বিশেষ প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে আদালত কর্তৃক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীর বাজেয়াপ্তকৃত এবং সরকারি দখলে থাকা সম্পত্তিতে (ভূমি) পুনরায় নতুন করে সীমানা পিলার ও সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন এবং ওই সম্পত্তিতে সহসাই কাঁটা তারের বেড়া দেয়া হবে জানান উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদি হাছান মানিক।
এর আগে ২০১৪ সালে স্থাপনকৃত সীমানা পিলার ও সাইনবোর্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলামের নির্দেশনায় নতুন করে এই সীমানা পিলারা স্থাপন ও বাঁশের খুঁটিতে সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়।
বুধবার দুপুরে উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামের উকিল বাড়িতে উপস্থিত হয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান মানিক পুনরায় সীমানা পিলার ও সাইনবোর্ড স্থাপন করেন।
জানা গেছে, ২০১২ সালের ৩ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৪৪.০০.০০০০.০৭৪.০৬.০৫৫.০৯-৭৮৩ ও ৪৪.০০.০০০০.০৭৪.০৬.০৫৫.০৯-৭৮৪ স্মারক এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মোকাদ্দমা নং ২২/২০১৩-২০১৪ আদেশমূলে ওই ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী মৌজার সাবেক ২৪৬, হাল ৯৭ দাগে রাশেদ চৌধুরীর মোট ১১৫ শতাংশ ভূমি সরকার ১নং খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে।
এর মধ্যে ১১৭২ দাগে ২৮ শতাংশ, ৩৯৩ দাগে ১২ শতাংশ ও ১৪১ দাগে ৭৫ শতাংশ খাস খতিয়ানভুক্ত করা হয়। এরপর ২০১৪ সালে উপজেলা প্রশাসন লে. কর্ণেল রাশেদ চৌধুরীর ওই সম্পত্তি সরকারি দখলে নিয়ে সীমানা পিলার স্থাপন ও সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দেয়।
পরবর্তী সীমানা পিলার ও সাইনবোর্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপেজলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বুধবার (৩১ আগস্ট) নতুন করে সীমানা পিলার স্থাপন ও সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়।
রাশেদ চৌধুরীর হাতে হত্যার শিকার স্থানীয় প্রভাবশালী বীরমুক্তিযোদ্ধা তৈয়ব আলী মাস্টারের ছেলে আহসান হাবিব সাংবাদিকদের জানান, লে. কর্ণেল রাশেদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পূর্বে ১৯৭৪ সালে আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করে ফেনিতে তার মৃত্যুদেহ ফেলে রাখে। ৪ দিন পর আমরা সেই মৃত্যুদেহের সন্ধান পায়। সে মামলা করলে সে জেল হাজতে যায়। পরবর্তীতে ৩ মাসের অন্তবর্তীকালীণ জামিনে এসে বঙ্গবন্ধু ও তার স্ব-পরিবারের মিশনে হত্যাকা-ে অংশগ্রহণ করেন।
লে. কর্ণেল রাশেদরা ৮ ভাই ও এক বোন বলে জানান স্থানীয়রা।
এ সময় উপেজলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কানুনগো মোহাম্মদ লোকমান হোসেন, সার্ভেয়ার মো. কাজল মিয়া, নাজির মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল, বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. শুক্কুর মোল্লা টিটুসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।