মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত হাজীগঞ্জ বাজারস্থ ১৩টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ১১টি হাসপাতালে মোট ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় এবং এইচজি হেলথ কেয়ার, সেন্ট্রাল হসপিটালের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ।

জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, জেনারেল হাসপাতাল, মিডওয়ে হাসপাতাল, এইচ.জে হেলথ কেয়ার, মুন হাসপাতাল, রয়েল হাসপাতাল, একুশে ডিজিটাল হাসপাতাল ও ডায়াগণস্টিক সেন্টার, শাহমিরান হসপিটাল এন্ড ডায়াগণস্টিক সেন্টার, শাহজাহান মেমোরিয়াল এন্ড ট্রমা সেন্টার, হাজীগঞ্জ সেন্ট্রাল হাসপাতাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগণস্টিক ল্যাব, আরিয়ানা মেডিকেল সেন্টার ও হাজীগঞ্জ কমপ্যাথ।
জানা গেছে, নিবন্ধন না থাকা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, মেডিসিন কিটের নিম্নমান, প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেবিকা (নার্স) না থাকা, মেডিসিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক না থাকা, রেজিস্ট্রার ও সেবার মূল্য মান সঠিকভাবে না থাকাসহ অন্যান্য কারণ সমূহের জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী ১৩টি হাসপাতাল ও ডায়াগণস্টিক সেন্টারের মধ্যে উল্লেখিত ১১টি প্রতিষ্ঠানে জরিমানা করা হয়।
এদিন হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী (ইউএনও) কর্মকর্তা তাপস শীল। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো. গোলাম মাওলা নঈম, মো. জসিম উদ্দিন ও হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোপি নাথ, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) কুমার দাশসহ সঙ্গীয় ফোর্স ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৬টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে হাজীগঞ্জ সেন্ট্রাল হাসপাতাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগণস্টিক ল্যাবে ১ লাখ, শাহমিরান হসপিটাল এন্ড ডায়াগণস্টিক সেন্টারে ২০ হাজার, শাহজাহান মেমোরিয়াল এন্ড ট্রমা সেন্টারে ১০ হাজার, আরিয়ানা মেডিকেল সেন্টারে ৩০ হাজার ও হাজীগঞ্জ কমপ্যাথে ১০ হাজার টাকা নগদ জরিমানা আরোপ ও আদায় করেন। এসময় বিসমিল্লাহ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগণস্টিক সেন্টারের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পরিবেশ পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন থাকায় কোন জরিমানা করা হয়নি।
একই সময়ে পশ্চিম বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান মানিক। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন) ডাঃ মো. আবু সাঈদ মোস্তফা, উপজেলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টর মো. শামছুল ইসলাম রমিজ, হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজিম উদ্দিন ও শামীমা আক্তারসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জেনারেল হাসপাতালে ১ লাখ, মিডওয়ে হাসপাতালে ৩৫ হাজার, এইচ.জে হেলথ কেয়ারে ১ লাখ, মুন হাসপাতালে ৫০ হাজার, রয়েল হাসপাতালে ৫০ হাজার, একুশে ডিজিটাল হাসপাতাল ও ডায়াগণস্টিক সেন্টারে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করেন। এ সময় এইচ.জে হেলথ কেয়ার সিলগালা করা হয় এবং সূর্যের হাসি ক্লিনিকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পরিবেশ পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন থাকায় কোন জরিমানা করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা সব ধরনের অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগস্টিক সেন্টারসহ অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
ওই সময়ে তিনি বলেন, দেশের অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিতে আমাদের অভিযান শিগগিরই শুরু করা হবে। এর মধ্যেই অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর মালিকেরা নিজেরাই যদি বন্ধ করে দেয় তাহলে ভালো, নাহলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’ সেই নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করছে উপজেলা প্রশাসন।
























