ঢাকা ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নতুন করে বড় হামলার হুঁশিয়ারি, জানুয়ারির আগেই সামরিক অভিযান জোরদারের আশঙ্কা

ইরান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, ‘প্রয়োজনে বাকি অংশও ধ্বংস করে দেব’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করা হবে কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রয়োজনে ইরানের ‘বাকি অংশও ধ্বংস করে দিতে হতে পারে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সামরিক অভিযান পরিচালনায় ট্রাম্প কতটা স্বাধীনতা পাবেন, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের নজরদারি বাড়াতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগের সময়টিতে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক অতিথি মন্তব্য করেছেন, আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগের প্রায় দুই মাসের মধ্যে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের অন্য একটি অংশ বলছে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এলেই যে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

এদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থানও দেখা যাচ্ছে। একদিকে তিনি সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, অন্যদিকে আপাতত বড় ধরনের নতুন হামলার পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আপাতত বড় ধরনের আরেকটি হামলার পরিকল্পনা নেই। তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

পলিটিকোকে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে দাবি করেন ট্রাম্প। অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের পেছনে ইরান যুদ্ধেরও ভূমিকা ছিল।

তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পেছনে যুদ্ধের চেয়ে জ্বালানি তেলের দামকে বেশি দায়ী করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, এর কারণ পেট্রলের দাম।’

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

শাহরাস্তিতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার

নতুন করে বড় হামলার হুঁশিয়ারি, জানুয়ারির আগেই সামরিক অভিযান জোরদারের আশঙ্কা

ইরান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, ‘প্রয়োজনে বাকি অংশও ধ্বংস করে দেব’

আপডেট : ১০:২৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করা হবে কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রয়োজনে ইরানের ‘বাকি অংশও ধ্বংস করে দিতে হতে পারে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সামরিক অভিযান পরিচালনায় ট্রাম্প কতটা স্বাধীনতা পাবেন, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের নজরদারি বাড়াতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগের সময়টিতে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক অতিথি মন্তব্য করেছেন, আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগের প্রায় দুই মাসের মধ্যে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের অন্য একটি অংশ বলছে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এলেই যে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

এদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থানও দেখা যাচ্ছে। একদিকে তিনি সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, অন্যদিকে আপাতত বড় ধরনের নতুন হামলার পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আপাতত বড় ধরনের আরেকটি হামলার পরিকল্পনা নেই। তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

পলিটিকোকে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে দাবি করেন ট্রাম্প। অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের পেছনে ইরান যুদ্ধেরও ভূমিকা ছিল।

তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পেছনে যুদ্ধের চেয়ে জ্বালানি তেলের দামকে বেশি দায়ী করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, এর কারণ পেট্রলের দাম।’