবিয়ে সংঘটিত হয়েছে তার বেশিরভাগ কাবিন রেজিস্ট্রি করেছেন। মেজবাহ উদ্দিন বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে নকল রেজিস্ট্রার বই ব্যবহার করে বাল্যবিয়ে রেজিস্ট্রি করেন। পরে কেউ কাবিননামা চাইলে তা দিতে অস্বীকার করেন। এ ছাড়া রেজিস্ট্রারের বিভিন্ন জায়গায় বর ও কনের জন্মের তারিখ লিপিবদ্ধ করা হয় না। এমনকি বিবাহ পড়ানো ব্যক্তি, সাক্ষী, কনে ও কাজির সইও থাকে না। বেআইনি প্রক্রিয়ায় অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের জন্য এসব অভিনব কৌশল অবলম্বন করা হয়। রেজিস্ট্রার মেজবাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আরো একাধিক জালিয়তির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত রেজিস্ট্রার মেজবাহ উদ্দিন জসিম জানান, আমি লাইসেন্সের জন্য তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আমলে সাবেক সংসদ সদস্য ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীর ডিও লেটার নিয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের দ্বারস্থ হয়েছি, এটা সত্য। জন্ম সনদ বয়সের জালিয়াতের বিষয়টি সঠিক উত্তর দিতে পারেন না তিনি।



























