ঢাকা ১০:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আপন ঠিকানায় এরশাদের মরদেহ

  • আপডেট: ০৬:৪০:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯
অনলাইন ডেস্ক:

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মরদেহ তার নিজ এলাকা রংপুরে পৌঁছেছে। এরশাদের কফিন নিয়ে বিমান বাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টার মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে রংপুর সেনানিবাসে পৌঁছায়। এসময় রংপুর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা তার লাশ গ্রহণ করেন। এসময় প্রিয় নেতার মরদেহ দেখে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। লাশ রংপুর সেনানিবাস থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সে করে রংপুর কেন্দ্রীয় ইদগাহ মাঠে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে বাদ যোহর এরশাদের চতুর্থ জানাজা শেষে মরদেহ রংপুরবাসীর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে।

পরে এরশাদের লাশ হেলিকপ্টারযোগে ফের ঢাকায় আনা হবে। বাদ-আসর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করার কথা রয়েছে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০ দিকে রাজধানীর তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর থেকে এরশাদের মরদেহবাহী হেলিকপ্টার রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

এরশাদের কফিনের সঙ্গে যান তার ছোট ভাই ও জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের, এরশাদের ছেলে রাহগির আল মাহি সাদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, আজম খান, এটিইউ তাজ রহমান ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু।

রংপুর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বলছেন এরশাদের অন্তিম চাওয়া ছিল তাকে রংপুরেই দাফন করা হোক। সে জন্য পল্লী নিবাসের লিচুতলায় কবর খনন করা হয়েছে। রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন বলেন, জানাজা শেষে স্যারের (এরশাদ) মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পল্লী নিবাসে। সেখানে লিচুতলায় তাকে দাফন করা হবে। এ জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

রংপুরের মেয়র ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ঘোষণা দিয়েছেন, তারা ‘যেকোনো মূল্যে’ এরশাদের মরদেহ রংপুরে রেখে দেবেন। এরশাদকে রংপুরেই দাফন করা হবে।

মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা আরও বলেন, এরশাদের অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী তার নিজ হাতে গড়া পল্লী নিবাসে রোপিত লিচু বাগানের নিচেই দাফন হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় এরশাদের লাশ যদি রংপুরে না আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তবে পরিস্থিতি হবে আরও ভয়াবহ। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে এরশাদকে রংপুরে সমাহিত করা হবে বলে জানান তিনি।

এরশাদের কবরের স্থান নির্ধারণ নিয়ে রশি টানাটানিকে ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করে বলেন, মানুষ থেকে আলাদা করার এরশাদকে একটি জনবিচ্ছিন্ন এলাকায় কবর দেয়ার চক্রান্ত চলছে তা প্রতিহত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এরশাদ জেলে থাকা অবস্থাতেও রংপুরের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে রংপুর সদর আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা গিনেস রেকর্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

প্রসঙ্গত রোববার সকাল পৌনে ৮টায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন মৃত্যুবরণ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তিনি রক্তে সংক্রমণসহ লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন। রোববার বাদ জোহর ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর পর সোমবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদে দ্বিতীয় এবং বাদ আসর বায়তুল মোকাররম মসজিদে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রংপুরে চতুর্থ জানাজা শেষে আজ তাকে দাফন করা হবে।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপি’র ঈদ শুভেচ্ছা

আপন ঠিকানায় এরশাদের মরদেহ

আপডেট: ০৬:৪০:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯
অনলাইন ডেস্ক:

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মরদেহ তার নিজ এলাকা রংপুরে পৌঁছেছে। এরশাদের কফিন নিয়ে বিমান বাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টার মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে রংপুর সেনানিবাসে পৌঁছায়। এসময় রংপুর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা তার লাশ গ্রহণ করেন। এসময় প্রিয় নেতার মরদেহ দেখে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। লাশ রংপুর সেনানিবাস থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সে করে রংপুর কেন্দ্রীয় ইদগাহ মাঠে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে বাদ যোহর এরশাদের চতুর্থ জানাজা শেষে মরদেহ রংপুরবাসীর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে।

পরে এরশাদের লাশ হেলিকপ্টারযোগে ফের ঢাকায় আনা হবে। বাদ-আসর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করার কথা রয়েছে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০ দিকে রাজধানীর তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর থেকে এরশাদের মরদেহবাহী হেলিকপ্টার রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

এরশাদের কফিনের সঙ্গে যান তার ছোট ভাই ও জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের, এরশাদের ছেলে রাহগির আল মাহি সাদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, আজম খান, এটিইউ তাজ রহমান ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু।

রংপুর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বলছেন এরশাদের অন্তিম চাওয়া ছিল তাকে রংপুরেই দাফন করা হোক। সে জন্য পল্লী নিবাসের লিচুতলায় কবর খনন করা হয়েছে। রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন বলেন, জানাজা শেষে স্যারের (এরশাদ) মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পল্লী নিবাসে। সেখানে লিচুতলায় তাকে দাফন করা হবে। এ জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

রংপুরের মেয়র ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ঘোষণা দিয়েছেন, তারা ‘যেকোনো মূল্যে’ এরশাদের মরদেহ রংপুরে রেখে দেবেন। এরশাদকে রংপুরেই দাফন করা হবে।

মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা আরও বলেন, এরশাদের অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী তার নিজ হাতে গড়া পল্লী নিবাসে রোপিত লিচু বাগানের নিচেই দাফন হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় এরশাদের লাশ যদি রংপুরে না আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তবে পরিস্থিতি হবে আরও ভয়াবহ। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে এরশাদকে রংপুরে সমাহিত করা হবে বলে জানান তিনি।

এরশাদের কবরের স্থান নির্ধারণ নিয়ে রশি টানাটানিকে ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করে বলেন, মানুষ থেকে আলাদা করার এরশাদকে একটি জনবিচ্ছিন্ন এলাকায় কবর দেয়ার চক্রান্ত চলছে তা প্রতিহত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এরশাদ জেলে থাকা অবস্থাতেও রংপুরের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে রংপুর সদর আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা গিনেস রেকর্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

প্রসঙ্গত রোববার সকাল পৌনে ৮টায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন মৃত্যুবরণ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তিনি রক্তে সংক্রমণসহ লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন। রোববার বাদ জোহর ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর পর সোমবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদে দ্বিতীয় এবং বাদ আসর বায়তুল মোকাররম মসজিদে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রংপুরে চতুর্থ জানাজা শেষে আজ তাকে দাফন করা হবে।