• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি, ২০২২
সর্বশেষ আপডেট : ১৩ জানুয়ারি, ২০২২

সংখ্যালঘু স্বীকৃতি চাইঃ

অনলাইন ডেস্ক
[sharethis-inline-buttons]

আমাদের এক দফা এক দাবি ১৯৭১ এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে মাইনরিটি ছিল ২৩%। ঐ পরিসংখ্যান অনুসারে সংখ্যালঘু স্বীকৃতি চাই। সংখ্যালঘু স্বীকৃতি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইঊ এন চার্টার এর বিধান অনুযায়ী জান মাল সম্পত্তি রক্ষার অধিকার পাই। জোরপূর্বক ধর্মান্তর করা, জায়গা জমি দখল রোধ, বিতারন বন্ধ করা, শত্রু সম্পত্তি ঊদ্ধার ও ফেরত, সাহাব ঊদ্দীন কমিশন এর ১৩ হাজার মামলা ও চলমান সকল হত্যাকান্ডের বিচার নিস্পত্তি, সংখ্যালঘু নিবন্ধন, রাজনৈতিক দল গঠন, আলাদা আসনে নির্বাচন, সংখ্যালঘু সংরক্ষনের বিধান, সংখ্যালঘু মন্ত্রনালয়, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ইত্যাদি দাবী আদায়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়া যাবে।
এই স্বীকৃতির আওতায় রাস্ট্র্রের সংখ্যাগুরু নাগরিকের চেয়ে বেশী মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, বাজেট বরাদ্ধ, সব সেক্টরে কোটা, সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপদ ও সংরক্ষিত এলাকা, সামরিক বাহিনী, প্রশাসন ও জাতীয় সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব এবং এসব বিষয়গুলি দেখবাল করার জন্য সংখ্যালঘু মন্ত্রনালয় প্রতিষ্ঠা করা যাবে।
বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার জন্য মায়ানমার সরকারকে চাপ দিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জান মাল ব্যবসা ও ক্ষতিপুরন দিয়ে পুনর্বাসনের জন্য বাংলাদেশ সরকার ইঊ এন কর্তৃক পাশ হওয়া বিল এর মাধ্যমে দাবি জানিয়েছে। একই আইনে একই কারনে বাংলাদেশ থেকে বিতারিত, ১৯৭১ এর পর থেকে আজ পর্যন্ত যে ১৩% হিন্দু শরনার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছে তাদের কে বাংলাদেশে ফেরত এনে তাদের জান-মালের নিরাপত্তার বিধান ও তাদের জায়গাজমি, ব্যবসা ও নাগরিকত্ব ফেরত দেওয়া বর্তমান অসাম্প্রদায়িক সরকারের দায়িত্ব।
মরা মাছ ভাঙ্গা ডুলা। পালিয়েও বাঁচারও কোন সুযোগ নাই, নিজ দেশে, নিজ জন্মভুমিতে পরবাসী।
স্বাধীনতার পুর্বের ইতিহাস এবং, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সময় সংখ্যালঘুদের আত্মত্যাগ ও নির্বিচারে গনহত্যার শিকারের কথা বাদ দিলে, দেশ স্বাধীনের পর সারা দেশে একযোগে ১৯৭২ এ দুর্গা মুর্তি ভাঙ্গার মধ্যদিয়ে সংখ্যালঘুদের ঊপর প্রথম আঘাত করা হয়। এর পর থেকে সংখ্যালঘুরা ক্রমাগত হত্যা নির্যাতন, ধর্ষন, সম্পত্তি দখল বিতারন জোর পুর্বক ধর্মান্তকরন, একটি ভয়াবহ ঊভয় সংকটের মধ্যেই জীবনমৃত অবস্হায় বাস করে আসছে। একদিকে দেশে বাস করলেও বিপদ (সংখ্যালঘু স্বীকৃতি নাই) আবার বিদেশে বা ভারতে বাঁচার জন্য পালিয়ে গেলেও বিপদ(শরনার্থী স্বীকৃতি নাই)। মরা মাছের ভাঙ্গা ডুলা থেকে বের হয়ে বাঁচার কোন সুযোগ নাই। এক প্রচন্ড দুর্বিসহ অবস্হায় দিন কাটাচ্ছে, এই যন্ত্রনা একমাত্র ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেঊ অনুমান করতে পারবে না। যেন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হয়ে জন্ম নেয়া আজন্মের পাপ।
সংখ্যালঘুদের ডিভাইড এন্ড রুল পলিসি নিয়ে সুচতুরভাবে আন্তর্জাতিক বিশ্বে দেখাচ্ছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বলতে কেঊ নাই। সংখ্যালঘুরা দুটি অংশে বিভক্ত। একটি অংশ গরীব, মধ্যবিত্ত তারা বার বার হামলা হত্যা নির্যাতন ও বিতারিত হয়। আরেকটি অংশকে বিশেষ সুবিধা, সরকারি ঊচ্চ পদ, সচিবালয়ের সেক্রেটারী, বিচারপতি, নানা সরকারী কর্মকর্তা, সংসদীয় আসন, সরকারী অর্থানুকুল্য, টেন্ডার, ব্যবসা ও নানা সুযোগ সুবিধা দিয়ে বুঝাচ্ছে দেশে সংখ্যালঘুরা অনেক ঊচু শ্রেনী, পদ ও নিরাপদে আছে।
সংখ্যালঘুদের নিজস্ব যোগ্যতায় এসব অর্জন ও প্রাপ্তিকে খাটো করে দেখিয়ে বলা হচ্ছে বিগত কোন সরকার সংখ্যালঘুদের এত সুযোগ সুবিধা দেইনি।এভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখে ধুলো দিয়ে, আই ওয়াশ করে তাদের চোখে ক্রমাগত সংখ্যালঘু নির্যাতন ও বিতারন যাতে ধরা না পরে কৌশলে সংখ্যালঘুদের সমস্যা ও ভিতরের অবস্হা ঢেকে রাখা হয়েছে। এই এলিট শ্রেনীর সংখ্যালঘুরা সব ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সুযোগ সুবিধা পেয়ে আসছে। হিন্দু নির্যাতনে বিরুদ্ধে এদের একটি অংশ সব সময় নিস্ক্রিয় থাকে যেহেতু এরা প্রশাসন, সংসদীয় পদ ও নানা সুযোগ সুবিধা ও ঊচ্চ পদে আসীন। সোজা কথায় এরা সরকারের তল্পিবাহক ও ঊচ্ছিস্টভোগী একটি শ্রেনী।
বাংলাদেশে ১৮ জন সংসদ এবং সেক্রেটারী, ডিসি ও প্রশাসনের পদে যারা আছে তাদের একজনও ১৩ অক্টোবরের ঘটনার পরে দুর্গত এলাকাগুলি পর্যবেক্ষন ও প্রতিবাদে বক্তব্য প্রদান করেনি, একাত্বতা ঘোষনা করে সংখ্যালঘুদের পাশে গিয়েও দাঁড়াইনি, অথচ একজন মুসলিম নেত্রী সংখ্যালঘু নির্যাতনে সংসদে প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল। এই ১৮ জন সাংসদ জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করে সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ালে আন্দোলন আরো বেগবান হতো।
আবার এদের একটি অংশ ক্ষমতা থেকে বিতারিত হলে নিজস্বার্থে প্রতিবাদ মুখর হয়। আবার যারা ক্ষমতায় থেকে প্রতিবাদ করে তাদেরকে ক্ষমতাচ্যুত, বিচার ও দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় অথবা দেশের শত্রু হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। ঊদাহরন- প্রয়াত সংসদীয় দলের নেতা ও দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরন্জিত সেনগুপ্ত, কানাডাতে বিতারিত প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিংহা ।
অন্য আরেকটি সংখ্যালঘু শ্রেনীর লোকেরা সরকারী দলের লেজুরবৃত্তি ও চাটুকারিতা করে নানা সুযোগ সুবিধা, ঊচ্ছিস্ট ও আনুকুল্য পেয়ে এমনকি সামান্য একটা সরকারী কেরানির চাকরি পেয়ে সরকারী দলের প্রোপাগান্ডা ও ব্রেইন ওয়াশের শিকার হয়ে প্রগতিশীল লেবাস ধারন করে দাবী করে তারা সংখ্যালঘু নয়। যখন অন্যের বৌ, মেয়ে ধর্ষিত হয়, অন্যের ঘরবাড়ী লুটপাঠ, হত্যাকান্ড হয়, তখনও এরা নিজেদের সংখ্যালঘু স্বীকার করে না, কিন্তু যখন নিজের বৌ, মেয়ে ধর্ষিত হয়, নিজের ঘর লুটপাট, হত্যাকান্ডের শিকার হয় তখন হাস্যকরভাবে ডিগবাজি খেয়ে নিজের সংখ্যালঘু স্টেটাস দাবী করে। এভাবে সরকার সংখ্যালঘুদের কিছু সুযোগ সুবিধা দিয়ে একটি অংশকে নিজেদের দলের দলদাস বানিয়ে প্রচারযন্ত্র হিসাবে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে আসছে। ঊপরোক্ত কৌশলে সরকার কিছু সুযোগ সুবিধা দিয়ে সংখ্যালঘুদের বিভক্ত করে সংখ্যালঘুদের আইডেন্টিটি ও নাম নিশানা ধীরে ধীরে মুছে ফেলছে।
মার্কিন মানবাধিকার সংঘটনগুলি যুক্তরাস্ট্রের হিঊম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন দক্ষিন এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের ভয়াবহ অবস্হা ও তালেবানাইজেশন এর ঊপর ভিত্তি করে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে একই ক্যাটাগরিতে ফেলেছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের ঊপরোক্ত নানা কৌশলের কারনে বিদেশীদের চোখে সংখ্যালঘু নির্যাতনকে ধুলো দিয়ে রাখাতে বাংলাদেশকে ঐ তালিকা থেকে বাইরে রাখতে পারছে। একই তালিকাভুক্ত করতে পারছে না। এর জন্য জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আম্তর্জাতিক পর্যবেক্ষন টিম পাঠিয়ে তদারকি করলে ঊঠে আসবে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন, বিতারন, মন্দির ধ্বংস, সম্পত্তি লুটপাট ও হত্যাকান্ডের ভয়াবহ চিত্র পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সমতুল্য, এবং বাংলাদেশকেও একই ক্যাটাগরিতে ফেলে আম্তর্জাতিক বিধি নিষেধের আওতায় আনা যাবে।
একদিকে তালেবান দমনের নামে জামাত হেফাজতের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্হা নিয়ে তাদেরকে চাপে রেখে বিদেশীদের বুঝাচ্ছে তালেবান দমনে এই সরকারের বিকল্প নাই, তথাকথিত সেকুলার, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের এই সরকারকেই তালেবান দমাতে ক্ষমতায় থাকতে হবে, অন্যদিকে কৌশলে প্রত্যক্ষভাবে সরকারী ও বিদেশী স্পনসরে ইসলামের প্রচার ও প্রসারের নামে তথাকথিত ধর্মমন্ত্রনালয় আদতে তালেবান মন্ত্রনালয়ে বাজেট বরাদ্ধ করে দেশব্যাপী মডেল মসজিদ, মাদ্রাসা তৈরী, জিহাদী পুস্তক, পাঠ্যসুচী বদল ও বিকৃতি, ওয়াজি হুজুরদের লেলিয়ে দিয়ে সংখ্যালঘুদের ঘৃনা ও আক্রমনের ঊসকানিযুক্ত ওয়াজ, তাবলিক জামাত, দাওয়া ও ধর্মান্তকরন, ডিজিটাল এ্যাক্ট দিয়ে সংখ্যালঘু দমন, হয়রানি, মন্দির ভাঙ্গচুর, ঘরবাড়ীতে আগুন ও হত্যাকান্ড চালিয়ে তথাকথিত মডারেট মুসলিম গনতান্ত্রিক সেকুলার বাংলাদেশ বলে প্রচার চালিয়ে বিদেশীদের কাছে বুঝানো হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশে কোন সংখ্যালঘু নাই। সরকারী মদদে হিন্দুদেরকে ধর্মান্তর করার জন্য ছলে বলে কৌশলে বাংলাদেশ সরকারের এই রাজনৈতিক প্রচেস্টার প্রজেক্টে ধর্ম মন্ত্রনালয়ে হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা নব্য (নও মুসলিম ফান্ড) মুসলমানদের জন্য রাখা হয়েছে। এমনকি হিন্দু দেবোত্তর সম্পত্তির যে আয় থেকে মঠ ও মন্দিরগুলি চলতো সে দেবোত্তর সম্পত্তি সরকার অধিগ্রহন করে মুসলমানদের মধ্যে বিতরন করছে। হিন্দুদের ফেলে যাও শত্রু সম্পত্তি দখলের পর এখন সরকারের লৌলুপ দৃষ্টি পরেছে দেবোত্তর সম্পত্তির ঊপর। এভাবে সারাদেশে ধীরে ধীরে নানা কৌশলে সংখ্যালঘুদের জমি দখল, হত্যা, ধর্ষন ও নির্যাতন করে বিতারিত করে সংখ্যালঘু শুন্য করে ফেলা হয়েছে।
বহু বিদেশী পর্যবেক্ষকের সমীক্ষায় ঊঠে এসেছে বাংলাদেশ হল দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় আফগানিস্তান, দেশে সরকারী প্রশ্রয়ে তালেবান প্রশাসন কায়েম হয়েছে। সংখ্যালঘুদের বসবাসের জন্য পাকিস্তান আফগানিস্তানের অনুরুপ একটি বিপদজনক দেশে পরিনত হয়েছে। প্রফেসর আবুল বারাকাত এর মতে এভাবে চললে ২০ বছরে বাংলাদেশ সংখ্যালঘু শুন্য হবে। এ অবস্হায় বিলুপ্তপ্রায় সংখ্যালঘুরা যে হারে হ্রাস পাচ্ছে সে চলমান ধারা রোধ করতে হলে সংখ্যালঘু স্টেটাস ও রিকগনিশন এর কোন বিকল্প নাই। (চলবে)

বিদুৎ সরকার
বিশিস্ট মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক
চেয়ারম্যান বাংলাদেশ হিন্দু বুড্ডিস্ট খ্রীস্টান ইঊনিটি কাউন্সিল
কো-চেয়ারম্যান- বাংলাদেশ আমেরিকান রিপাবলিক্যান এলায়েন্স।
নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

Sharing is caring!

[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন