ঢাকা ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হাইমচরে পানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাঁসি

  • আপডেট: ০১:২৬:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চাঁদপুর (১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯)

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা পান ও সুপারি চাষে বহুদিনের খ্যাতি। উপজেলার অধিকাংশ মানুষ মৎস্য ও কৃষির উপর নির্ভরশীল। তবে এখন শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই চাকুরী এবং ব্যবসা করছেন সুনামের সাথে। উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন অনেকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে মেঘনার ভাঙন থেকে রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করায় জমির মূল্য বেড়েছে কয়েকগুন। এবছর আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকার কারণে পুরো উপজেলায় সকল পানের বোরজের অবস্থা ভাল। গত কয়েকমাস পান বিক্রি করে মূল্য পাচ্ছেন মোটামোটি ভাল। তাই কৃষক ও শ্রমিক সকলের মুখেই হাঁসি ফুটেছে।

সম্প্রতি হাইমচর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের পানের বোরজ ঘুরে এসব চিত্র পাওয়াগেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, উপজেলায় ২১৭ হেক্টর জমিতে পান এবং ৩১০ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ হয়। এই পান-সুপারি চাষের সঙ্গে প্রায় ৯শতাধিক কৃষক জড়িত রয়েছেন। এই দুই ফসল থেকে বছরে একজন কৃষক কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করেন। উপজেলার কৃষকরা পান ও সুপারি চাষ করেই পরিবারের খরচ জোগান। হাইমচরের পান ও সুপারি উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলায় বিক্রি হয়। পান ও সুপারি এখন এ উপজেলার ঐতিহ্য।

উপজেলার আলগী উত্তর ইউনিয়নের মহজমপুর, ছোট লক্ষ্মীপুর ও আশপাশের গ্রামের একাধিক কৃষকের সাথে আলাপ করে জানাগেছে, বর্তমান মৌসুমে পান বেশি বিক্রি হয়। সপ্তাহে দুই বার তারা বোরজ থেকে পান কেটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেন। অধিকাংশ কৃষকই পাশবর্তী ফরিদগঞ্জ উপজেলার রামপুর বাজারে পান বিক্রি করতে নিয়ে যান। ভোর রাত ৪টা থেকে সূর্যোদয়ের আগেই ওই বাজারে বেচা বিক্রি শেষ হয়ে যায়। এই কারণে পান বিক্রির জন্য একদিন পূর্বে থেকে প্রস্তুতি নিতে হয়। এ বছর সকল পানচাষীই পান বিক্রি করে লাভমান।

সদর উপজেলার মহামায় এলাকার পানের ব্যবসায়ী জমির হোসেন বলেন, পানের মৌসুম এলে তিনি হাইমচরে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পান ক্রয় করে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন। এতে করে তার প্রতি ভিড়ায় ১০ থেকে ২০ টাকা লাভ হয়। আর আড়ৎ থেকে ক্রয় করলে লাভ করা যায় না। তিনি আরো বলেন, পান ক্রয়-বিক্রয়ে মূল্য কয়েকভাবে নির্ধারণ হয়। কেউ পাইকারী, কেউ খুচরা এবং কেউ পানের খিলি বিক্রি করেন। যিনি খিলি বিক্রি করেন তার এক ভিড়া পানের মূল্য দাঁড়া কমপক্ষে ৩শ’ টাকা।

পান চাষী মোস্তফা ও মো. জসিম মিয়া বলেন, এবছর আমরা এক ভিড়া পান ৮০ থেকে শুরু করে ১১০টাকায় বিক্রি করছি। অন্য বছরের তুলনায় পানের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। বোরজ থেকে পান কেটে অধিকাংশ কৃষকই রামপুর বাজারে পাইকারী বিক্রি করেন। আবার বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু ব্যবসায়ী আমাদের কাছ থেকে এসে ১শ’ ২শ’ ভিড়া পান পাইকারী দরে ক্রয় করে নিয়ে যান। তারা আবার এসব পান বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

হাইমচরে পানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাঁসি

আপডেট: ০১:২৬:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চাঁদপুর (১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯)

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা পান ও সুপারি চাষে বহুদিনের খ্যাতি। উপজেলার অধিকাংশ মানুষ মৎস্য ও কৃষির উপর নির্ভরশীল। তবে এখন শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই চাকুরী এবং ব্যবসা করছেন সুনামের সাথে। উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন অনেকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে মেঘনার ভাঙন থেকে রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করায় জমির মূল্য বেড়েছে কয়েকগুন। এবছর আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকার কারণে পুরো উপজেলায় সকল পানের বোরজের অবস্থা ভাল। গত কয়েকমাস পান বিক্রি করে মূল্য পাচ্ছেন মোটামোটি ভাল। তাই কৃষক ও শ্রমিক সকলের মুখেই হাঁসি ফুটেছে।

সম্প্রতি হাইমচর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের পানের বোরজ ঘুরে এসব চিত্র পাওয়াগেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, উপজেলায় ২১৭ হেক্টর জমিতে পান এবং ৩১০ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ হয়। এই পান-সুপারি চাষের সঙ্গে প্রায় ৯শতাধিক কৃষক জড়িত রয়েছেন। এই দুই ফসল থেকে বছরে একজন কৃষক কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করেন। উপজেলার কৃষকরা পান ও সুপারি চাষ করেই পরিবারের খরচ জোগান। হাইমচরের পান ও সুপারি উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলায় বিক্রি হয়। পান ও সুপারি এখন এ উপজেলার ঐতিহ্য।

উপজেলার আলগী উত্তর ইউনিয়নের মহজমপুর, ছোট লক্ষ্মীপুর ও আশপাশের গ্রামের একাধিক কৃষকের সাথে আলাপ করে জানাগেছে, বর্তমান মৌসুমে পান বেশি বিক্রি হয়। সপ্তাহে দুই বার তারা বোরজ থেকে পান কেটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেন। অধিকাংশ কৃষকই পাশবর্তী ফরিদগঞ্জ উপজেলার রামপুর বাজারে পান বিক্রি করতে নিয়ে যান। ভোর রাত ৪টা থেকে সূর্যোদয়ের আগেই ওই বাজারে বেচা বিক্রি শেষ হয়ে যায়। এই কারণে পান বিক্রির জন্য একদিন পূর্বে থেকে প্রস্তুতি নিতে হয়। এ বছর সকল পানচাষীই পান বিক্রি করে লাভমান।

সদর উপজেলার মহামায় এলাকার পানের ব্যবসায়ী জমির হোসেন বলেন, পানের মৌসুম এলে তিনি হাইমচরে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পান ক্রয় করে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন। এতে করে তার প্রতি ভিড়ায় ১০ থেকে ২০ টাকা লাভ হয়। আর আড়ৎ থেকে ক্রয় করলে লাভ করা যায় না। তিনি আরো বলেন, পান ক্রয়-বিক্রয়ে মূল্য কয়েকভাবে নির্ধারণ হয়। কেউ পাইকারী, কেউ খুচরা এবং কেউ পানের খিলি বিক্রি করেন। যিনি খিলি বিক্রি করেন তার এক ভিড়া পানের মূল্য দাঁড়া কমপক্ষে ৩শ’ টাকা।

পান চাষী মোস্তফা ও মো. জসিম মিয়া বলেন, এবছর আমরা এক ভিড়া পান ৮০ থেকে শুরু করে ১১০টাকায় বিক্রি করছি। অন্য বছরের তুলনায় পানের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। বোরজ থেকে পান কেটে অধিকাংশ কৃষকই রামপুর বাজারে পাইকারী বিক্রি করেন। আবার বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু ব্যবসায়ী আমাদের কাছ থেকে এসে ১শ’ ২শ’ ভিড়া পান পাইকারী দরে ক্রয় করে নিয়ে যান। তারা আবার এসব পান বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন।