ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে মেঘনার ভাঙনে আশ্রায়ন প্রকল্পের বাসিন্দারাই এখন আশ্রয়হীন

  • আপডেট: ০৯:০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯

শরীফুল ইসলাম॥
চাঁদপুরে আশ্রায়ন প্রকল্পে এসেও আশ্রয় মিলছে না নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর। প্রমত্তা মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে একের পর এক বসতঘর। চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে অবস্থিত ‘পদ্মা-মেঘনা নদী’ বেষ্টিত আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকায় এ দৃশ্য দেখা যায়।

আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীভাঙনে অনেক বসতঘর বিলীন হয়ে গেছে। যেসব পরিবারের বসতঘর বিলীন হয়েছে, তাদের প্রকল্প এলাকার অন্য বসতঘরে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। ভাঙনের ভয়াবহতা অব্যাহত থাকায় ভাঙন আতংকে রয়েছে পরিবারগুলো।

চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম দেওয়ান বলেন, ভাঙন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আশ্রায়ন প্রকল্পের অন্য ঘরে আশ্রয় দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আশ্রায়ন প্রকল্পে নদীভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে সেখানে কিছু বালিভর্তি বস্তা ফেলা হয়েছে।

নুরুল ইসলাম জানান, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে নদীভাঙ্গন ও অসহায় পরিবারের জন্য আশ্রায়ন প্রকল্পের নামে বসতঘর দেয়ার উদ্যোগ নেয়। ওই সময় চাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের হরিনা মৌজায় মেঘনা নদীর চরাঞ্চলে ৭টি আশ্রায়ন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়।

লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. আলমগীর হোসেন জানান, এসব আশ্রায়ন প্রকল্পের ১৩৫টি ব্যারাকে ৬৭৫টি পরিবারকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। প্রমত্তা পদ্মা-মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে আশ্রায়ন প্রকল্পের বসতঘরগুলো।

আশ্রায়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে : হরিনা আশ্রায়ন প্রকল্প, হরিনা সম্প্রসারণ আশ্রায়ন প্রকল্প, পদ্মা আশ্রায়ন প্রকল্প, পদ্মা সম্প্রসারণ আশ্রায়ন প্রকল্প, ইলশেপাড় আশ্রায়ন প্রকল্প, গোক্ষুরদী আশ্রায়ন প্রকল্প ও গোক্ষুরদী সম্প্রসারণ আশ্রায়ন প্রকল্প।

আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকার গ্রাম পুলিশ বিল্লাল হোসেন হাওলাদার বলেন, ভাঙন অব্যাহত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। নদীভাঙনে কোনো পরিবার যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে নজর রাখা হচ্ছে।

বিল্লাল হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে আশ্রায়ন প্রকল্পের ২৫টি ব্যারাকের ৬০টি পরিবার থাকার বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অন্যসব ব্যারাকে বসবাসরত পরিবারগুলোরও দিন কাটছে অনিশ্চয়তায়। গত এক মাস যাবত এ এলাকায় নদীভাঙছে। প্রতিদিন কোনো না কোনো বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাসু বেপারী, সোহরাব হোসেন বলেন, বিভিন্ন সময়ে নদীভাঙনের কারণে আমরা ঘর-বাড়ি হারিয়েছি। এরপর আমরা এখানে এসে আশ্রয় নেই। নদী আমাদের পিছু ছাড়ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, প্রতিবছর নদীভাঙন আমাদের তাড়া করছে। আশ্রায়ন প্রকল্পে এসে আমরা আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছি। আশ্রায়ন প্রকল্পের বসতঘরে বসবাস করতে গিয়ে আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকার খলিল মাঝি বলেন, আমাদের এই আশ্রায়ন প্রকল্পে নদীভাঙন প্রতিরোধে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। তা না হলে আমাদের মাথা গোঁজার আর ঠাঁই থাকবে না।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কানিজ ফাতেমা বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

চাঁদপুরে মেঘনার ভাঙনে আশ্রায়ন প্রকল্পের বাসিন্দারাই এখন আশ্রয়হীন

আপডেট: ০৯:০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯

শরীফুল ইসলাম॥
চাঁদপুরে আশ্রায়ন প্রকল্পে এসেও আশ্রয় মিলছে না নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর। প্রমত্তা মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে একের পর এক বসতঘর। চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে অবস্থিত ‘পদ্মা-মেঘনা নদী’ বেষ্টিত আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকায় এ দৃশ্য দেখা যায়।

আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীভাঙনে অনেক বসতঘর বিলীন হয়ে গেছে। যেসব পরিবারের বসতঘর বিলীন হয়েছে, তাদের প্রকল্প এলাকার অন্য বসতঘরে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। ভাঙনের ভয়াবহতা অব্যাহত থাকায় ভাঙন আতংকে রয়েছে পরিবারগুলো।

চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম দেওয়ান বলেন, ভাঙন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আশ্রায়ন প্রকল্পের অন্য ঘরে আশ্রয় দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আশ্রায়ন প্রকল্পে নদীভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে সেখানে কিছু বালিভর্তি বস্তা ফেলা হয়েছে।

নুরুল ইসলাম জানান, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে নদীভাঙ্গন ও অসহায় পরিবারের জন্য আশ্রায়ন প্রকল্পের নামে বসতঘর দেয়ার উদ্যোগ নেয়। ওই সময় চাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের হরিনা মৌজায় মেঘনা নদীর চরাঞ্চলে ৭টি আশ্রায়ন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়।

লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. আলমগীর হোসেন জানান, এসব আশ্রায়ন প্রকল্পের ১৩৫টি ব্যারাকে ৬৭৫টি পরিবারকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। প্রমত্তা পদ্মা-মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে আশ্রায়ন প্রকল্পের বসতঘরগুলো।

আশ্রায়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে : হরিনা আশ্রায়ন প্রকল্প, হরিনা সম্প্রসারণ আশ্রায়ন প্রকল্প, পদ্মা আশ্রায়ন প্রকল্প, পদ্মা সম্প্রসারণ আশ্রায়ন প্রকল্প, ইলশেপাড় আশ্রায়ন প্রকল্প, গোক্ষুরদী আশ্রায়ন প্রকল্প ও গোক্ষুরদী সম্প্রসারণ আশ্রায়ন প্রকল্প।

আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকার গ্রাম পুলিশ বিল্লাল হোসেন হাওলাদার বলেন, ভাঙন অব্যাহত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। নদীভাঙনে কোনো পরিবার যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে নজর রাখা হচ্ছে।

বিল্লাল হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে আশ্রায়ন প্রকল্পের ২৫টি ব্যারাকের ৬০টি পরিবার থাকার বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অন্যসব ব্যারাকে বসবাসরত পরিবারগুলোরও দিন কাটছে অনিশ্চয়তায়। গত এক মাস যাবত এ এলাকায় নদীভাঙছে। প্রতিদিন কোনো না কোনো বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাসু বেপারী, সোহরাব হোসেন বলেন, বিভিন্ন সময়ে নদীভাঙনের কারণে আমরা ঘর-বাড়ি হারিয়েছি। এরপর আমরা এখানে এসে আশ্রয় নেই। নদী আমাদের পিছু ছাড়ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, প্রতিবছর নদীভাঙন আমাদের তাড়া করছে। আশ্রায়ন প্রকল্পে এসে আমরা আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছি। আশ্রায়ন প্রকল্পের বসতঘরে বসবাস করতে গিয়ে আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকার খলিল মাঝি বলেন, আমাদের এই আশ্রায়ন প্রকল্পে নদীভাঙন প্রতিরোধে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। তা না হলে আমাদের মাথা গোঁজার আর ঠাঁই থাকবে না।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কানিজ ফাতেমা বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।