ঢাকা ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী রাশেদ চৌধুরী ফাঁসির রায় কার্যকরের মাধ্যমে দায় মুক্তি চায় এলাকাবাসী

  • আপডেট: ০৪:৫৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অগাস্ট ২০১৯

মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ,
ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনীদের অন্যতম বহিস্কৃত লে. কর্ণেল রাশেদ চৌধুরীর জন্ম ও বেড়ে উঠেছিলেন পৈত্রিক বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। ছাত্র জীবনে ভালো থাকলেও বদলে গেছেন চাকুরী জীবনে, হয়ে উঠেছিলো ঘৃন্য হত্যাকারী। জাতির জনককে হত্যার আগে ১৯৭৪ সালের সোনাইমুড়ি গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে দ্বন্ধের সূত্র ধরে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে ফেনীতে হত্যা করেন স্কুল শিক্ষক আব্দুল লতিফ মাষ্টারকে। এই খুনিকে দেশে ফিরিয়ে এনে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামালার ফাঁসির রায় কার্যকর করলে হাজীগঞ্জবাসী দায় মুক্তি পাবে একই সাথে আবদুল লতিফ মাষ্টারের বিচার পাবেন বলে জানান স্থানীয়রা।
চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং পূর্ব বড়কূল ইউনিয়নের সোনাইমুড়ি গ্রামের তৎকালীন মুসলীম লীগ নেতা মরহুম শিহাব উদ্দিনের ছেলে রাশেদ চৌধুরী। নামের শেষে চৌধুরী ব্যবহার করা হলেও স্থানীয়রা এখনো রাশেদ চৌধুরীর পৈত্রিকবাড়িকে উকিল বাড়ি হিসেবে চিনে থাকে। ৮ভাই এক বোনের মধ্যে রাশেদ ৪র্থ। তবে এলাকাবাসীর দেখা রাশেদ ছাত্র জীবনে আচার আচরণ ভালো ছিল। কিন্তু চাকুরী জীবনে গিয়ে বদলে গেছেন রাশেদ। ওই বদলে যাওয়া রাশেদ চৌধুরীর ফাঁসির রায় বাস্তবায়ন চায় এলাকাবাসী।

রাশেদ চৌধুরীর বাবা মরহুম শিহাবউদ্দিন স্বাথীনতা যুদ্ধের ছিলেন শান্তি কমিটির সদস্য। এই শিহাবউদ্দিনের সাথে মুক্তিযুদ্ধের স্থানীয় ইউনিয়ন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক ও তৎকালীন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আঃ লতিফ মাস্টারের সাথে সোনাইমুড়ি গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে বিরোধ ছিল। তার জের ধরে রাশেদ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কিছুদিন আগে ১৯৭৪ সালে এ স্কুল শিক্ষককে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে ফেনীর ছাগলনাইয়া ব্রিজের নিচে ফেলে দেয়। সেই হত্যকান্ডের আজো বিচার পায়নি আঃ লতিফ মাষ্টারের পরিবারের সদস্যরা।

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বঙ্গবন্ধুর খুব রাশেদ চৌধুরীরর বিচার দেখে যেতে চান লতিফ মাস্টারের স্ত্রী কুদছিয়া বেগম। তিনি বলেন, শেখ মুজিবের হত্যার রায় বাস্তবায়ন হলেই আমি ধরে নেব স্বামী হত্যার বিচার পেয়েছি।

জাতির জনককে হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামী রাশেদ চৌধুরীর বাড়ি এই হাজীগঞ্জের সোনাইমুড়ি গ্রামে। আদালতের নির্দেশে ২০১৪ সাল থেকে তার স্থাবর-অস্থবর সম্পত্তি খাস খতিয়ানে নিয়ে আসা হয়েছে। যার বর্তমান মালিক জেলা প্রশাসক। ওই সম্পত্তিতে সরকারি যে সাইনবোর্ড ছিলো তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে নতুন করে সাইনবোর্ড তৈরী করা হচ্ছে বলে জানালেন সহকারি কমিশনার (ভ’মি) জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী।

২৮ এপ্রিল ২০১৪ সালে পলাতক খুনি হিসেবে আদালতের নির্দেশে হাজীগঞ্জের সোনাইমুড়ি মৌজার উত্তারিকারসূত্রে প্রাপ্ত শুধু মাত্র রাশেদ চৌধুরীর ১ একর ১৫ শতক জমি ক্রোক করে স্থানীয় প্রশাসক। আত্মস্বীকৃত এ খুনিকে দ্রুত দেশে এনে রায় ফাঁসির রায় কার্যকর করলে হাজীগঞ্জবাসী বঙ্গবন্ধুর হত্যার দায় থেকে কিছুটা মুক্তি পাবে বলে বিশ^াস করেন স্থানীয়রা একই সাথে এই রায় কার্যকর হলে মুক্তিযোদ্ধা আঃ লতিফ হত্যার বিচার পাবেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী রাশেদ চৌধুরী ফাঁসির রায় কার্যকরের মাধ্যমে দায় মুক্তি চায় এলাকাবাসী

আপডেট: ০৪:৫৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অগাস্ট ২০১৯

মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ,
ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনীদের অন্যতম বহিস্কৃত লে. কর্ণেল রাশেদ চৌধুরীর জন্ম ও বেড়ে উঠেছিলেন পৈত্রিক বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। ছাত্র জীবনে ভালো থাকলেও বদলে গেছেন চাকুরী জীবনে, হয়ে উঠেছিলো ঘৃন্য হত্যাকারী। জাতির জনককে হত্যার আগে ১৯৭৪ সালের সোনাইমুড়ি গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে দ্বন্ধের সূত্র ধরে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে ফেনীতে হত্যা করেন স্কুল শিক্ষক আব্দুল লতিফ মাষ্টারকে। এই খুনিকে দেশে ফিরিয়ে এনে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামালার ফাঁসির রায় কার্যকর করলে হাজীগঞ্জবাসী দায় মুক্তি পাবে একই সাথে আবদুল লতিফ মাষ্টারের বিচার পাবেন বলে জানান স্থানীয়রা।
চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং পূর্ব বড়কূল ইউনিয়নের সোনাইমুড়ি গ্রামের তৎকালীন মুসলীম লীগ নেতা মরহুম শিহাব উদ্দিনের ছেলে রাশেদ চৌধুরী। নামের শেষে চৌধুরী ব্যবহার করা হলেও স্থানীয়রা এখনো রাশেদ চৌধুরীর পৈত্রিকবাড়িকে উকিল বাড়ি হিসেবে চিনে থাকে। ৮ভাই এক বোনের মধ্যে রাশেদ ৪র্থ। তবে এলাকাবাসীর দেখা রাশেদ ছাত্র জীবনে আচার আচরণ ভালো ছিল। কিন্তু চাকুরী জীবনে গিয়ে বদলে গেছেন রাশেদ। ওই বদলে যাওয়া রাশেদ চৌধুরীর ফাঁসির রায় বাস্তবায়ন চায় এলাকাবাসী।

রাশেদ চৌধুরীর বাবা মরহুম শিহাবউদ্দিন স্বাথীনতা যুদ্ধের ছিলেন শান্তি কমিটির সদস্য। এই শিহাবউদ্দিনের সাথে মুক্তিযুদ্ধের স্থানীয় ইউনিয়ন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক ও তৎকালীন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আঃ লতিফ মাস্টারের সাথে সোনাইমুড়ি গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে বিরোধ ছিল। তার জের ধরে রাশেদ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কিছুদিন আগে ১৯৭৪ সালে এ স্কুল শিক্ষককে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে ফেনীর ছাগলনাইয়া ব্রিজের নিচে ফেলে দেয়। সেই হত্যকান্ডের আজো বিচার পায়নি আঃ লতিফ মাষ্টারের পরিবারের সদস্যরা।

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বঙ্গবন্ধুর খুব রাশেদ চৌধুরীরর বিচার দেখে যেতে চান লতিফ মাস্টারের স্ত্রী কুদছিয়া বেগম। তিনি বলেন, শেখ মুজিবের হত্যার রায় বাস্তবায়ন হলেই আমি ধরে নেব স্বামী হত্যার বিচার পেয়েছি।

জাতির জনককে হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামী রাশেদ চৌধুরীর বাড়ি এই হাজীগঞ্জের সোনাইমুড়ি গ্রামে। আদালতের নির্দেশে ২০১৪ সাল থেকে তার স্থাবর-অস্থবর সম্পত্তি খাস খতিয়ানে নিয়ে আসা হয়েছে। যার বর্তমান মালিক জেলা প্রশাসক। ওই সম্পত্তিতে সরকারি যে সাইনবোর্ড ছিলো তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে নতুন করে সাইনবোর্ড তৈরী করা হচ্ছে বলে জানালেন সহকারি কমিশনার (ভ’মি) জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী।

২৮ এপ্রিল ২০১৪ সালে পলাতক খুনি হিসেবে আদালতের নির্দেশে হাজীগঞ্জের সোনাইমুড়ি মৌজার উত্তারিকারসূত্রে প্রাপ্ত শুধু মাত্র রাশেদ চৌধুরীর ১ একর ১৫ শতক জমি ক্রোক করে স্থানীয় প্রশাসক। আত্মস্বীকৃত এ খুনিকে দ্রুত দেশে এনে রায় ফাঁসির রায় কার্যকর করলে হাজীগঞ্জবাসী বঙ্গবন্ধুর হত্যার দায় থেকে কিছুটা মুক্তি পাবে বলে বিশ^াস করেন স্থানীয়রা একই সাথে এই রায় কার্যকর হলে মুক্তিযোদ্ধা আঃ লতিফ হত্যার বিচার পাবেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।