চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের শংকরপুর কাজীবাড়ি এলাকায় মামলার সাক্ষীদের ওপর হামলা, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শংকরপুর কাজীবাড়ি এলাকায় গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকার ঔষধ ব্যবসায়ী কাজী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহর বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর সিআর-১২৩/২০২৬।

মামলার অভিযোগে কাজী খোরশেদ আলম, কাজী অনিক, কাজী অন্তর, কাজী ঐশ্বর্য, কাজী ইসমাইল, মেহেদী হাসান, কাজী রবিউল ও কাজী নাজির হোসেন টিটুসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আগামী ১২ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর আসামিরা আগাম জামিনের জন্য আদালতে আবেদন করলে ছয়জনের জামিন মঞ্জুর হয়। তবে ২ নম্বর আসামি কাজী অনিকের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন বিকেলে কাজী অনিকের জামিন না হওয়ার খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর তার চাচা শাহআলম (৫৫) ও মামলার ৮ নম্বর আসামি কাজী নাজির হোসেন টিটু (২৮) বাদী কাজী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ, মামলার ১ নম্বর সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী হুমায়ুন কবিরসহ অন্যান্য সাক্ষীর সঙ্গে হামলা, অশালীন গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এ ঘটনায় মামলার ১ নম্বর সাক্ষী কাজী হুমায়ুন কবির ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে শাহরাস্তি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ উদ্দীন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভুক্তভোগীদের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
মামলার অপর সাক্ষী ও শংকরপুর কাজীবাড়ি মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. শাওনও হামলা, হুমকি-ধমকি ও মামলার বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফরিদ উদ্দীনকে অবহিত করেন বলে জানা গেছে। এ সময় এলাকার অর্ধশতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে অভিযোগে আরও বলা হয়, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর জামিনপ্রাপ্ত আসামি কাজী অন্তর, কাজী ইসমাইল, মেহেদী হাসান, কাজী রবিউল ও কাজী ঐশ্বর্য মামলার ১ নম্বর সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী হুমায়ুন কবিরকে মারধরের উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেন। প্রাণরক্ষার জন্য তিনি নিজ বাড়ির দিকে দৌড়ে যাওয়ার সময় তার পিঠে ধাক্কা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে অভিযুক্তরা বাড়ির গেট ধাক্কাধাক্কি করে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মামলার ১ নম্বর আসামি কাজী খোরশেদ আলম অন্যদের হামলায় উসকানি ও সহযোগিতা করেন। এ ঘটনায় উপস্থিত স্থানীয় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং তারা পুরো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন বলে ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি।
এ ছাড়া মামলার সাক্ষীদের বিভিন্ন ব্যক্তি ও মাধ্যমের মাধ্যমে প্রভাবিত করে ঘটনার প্রকৃত বিবরণ পরিবর্তন করে বক্তব্য দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে সাক্ষীরা তাদের ওপর কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



























