• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর, ২০২১
সর্বশেষ আপডেট : ২৯ নভেম্বর, ২০২১

ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ১টিতে নৌকার জয়

অনলাইন ডেস্ক
[sharethis-inline-buttons]

সুজিত দত্ত, ফরিদপুর প্রতিনিধ:

ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৪টিতে নৌকার প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। মাত্র একটি ইউনিয়নে নৌকা জয়ী হয়েছে।

আওয়ামী লীগের এলাকা হিসেবে পরিচিত ফরিদপুর-৪ আসনে এমন পরাজয়ের বিষয়ে দলের তৃণমূল থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন না দেওয়া পরাজয়ের কারণ হিসেবে দেখছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে দলের পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর ভূমিকা বেশি থাকে।

রোববার (২৮ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণ শেষে গণনার পর ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিমউদ্দিন খান জানান, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনৈতিক দল তাদের দলীয় প্রার্থী দেয়। এ ছাড়া অন্যরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়।

ফরিদপুর জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, যে কোনো সময়ের চেয়ে এই নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। দুই উপজেলায় গড়ে ৭৪ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। কোথাও সমস্যা হয়নি। নির্বাচন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরলস চেষ্টায় শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ করা সম্ভব হয়।

ভাঙ্গা উপজেলার ১২ ইউপিতে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা হলেন— কাউলিবেড়া ইউনিয়নে রেজাউল হাসনাত দুদু, আলগী ইউনিয়নে ম. ম. ছিদ্দিক মিয়া, তুজারপুর ইউনিয়নে ওলিউর রহমান, কালামৃধা ইউনিয়নে রেজাউল মাতুব্বর, আজিমনগর ইউনিয়নে শাহজাহান হাওলাদার, মানিকদাহ ইউনিয়নে সহিদুল ইসলাম বাচ্চু, হামিদনগর ইউনিয়নে খোকন মিয়া, ঘারুয়া ইউনিয়নে মনসুর আহম্মেদ মুন্সি, চুমুরদী ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম সোহাগ, নাসিরাবাদ ইউনিয়নে আলমগীর হোসেন, নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নে শাহবুর রহমান ও চান্দ্রা ইউনিয়নে খালেক মোল্লা।

ভাঙ্গা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের একটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বাকি ১১টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে ৮টি বর্তমান এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন সমর্থিত এবং ২টিতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী চেয়ারম্যান হয়েছেন।

চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নে ইয়াকুব আলী, সদর ইউপিতে আজাদ খান এবং চরহরিরামপুরে জাহাঙ্গীর কবির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, এ উপজেলায় দুটিতে বিএনপি সমর্থিত এবং একটিতে বর্তমান এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

‘নৌকার ঘাঁটিতে’ ভরাডুবির কারণ নিয়ে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে স্থানীয়দের মধ্যে চলছে নানা বিশ্লেষণ। আলোচনায় আসছে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী না দেওয়া, স্থানীয় এমপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া, দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিষ্ক্রিয়তা ইত্যাদি বিষয়।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নৌকা বিরোধী প্রচারণাও ভরাডুবির কারণ হিসেবে দেখছেন দলটির একাধিক নেতা।

ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন ইস্কান্দার আলী খলিফা। তিনি দলের বিদ্রোহী প্রার্থী (এমপি সমর্থিত) রেজাউল মাতুব্বরের কাছে পরাজিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীকের এই পরাজিত প্রার্থী বলেন, ‘বর্তমান এমপি সাহেবের লোকজন সুকৌশলে আমাকে ডুবিয়েছে।’

একই উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন আবুল কালাম আজাদ। এই ইউনিয়নে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী (এমপি সমর্থিত) মো. শাহজাহান হাওলাদার জয়ী হয়েছেন। পরাজয়ের কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘‘ভোটে নৌকা জয়ী হোক তা ‘বড় জনপ্রতিনিধি’ চান না। প্রচুর টাকার ছড়াছড়ি হয়েছে। প্রার্থী হিসেবে হয়ত আমাদেরও কিছু দুর্বলতা ছিলো। নৌকার এমন পরাজয় মানতে পারছি না।’

চরভদ্রাসন উপজেলা সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন খোকন মোল্লা। তিনি ভোটে তৃতীয় হয়েছেন। এখানে জয় পেয়েছেন (এমপি সমর্থিত) আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী আজাদ খান। দ্বিতীয় হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী খোকন মোল্লা বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে এখন মুখ খুলতে চাচ্ছি না। বিচার চাইবো আল্লাহর কাছে। তবে নৌকাকে হারানো জন্য বিএনপি-জামায়াতসহ আওয়ামী লীগ বিরোধীরা এক হয়ে কাজ করেছেন।’

নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের এমন ভরাডুবির বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ভাঙ্গা উপজেলার নাম সর্বজন স্বীকৃত। এরপরও ২০১৪ সালের পর থেকে ভাঙ্গায় জাতীয় নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের একের পর এক ভরাডুবি হচ্ছে।’

ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন ২০১৪ সালে প্রথম নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে আওয়ামী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয় বলে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসীরা মনে করেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেন, আওয়ামী লীগের এই সময়ে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা অতীতে কখনও হয়নি। তবে কেন নৌকার পরাজয় হবে?

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অযোগ্য ব্যক্তিদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় হয়ত এমন রেজাল্ট হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এলাকার গ্রহণযোগ্য এবং মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে বেছে নিতে না পারায় এমন ফল।

দলের প্রার্থীদের এমন ভরাডুবির বিষয়ে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের প্রভাবের চেয়ে প্রার্থীর স্থানীয় প্রভাবটাই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘হয়ত আমাদেরও দুর্বলতা ছিলো। বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারিনি। বিদ্রোহীদের পেছনে পাওয়ার ফুল লোক থাকায় আমাদের প্রার্থীদের রেজাল্ট এমন হয়েছে।’

এই দুটি উপজেলা ফরিদপুর-৪ আসনের অন্তর্গত। এই আসনের বর্তমান এমপি যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। এ ছাড়া এই আসনের সাবেক এমপি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্ল্যাহ।

২০১৪ সাল থেকে এই আসনে আওয়ামী লীগ দুই ধারা বিদ্যমান। একটি নিক্সন গ্রুপ, অপরটি কাজী জাফরউল্ল্যাহ গ্রুপ। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্ল্যাহর অনুসারীরা। এমপি নিক্সন গ্রুপের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন।

Sharing is caring!

[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন

  • সারা দেশ এর আরও খবর