চাঁদপুরের কচুয়ায় ভালোবেসে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করার পর এক তরুণীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানা গেছে, উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের মনপুরা উত্তর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা রাব্বি আহমেদের সঙ্গে প্রায় সাত মাস আগে বিয়ে হয় রিয়ার। রাব্বি ওই গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে। ভালোবাসার টানে নিজের ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণের পর তাঁরা আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন বলে জানা গেছে।

রিয়ার অভিযোগ, বিয়ের পর প্রথম দিকে স্বামীর পরিবার তাঁদের মেনে নিলেও রাব্বি জীবিকার প্রয়োজনে প্রবাসে যাওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। এ সময় তাঁর শাশুড়ি ও চাচাশ্বশুর হাফেজ আল আমিন তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন। এমনকি তাঁকে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁর বাবা-মাকেও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রিয়ার দাবি, একপর্যায়ে তাঁকে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্থানীয় এক যুবদল নেতার বাড়িতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গ্রামের কয়েকজন সালিশকারীর উপস্থিতিতে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময়ের একটি ভিডিও ধারণ করা হয়, যা পরে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

রিয়া বলেন, “আমি নিজের ধর্ম ত্যাগ করে রাব্বিকে ভালোবেসে ইসলাম গ্রহণ করি এবং আদালতের মাধ্যমে তাঁকে বিয়ে করি। বিয়ের পর আমরা একসঙ্গে সংসার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু রাব্বি প্রবাসে যাওয়ার পর আমার শাশুড়ি ও চাচাশ্বশুর আমার ওপর নির্যাতন শুরু করেন। আমার বাবা-মাকেও হুমকি দেওয়া হয়। আমি স্বামীর সংসার করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তাঁদের কারণে তা আর হলো না। এখন আমি কোথায় যাব, কার কাছে থাকব?”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুই লাখ টাকা কাবিনের খরচ দেওয়ার কথা বলে তাঁকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। তবে এ অর্থ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং স্বাক্ষর নেওয়ার সময় কী ধরনের সমঝোতা হয়েছিল, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, রিয়া ও রাব্বি আহমেদের বিয়ের পর পারিবারিক বিরোধের সূত্র ধরে তাঁকে বিবাহবিচ্ছেদে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

























