ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইব্রাহীমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চরম দুরবস্থা: জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারি সেবা, বিনষ্টের শঙ্কায় শতবর্ষী ভূমি নথি

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১১:৪১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • 117

ছবি-ত্রিনদী

চাঁদপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইব্রাহীমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অবস্থা বর্তমানে চরম জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় কাঠের তৈরি পুরনো ভবনটি এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মরিচাধরা টিনের চাল, নড়বড়ে অবকাঠামো এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইনের মধ্যেই কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারি সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরনো কাঠের তৈরি ভবনটির চালের টিনে মরিচা ধরে জং জমেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে অফিসে সংরক্ষিত মূল্যবান সরকারি নথিপত্র ভিজে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এদিকে অফিসের সীমানা প্রাচীর ও প্রবেশদ্বারের অবস্থাও অত্যন্ত করুণ। লোহার ফটকটি জং ধরে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে এবং বাউন্ডারি দেয়ালের বিভিন্ন অংশে নোনা ধরে খসে পড়ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কার্যালয় ভবনের ওপর দিয়ে এবং চারপাশ ঘিরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদ্যুতের তার ঝুলে রয়েছে। কোনো কোনো স্থানে বিদ্যুতের লাইন পুরনো টিনের চালের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। এতে যেকোনো সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা কিংবা অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সেবাপ্রার্থীরা জানান, প্রতিদিন জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে বহু মানুষ এই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসেন। কিন্তু জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে সেবাপ্রার্থীদের বসা কিংবা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নেই। ঝড়-বৃষ্টি হলে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষকে উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয়।

এ অফিসে সিএস, এসএ ও আরএস খতিয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমি সংক্রান্ত পুরনো সরকারি রেকর্ডপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। শত বছরের মূল্যবান এসব নথি জরাজীর্ণ টিন ও কাঠের ভবনে সংরক্ষণ করায় যেকোনো সময় তা ক্ষতিগ্রস্ত বা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ইব্রাহীমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মিয়া জানান, নতুন ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে প্রায় দুই বছর আগে অফিসের জমির মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৭ শতাংশ জমি নিয়ে ভূমি অফিসটি গঠিত হলেও এর কিছু অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বলাসিয়া এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকায়, সাময়িকভাবে ওই অফিসের কার্যক্রমও ইব্রাহীমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে স্থানান্তর করার প্রয়োজন হতে পারে। ফলে আগে থেকেই জরাজীর্ণ এই অফিসে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত একটি আধুনিক ও নিরাপদ নতুন ভবন নির্মাণ, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন অপসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভূমি নথি সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল গ্রেপ্তার

ইব্রাহীমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চরম দুরবস্থা: জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারি সেবা, বিনষ্টের শঙ্কায় শতবর্ষী ভূমি নথি

আপডেট : ১১:৪১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

চাঁদপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইব্রাহীমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অবস্থা বর্তমানে চরম জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় কাঠের তৈরি পুরনো ভবনটি এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মরিচাধরা টিনের চাল, নড়বড়ে অবকাঠামো এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইনের মধ্যেই কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারি সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরনো কাঠের তৈরি ভবনটির চালের টিনে মরিচা ধরে জং জমেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে অফিসে সংরক্ষিত মূল্যবান সরকারি নথিপত্র ভিজে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এদিকে অফিসের সীমানা প্রাচীর ও প্রবেশদ্বারের অবস্থাও অত্যন্ত করুণ। লোহার ফটকটি জং ধরে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে এবং বাউন্ডারি দেয়ালের বিভিন্ন অংশে নোনা ধরে খসে পড়ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কার্যালয় ভবনের ওপর দিয়ে এবং চারপাশ ঘিরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদ্যুতের তার ঝুলে রয়েছে। কোনো কোনো স্থানে বিদ্যুতের লাইন পুরনো টিনের চালের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। এতে যেকোনো সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা কিংবা অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সেবাপ্রার্থীরা জানান, প্রতিদিন জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে বহু মানুষ এই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসেন। কিন্তু জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে সেবাপ্রার্থীদের বসা কিংবা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নেই। ঝড়-বৃষ্টি হলে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষকে উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয়।

এ অফিসে সিএস, এসএ ও আরএস খতিয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমি সংক্রান্ত পুরনো সরকারি রেকর্ডপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। শত বছরের মূল্যবান এসব নথি জরাজীর্ণ টিন ও কাঠের ভবনে সংরক্ষণ করায় যেকোনো সময় তা ক্ষতিগ্রস্ত বা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ইব্রাহীমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মিয়া জানান, নতুন ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে প্রায় দুই বছর আগে অফিসের জমির মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৭ শতাংশ জমি নিয়ে ভূমি অফিসটি গঠিত হলেও এর কিছু অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বলাসিয়া এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকায়, সাময়িকভাবে ওই অফিসের কার্যক্রমও ইব্রাহীমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে স্থানান্তর করার প্রয়োজন হতে পারে। ফলে আগে থেকেই জরাজীর্ণ এই অফিসে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত একটি আধুনিক ও নিরাপদ নতুন ভবন নির্মাণ, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন অপসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভূমি নথি সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।