ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সারাদেশে সরকারের উন্নয়ন দৃশ্যমান হচ্ছে : জেলপ্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান

  • আপডেট: ০৩:১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান বলেছেন, সারাদেশে সরকারের দৃশ্যমান উন্নয়ন হচ্ছে। আমাদের সামনে হলো মুজিববর্ষ। এ উপলক্ষে প্রতিটি উপজেলায় এবং ইউনিয়নে সরকারের বৃহৎ মাইলফলক উন্নয়নের কাজগুলো সাজিয়ে রাখুন। সরকারের উন্নয়নগুলো মানুষের মাঝে মজিববর্ষে তুলে ধরবো। মানুষ দেখবে মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে দেশ। তিনি আরো বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাজ এবং সোনার বাংলা করাই হলো আমাদের মূলকথা। শুধু একা উপজেলার উন্নয়ন হলে হবে না। এর অধীনে ইউনিয়নে হতে হবে। সেই সাথে ওই ইউনিয়নের গ্রাম বা ওয়ার্ডেও হতে হবে। আমরা খুঁজছি কোন্ উপজেলা বা ইউনিয়নে কোনো অপরাধ নেই। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে মানুষ ন্যায় বিচার পাচ্ছে। অচিরেই আমরা ঘোষণা দেবো অপরাধমুক্ত উপজেলা বা ইউনিয়ন।

তিনি ১৫ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল ১০টায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় সভাপ্রধানের বক্তব্যে এ কথা বলেন।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে বিগত মাসের প্রতিবেদন তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ জামাল হোসেন। সভায় জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার), জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ নূরুল ইসলাম দেওয়ান, মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ কুদ্দুছ, হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সভায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আনোয়ারুল আজিম, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এএসএম দেলওয়ার হোসেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এএইচএম গিয়াস উদ্দিন, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিরীন আক্তার, চাঁদপুর পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু রায়হান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ হুমায়ুন কবির, টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ সিরাজুল ইসলাম, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোঃ খলিলুর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ বখতিয়ার উদ্দিন, প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র নন্দীসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ভোক্তা অধিকার যাতে কোনোভাবে হরণ না হয় সেভাবেই কাজ করতে হবে। আমাদের উদ্দেশ্য মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা নয়। যারা ভাল ব্যবসায়ী তাদের উৎসাহ দিবেন। আর যারা অসৎ ব্যবসায়ী তাকে জেলে দিবেন। আমরা চাই আদর্শ নিয়ে ব্যবসা করবে।

হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের শিক্ষামন্ত্রীর প্রিয় এলাকা হাইমচর। চাঁদপুর থেকে হাইমচর যাওয়ার মূল সড়কটির সংস্কারের জন্যে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রী মহোদয় যখনই সময় পান তখনই হাইমচরে ছুটে যান। তিনি যখন ওই এলাকায় যান হাজার হাজার মানুষ তাঁর জন্যে ভিড় জমায়। অতএব সেখানে উন্নয়ন যেনো কোনো বাধা না হয় সে বিষয়টি দেখতে হবে।

সভায় ডেঙ্গু বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকা, দখল হয়ে যাওয়া বিআইডবিস্ন্নউটিএর ভূমি উদ্ধার, হাইমচরের নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেয়া, মশা নিধনে পদক্ষেপ গ্রহণ, মতলব উত্তরে হাসপাতাল নির্মাণ কাজ বিলম্ব হওয়া, জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করা, দ্রব্যমূল্যের অস্থিতিশীলতা রোধে বাজার মনিটরিং জোরদার করা এবং মুজিববর্ষ নিয়ে বিশদ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি একটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিলো। ডেঙ্গুর এই ভয়াবহতা প্রতিরোধে জনসচেতনতা আরো বাড়াতে হবে। গণসচেতনতার অংশ হিসেবেই আমরা আবারো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখবো। পর্যায়ক্রমে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে নিয়ে ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতামূলক সভা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- প্রচারের অংশ হিসেবে এলইডি বিলবোর্ড স্থাপন করা হবে। চাঁদপুরবাসীর সুপেয় পানির জন্যে জেলা পরিষদের নির্ধারিত স্থানে গভীর পুকুর খনন করা হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতির অংশ হিসেবে ই-নেট ভিত্তিক সকল সরকারি সেবা সম্পর্কে সাধারণ জনগণের সম্পৃক্ততা আরো বাড়াতে হবে।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপি’র ঈদ শুভেচ্ছা

সারাদেশে সরকারের উন্নয়ন দৃশ্যমান হচ্ছে : জেলপ্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান

আপডেট: ০৩:১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান বলেছেন, সারাদেশে সরকারের দৃশ্যমান উন্নয়ন হচ্ছে। আমাদের সামনে হলো মুজিববর্ষ। এ উপলক্ষে প্রতিটি উপজেলায় এবং ইউনিয়নে সরকারের বৃহৎ মাইলফলক উন্নয়নের কাজগুলো সাজিয়ে রাখুন। সরকারের উন্নয়নগুলো মানুষের মাঝে মজিববর্ষে তুলে ধরবো। মানুষ দেখবে মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে দেশ। তিনি আরো বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাজ এবং সোনার বাংলা করাই হলো আমাদের মূলকথা। শুধু একা উপজেলার উন্নয়ন হলে হবে না। এর অধীনে ইউনিয়নে হতে হবে। সেই সাথে ওই ইউনিয়নের গ্রাম বা ওয়ার্ডেও হতে হবে। আমরা খুঁজছি কোন্ উপজেলা বা ইউনিয়নে কোনো অপরাধ নেই। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে মানুষ ন্যায় বিচার পাচ্ছে। অচিরেই আমরা ঘোষণা দেবো অপরাধমুক্ত উপজেলা বা ইউনিয়ন।

তিনি ১৫ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল ১০টায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় সভাপ্রধানের বক্তব্যে এ কথা বলেন।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে বিগত মাসের প্রতিবেদন তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ জামাল হোসেন। সভায় জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার), জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ নূরুল ইসলাম দেওয়ান, মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ কুদ্দুছ, হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সভায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আনোয়ারুল আজিম, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এএসএম দেলওয়ার হোসেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এএইচএম গিয়াস উদ্দিন, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিরীন আক্তার, চাঁদপুর পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু রায়হান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ হুমায়ুন কবির, টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ সিরাজুল ইসলাম, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোঃ খলিলুর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ বখতিয়ার উদ্দিন, প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র নন্দীসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ভোক্তা অধিকার যাতে কোনোভাবে হরণ না হয় সেভাবেই কাজ করতে হবে। আমাদের উদ্দেশ্য মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা নয়। যারা ভাল ব্যবসায়ী তাদের উৎসাহ দিবেন। আর যারা অসৎ ব্যবসায়ী তাকে জেলে দিবেন। আমরা চাই আদর্শ নিয়ে ব্যবসা করবে।

হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের শিক্ষামন্ত্রীর প্রিয় এলাকা হাইমচর। চাঁদপুর থেকে হাইমচর যাওয়ার মূল সড়কটির সংস্কারের জন্যে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রী মহোদয় যখনই সময় পান তখনই হাইমচরে ছুটে যান। তিনি যখন ওই এলাকায় যান হাজার হাজার মানুষ তাঁর জন্যে ভিড় জমায়। অতএব সেখানে উন্নয়ন যেনো কোনো বাধা না হয় সে বিষয়টি দেখতে হবে।

সভায় ডেঙ্গু বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকা, দখল হয়ে যাওয়া বিআইডবিস্ন্নউটিএর ভূমি উদ্ধার, হাইমচরের নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেয়া, মশা নিধনে পদক্ষেপ গ্রহণ, মতলব উত্তরে হাসপাতাল নির্মাণ কাজ বিলম্ব হওয়া, জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করা, দ্রব্যমূল্যের অস্থিতিশীলতা রোধে বাজার মনিটরিং জোরদার করা এবং মুজিববর্ষ নিয়ে বিশদ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি একটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিলো। ডেঙ্গুর এই ভয়াবহতা প্রতিরোধে জনসচেতনতা আরো বাড়াতে হবে। গণসচেতনতার অংশ হিসেবেই আমরা আবারো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখবো। পর্যায়ক্রমে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে নিয়ে ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতামূলক সভা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- প্রচারের অংশ হিসেবে এলইডি বিলবোর্ড স্থাপন করা হবে। চাঁদপুরবাসীর সুপেয় পানির জন্যে জেলা পরিষদের নির্ধারিত স্থানে গভীর পুকুর খনন করা হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতির অংশ হিসেবে ই-নেট ভিত্তিক সকল সরকারি সেবা সম্পর্কে সাধারণ জনগণের সম্পৃক্ততা আরো বাড়াতে হবে।