ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জ্বীন দিয়ে সকল অসাধ্যকে সাধন করতে পারলেও এএসপিকে সাধন করতে পারলেন না!

  • আপডেট: ০৮:২১:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুলাই ২০১৯
  • ১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি:

এমনিতেই চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ভূয়া ডাক্তারের ছড়া-ছড়ি। মঙ্গলবার (২৩ জলাই) সন্ধ্যায় হাজীগঞ্জ বিশ্ব রোডস্থ লয়ন্স চক্ষু হাসপাতাল থেকে ইমন চৌধুরী (৫০) নামক এক ভূয়া চক্ষু চিকিৎসককে আটক করে এএসপি (সার্কেল) মো. আফজাল হোসেন। এর পূর্বেও হাজীগঞ্জের কয়েকটি হাসপাতাল থেকে ভূয়া চিকিৎসক আটক করেন তিনি। এবার মাঠে নেমেছে প্রতারক জ্বীন কবিরাজ আটক করতে।

শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের স্থানীয় হরিপুর গ্রামের বাগ বাড়ী থেকে আটক করা হয় মারজানা (৪০) নামের এক মহিলা জ্বীন কবিরাজকে । আটক মারজান ওই বাড়ীর মফিজুর রহমানের স্ত্রী।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন জানান, মারজানা কবিরাজ দীর্ঘদিন ধরে মহিলা জ্বীনের সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসা সেবার নামে সাধারন মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছেন। তিনি হাওয়া নামক মহিলা জ্বীনসহ অন্যান্য জ্বীন মহিলাদের সহায়তায় তেল পড়া, পানি পড়াসহ বিভিন্ন খাবারে ঝাঁড়-ফুঁ সহ তাবিজ-তুমার দিয়ে টাকা এবং স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেন। এমন অভিযোগ ছিল দীর্ঘ দিনের।
এ ছাড়াও ওই ভূয়া কবিরাজ ক্রনিক মাথা ব্যথা, সন্তান না হওয়া, চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধার, বেপরোয়া স্বামী বশীকরন, জমি সংক্রান্ত সমস্যা, দাম্পত্য কলহ, অসাধ্যকে সাধন ইত্যাদি প্রায় সকল জটিল ও কঠিন রোগ এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের নামে মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন।
প্রতিনিয়ত তার কাছে ১৫০ থেকে ২০০ শিক্ষিত-অশিক্ষিত নারী-পুরুষ সেবা নিতেন বলে জানা যায়। যারা সেবা নিতেন, তারা আসার সময় জ্বীনের জন্য বিভিন্ন উপটোকন (উপহার) নিয়ে আসতেন। যা জ্বীনের নামে মারাজানা বেগম ও তার পরিবারই ভোগ করতেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেন জানান, আটক মারজানা বছরের পর বছর চাঁদপুর ও প্বার্শবর্তী জেলাসমূহের সহজ সরল, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, হিন্দু-মুসলমান নারীদেরকে কবিরাজির চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে আসছে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এদিকে জ্বীন কবিরাজ মারজানকে আটক করার পর পরই উপজেলার অন্যান্য জ্বীন কবিরাজরা বাড়ীতে তালা জুলিয়ে পালিয়েছে।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

ধর্ষণের মামলায় মাওলানা নাছির পাটোয়ারীকে আটক করলো র‌্যাব

জ্বীন দিয়ে সকল অসাধ্যকে সাধন করতে পারলেও এএসপিকে সাধন করতে পারলেন না!

আপডেট: ০৮:২১:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুলাই ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি:

এমনিতেই চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ভূয়া ডাক্তারের ছড়া-ছড়ি। মঙ্গলবার (২৩ জলাই) সন্ধ্যায় হাজীগঞ্জ বিশ্ব রোডস্থ লয়ন্স চক্ষু হাসপাতাল থেকে ইমন চৌধুরী (৫০) নামক এক ভূয়া চক্ষু চিকিৎসককে আটক করে এএসপি (সার্কেল) মো. আফজাল হোসেন। এর পূর্বেও হাজীগঞ্জের কয়েকটি হাসপাতাল থেকে ভূয়া চিকিৎসক আটক করেন তিনি। এবার মাঠে নেমেছে প্রতারক জ্বীন কবিরাজ আটক করতে।

শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের স্থানীয় হরিপুর গ্রামের বাগ বাড়ী থেকে আটক করা হয় মারজানা (৪০) নামের এক মহিলা জ্বীন কবিরাজকে । আটক মারজান ওই বাড়ীর মফিজুর রহমানের স্ত্রী।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন জানান, মারজানা কবিরাজ দীর্ঘদিন ধরে মহিলা জ্বীনের সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসা সেবার নামে সাধারন মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছেন। তিনি হাওয়া নামক মহিলা জ্বীনসহ অন্যান্য জ্বীন মহিলাদের সহায়তায় তেল পড়া, পানি পড়াসহ বিভিন্ন খাবারে ঝাঁড়-ফুঁ সহ তাবিজ-তুমার দিয়ে টাকা এবং স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেন। এমন অভিযোগ ছিল দীর্ঘ দিনের।
এ ছাড়াও ওই ভূয়া কবিরাজ ক্রনিক মাথা ব্যথা, সন্তান না হওয়া, চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধার, বেপরোয়া স্বামী বশীকরন, জমি সংক্রান্ত সমস্যা, দাম্পত্য কলহ, অসাধ্যকে সাধন ইত্যাদি প্রায় সকল জটিল ও কঠিন রোগ এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের নামে মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন।
প্রতিনিয়ত তার কাছে ১৫০ থেকে ২০০ শিক্ষিত-অশিক্ষিত নারী-পুরুষ সেবা নিতেন বলে জানা যায়। যারা সেবা নিতেন, তারা আসার সময় জ্বীনের জন্য বিভিন্ন উপটোকন (উপহার) নিয়ে আসতেন। যা জ্বীনের নামে মারাজানা বেগম ও তার পরিবারই ভোগ করতেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেন জানান, আটক মারজানা বছরের পর বছর চাঁদপুর ও প্বার্শবর্তী জেলাসমূহের সহজ সরল, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, হিন্দু-মুসলমান নারীদেরকে কবিরাজির চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে আসছে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এদিকে জ্বীন কবিরাজ মারজানকে আটক করার পর পরই উপজেলার অন্যান্য জ্বীন কবিরাজরা বাড়ীতে তালা জুলিয়ে পালিয়েছে।