হাজীগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে হামলা, মারধর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের আমির বাজার সংলগ্ন আমীর উদ্দিন হাজী বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
সাবেক ইউপি সদস্য কুতুব উদ্দিন ও তার পরিবারে সদস্যদের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের নিয়ে অতর্কিত হামলা, মারধর ও লুটের অভিযোগ করেন, ওই বাড়ির আরশাদ উল্যাহ’র পরিবারের সদস্যরা। এতে সালিশদার এবং ওই পরিবারের একাধিক সদস্য’সহ এলাকার অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে দাবী করেন ভুক্তভোগীরা।

আহতরা হলেন, আব্দুল মমিন, ফাহিম, সুজন, রাসেল, ইমু, আব্দুল মতিন, সীমা, বিউটি, শাহেদ খাঁন, মফিজুল ইসলাম, মনির হোসেন, জাহাঙ্গীর ও সালিশদার সাইফুল ইসলাম খাঁন’সহ আরো অনেকে। আহতরা কুতুব উদ্দিন, নূরে আলম, ফয়েজ, জাহাঙ্গীর, সিয়াম, মুকবুল ও পারভীন’সহ অজ্ঞাতনামা ৩০/৩৫ জনের বিরুদ্ধে এ হামলার অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, আরশাদ উল্যাহ্ ও কুতুব উদ্দিন পরিবারের সাথে সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হয়। সম্প্রতি আরশাদ উল্যাহ্ ক্রয়কৃত এবং ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে ভোগদখলকৃত ভূমির উপর স্থাপনা নির্মাণকালে বাধা দেন অভিযুক্তরা। বিষয়টি নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ওই বাড়িতে সালিশি বৈঠকে বসা হয়।
ওই বৈঠকে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন, সদস্য হাবিব ও মানিক মেম্বারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে দুই পক্ষের তর্ক-বিতর্কের জেরে সাবেক ইউপি সদস্য কুতুব উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা বহিরাগত ৩০/৩৫ জনকে সাথে নিয়ে আরশাদ উল্যাহ’র পরিবারে উপর হামলা করেন।
হামলায় সালিশদার’সহ তাদের পরিবারের নারী ও শিশু’সহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহত যুবক মমিন ও সুজন, কিশোর ফাহিম চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অপর আহত নারী ও পুরুষ যারা রয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
তারা আরো জানান, তারা (কুতুব উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা) হামলা ও মারধরের পাশাপাশি নারীদের শ্লীলতাহানি করে গলার স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দৃষ্টি-আকর্ষণ করে এমন অতর্কিত হামলা, মারধর, শ্লীলতাহানি ও লুটপাটের সু-বিচার চান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
আহত সালিশদার সাইফুল ইসলাম বলেন, সালিশি বৈঠকের শেষ পর্যায়ের তারা (কুতুব উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা) অতর্কিত হামলা করে। এতে আমি গুরুতর আহত হই। এমনকি তারা আমার স্মার্টফোনটিও নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ইউপি সদস্য কুতুব উদ্দিন জানান, তারা কোন হামলা করেন নি বরং সালিশি বৈঠকের শেষ পর্যায়ের তর্কবিতর্কের জেরে এক পর্যায়ে তাদের উপর হামলা করা হয়। ওই হামলায় তাদের পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হয়ে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যরা স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এসময় তিনিও সুবিচার কামনা করেন।
এদিকে ইউপি সদস্য হাবিব ও মানিক মেম্বার জানান, বৈঠকের শেষ পর্যায়ে এসে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে তারা উভয়পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।
ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ শুনার পর বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে দুই পক্ষের সালিশদারদের নিয়ে যখন একটি কমিটি করে দিবো, ঠিক তখনি তারা তর্ক-বিতর্কের জেরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল মান্নান জানান, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার একজন ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন, তার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।























