ঢাকা ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জয়ন্তী হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন
আর চাঁদপুরে ফিরবেনা শিক্ষক জয়ন্তীর পরিবার
  • আপডেট: ১১:৩৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুর শহরে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত স্কুল শিক্ষক জয়ন্তী চক্রবর্তী (৪৫) হত্যার কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। সোমবার (২২ জুলাই) দুপরে জয়ন্তীর স্বামী অলক গোস্বামী অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে চাঁদপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ নিহত শিক্ষকের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ নিয়ে সোমবার বিকেলে গ্রামের বাড়ি চট্রগ্রামের মিরসরাই রওয়ানা হয়েছে।

চাঁদপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিমউদ্দিন জানান, সোমবার বেলা ২টায় নিহত শিক্ষিকার স্বামী অলক গোস্বামী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। এসআই অনুপ চক্রবর্তীকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত খুনের রহস্য আবিস্কার করা যায়নি।

জয়ন্তী চক্রবর্তী চাঁদপুর ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ছিলেন। তার স্বামী অলক গোস্বামী চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্চমান সহকারি পদ থেকে সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন। তার ২ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে অনন্যা গোস্বামী এশিয়া প্যাসিফিক বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রী। ছোট মেয়ে তম্বী গোস্বামী এবার এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। একমাত্র ছেলে পার্থ সারথী গোস্বামী নটরডেম কলেজে প্রথম বর্ষে অধ্যায়নরত। জয়ন্তী চক্রবর্তী গ্রামের বাড়ী জেলার শাহরাস্তি উপজেলার উল্লাসর গ্রামে। স্বামীর বাড়ী চট্রগ্রামের মিরসরাই উপজেলার কমলদহ গ্রামে।

জয়ন্তী খুন হওয়ার ও পারিবারিক অবস্থা জানার জন্য বেলা ৪টার দিকে তার স্বামী অলক গোস্বামীর মুঠোফোনে ফোন দিলে ছেলে পার্থ সারথী ফোন ধরেন। পার্থ সারথী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, আমরা মায়ের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি মিরসরাইয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছি। আমরা আর চাঁদপুরের সাথে সম্পর্ক রাখতে চাইনা। কারণ চাঁদপুর আমার মাকে কেড়ে নিয়েছে। তবে কি কারনে কেন আমার মাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। জানিনা। পার্থ সারথী আরো জানায়, বাসায় চুরি-ডাকাতির উদ্দেশ্যে গেলে টাকাপয়সা ও মালামাল নিয়ে যেতো। সব কিছুই ঠিক আছে। তার আক্ষেপ চাঁদপুরে এসে মাকে হায়েছি। আমরা আর চাঁদপুরে ফিরবনা।

নিহত শিক্ষকের পরিবার ও থানায় মামলা সূত্রে জানাগেছে, রোববার দুপরে শহরের ষোলঘরস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্টাফ কোয়ার্টারের দ্বিতীয় তলায় জয়ন্তী চক্রবর্তীকে দূর্বৃত্তরা গলাকেটে হত্যা করে। জয়ন্তী চক্রবর্তী স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে রোববার একাই বাসায় ছিলেন। তার স্বামী সকাল বেলায় ছোট মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল যেয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এদিকে জয়ন্তীর হত্যাকারীদের দ্রুত সনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবীতে সোমবার বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতি মানববন্ধনের আয়োজন করে। কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাড. বিনয় ভূষণ মজুমদার, চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল বাসার, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফররুখ আহমেদ, জেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি ওমর ফারুক, ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল বাবুল, বিষ্ণুপুর আজিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা খোদেজা বেগম লাকি, হাসান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইসমত আরা সাফি বন্যা প্রমুখ।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) জিহাদুল কবির বলেন, এখন পর্যন্ত খুনের রহস্য উদঘাটন করা যায়নি। পুলিশ জয়ন্তী হত্যা রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

গরু-ছাগলে ভরে গেছে হাট, তবে নেই ক্রেতা

জয়ন্তী হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন
আর চাঁদপুরে ফিরবেনা শিক্ষক জয়ন্তীর পরিবার
আপডেট: ১১:৩৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুর শহরে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত স্কুল শিক্ষক জয়ন্তী চক্রবর্তী (৪৫) হত্যার কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। সোমবার (২২ জুলাই) দুপরে জয়ন্তীর স্বামী অলক গোস্বামী অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে চাঁদপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ নিহত শিক্ষকের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ নিয়ে সোমবার বিকেলে গ্রামের বাড়ি চট্রগ্রামের মিরসরাই রওয়ানা হয়েছে।

চাঁদপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিমউদ্দিন জানান, সোমবার বেলা ২টায় নিহত শিক্ষিকার স্বামী অলক গোস্বামী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। এসআই অনুপ চক্রবর্তীকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত খুনের রহস্য আবিস্কার করা যায়নি।

জয়ন্তী চক্রবর্তী চাঁদপুর ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ছিলেন। তার স্বামী অলক গোস্বামী চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্চমান সহকারি পদ থেকে সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন। তার ২ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে অনন্যা গোস্বামী এশিয়া প্যাসিফিক বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রী। ছোট মেয়ে তম্বী গোস্বামী এবার এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। একমাত্র ছেলে পার্থ সারথী গোস্বামী নটরডেম কলেজে প্রথম বর্ষে অধ্যায়নরত। জয়ন্তী চক্রবর্তী গ্রামের বাড়ী জেলার শাহরাস্তি উপজেলার উল্লাসর গ্রামে। স্বামীর বাড়ী চট্রগ্রামের মিরসরাই উপজেলার কমলদহ গ্রামে।

জয়ন্তী খুন হওয়ার ও পারিবারিক অবস্থা জানার জন্য বেলা ৪টার দিকে তার স্বামী অলক গোস্বামীর মুঠোফোনে ফোন দিলে ছেলে পার্থ সারথী ফোন ধরেন। পার্থ সারথী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, আমরা মায়ের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি মিরসরাইয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছি। আমরা আর চাঁদপুরের সাথে সম্পর্ক রাখতে চাইনা। কারণ চাঁদপুর আমার মাকে কেড়ে নিয়েছে। তবে কি কারনে কেন আমার মাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। জানিনা। পার্থ সারথী আরো জানায়, বাসায় চুরি-ডাকাতির উদ্দেশ্যে গেলে টাকাপয়সা ও মালামাল নিয়ে যেতো। সব কিছুই ঠিক আছে। তার আক্ষেপ চাঁদপুরে এসে মাকে হায়েছি। আমরা আর চাঁদপুরে ফিরবনা।

নিহত শিক্ষকের পরিবার ও থানায় মামলা সূত্রে জানাগেছে, রোববার দুপরে শহরের ষোলঘরস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্টাফ কোয়ার্টারের দ্বিতীয় তলায় জয়ন্তী চক্রবর্তীকে দূর্বৃত্তরা গলাকেটে হত্যা করে। জয়ন্তী চক্রবর্তী স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে রোববার একাই বাসায় ছিলেন। তার স্বামী সকাল বেলায় ছোট মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল যেয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এদিকে জয়ন্তীর হত্যাকারীদের দ্রুত সনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবীতে সোমবার বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতি মানববন্ধনের আয়োজন করে। কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাড. বিনয় ভূষণ মজুমদার, চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল বাসার, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফররুখ আহমেদ, জেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি ওমর ফারুক, ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল বাবুল, বিষ্ণুপুর আজিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা খোদেজা বেগম লাকি, হাসান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইসমত আরা সাফি বন্যা প্রমুখ।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) জিহাদুল কবির বলেন, এখন পর্যন্ত খুনের রহস্য উদঘাটন করা যায়নি। পুলিশ জয়ন্তী হত্যা রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।