• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২২
সর্বশেষ আপডেট : ২২ জুন, ২০২২

নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার পাশাপাশি নানা অনিয়ম ও ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
[sharethis-inline-buttons]
নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার পাশাপাশি নানা অনিয়ম ও ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে।

দেশের অন্যতম বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প শেষ করতে অতিরিক্ত সময় লেগেছে সাড়ে পাঁচ বছরের বেশি। নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার পাশাপাশি নানা অনিয়ম ও ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে।

‘ইনস্টলেশন অব ৭.৪ মেগাওয়াট সোলার ফটোলোটেইক (পিভি) গ্রিড কানেকটেড পাওয়ার জেনারেশন প্ল্যান্ট অ্যাট কাপ্তাই’ শীর্ষক প্রকল্পে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

সমাপ্ত এ প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন করেছে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। প্রতিবেদনটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্প নির্মাণের ডিজাইন ও ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণে সঠিক কোনো গাইডলাইন ছিল না। ফলে সৌর প্যানেলের ওপর মাত্রারিক্ত ধুলো-ময়লা জমে থাকায় পর্যাপ্ত আউটকাম (সুফল) আসছে না। প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা কন্ট্রোল বিল্ডিং ও রেস্টহাউজ কোনো কাজে আসেনি। পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় দুটি গাড়ির কোন হদিস মিলছে না।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা সচিব (আইএইডির সাবেক সচিব) প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। যখন এটি শেষ হয়, তখন সেটি থেকে কী ফল পাওয়া গেল, সেটি খুঁজে বের করতেই সমাপ্ত প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন করে আইএমইডি। এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফল থেকে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা যেমন অর্জন করা যায়, তেমনই অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিতে পারে। এ রকম মূল্যায়নের প্রয়োজন আছে।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি ২০১২ সালের মার্চ থেকে শুরু হয়ে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের মেয়াদ তিন দফায় ৪ বছর বৃদ্ধি করে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এতেও শেষ হয়নি কাজ। ফলে আবারও ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছর বাড়ানো হয়।

এরপর আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। সর্বশেষ ৬ মাস মেয়াদ বাড়িয়ে প্রকল্পটি সমাপ্ত করা হয়। এতে প্রকল্পের মেয়াদ সাড়ে ৬ বছর বৃদ্ধি পায়, অর্থাৎ ৩০০ শতাংশ বেশি সময় লাগে এটি বাস্তবায়নে। এটি প্রকল্পের অন্যতম দুর্বল দিক। তবে ব্যয় না বেড়ে উলটা কমেছে।

প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ১৯২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সর্বশেষ প্রকৃত ব্যয় হয়েছে ১০৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে কম খরচ হয়েছে ৮৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। প্রকল্পটি রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় একটি জিপ ও একটি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনা হয়েছিল। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পর যানবাহন পরিবহণ পুলে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু এ দুটি গাড়ি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ বোর্ডের সম্পত্তি ও যানবাহন পরিদপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কিন্তু এর প্রমাণক হিসাবে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় কন্ট্রোল বিল্ডিং এবং রেস্টহাউজ নির্মাণসহ অন্যান্য পূর্ত কাজ করা হয়েছে। রেস্টহাউজে আসবাবপত্র, এসিসহ আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কিন্তু রেস্টহাউজটি সম্পূর্ণ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এক্ষেত্রে রেস্টহাউজটি সংস্কার করে কাপ্তাই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকৌশলী ও আগত অতিথিদের জন্য ব্যবহারের সুপারিশ রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত সোলার প্যানেলগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা প্রয়োজন। কিন্তু এর ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) রক্ষণাবেক্ষণে কোনো গাইডলাইন ছিল না। দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হিসাবে এটা থাকা অত্যাবশ্যকীয় ছিল।

প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন। নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশন করা না গেলে গ্রাহক পর্যায়ে সার্বিকভাবে বিতরণ সম্ভব হয় না।

প্রকল্পটি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ঝড়বৃষ্টি এবং যে কোনো দুঘর্টনার ফলে দুর্যোগের পর পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময়ক্ষেপণ হয়। অন্যদিকে ট্রান্সমিশন লাইনগুলো পুরোনো হওয়ায় মাঝেমধ্যে বিতরণব্যবস্থায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রকল্পটি চলাকালীন মোট ৪ জন প্রকল্প পরিচালক দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে ২ জন অতিরিক্ত এবং ২ জন নিয়মিত হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন। এতবার পরিচালক বদলি প্রকল্পটির অগ্রগতির ক্ষত্রে বাধার সৃষ্টি হয়েছিল। প্ল্যান্টসংশ্লিষ্ট জনবলের অভাবে প্ল্যান্টটি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। ফলে এ থেকে যে সুফল পাওয়ার কথা, সেটি কার্যকরভাবে আসছে না। এক্ষেত্রে দরপত্র আহ্বান করে ক্লিনিং প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

Sharing is caring!

[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন

  • সারা দেশ এর আরও খবর