ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে প্রথমবারের মতো মহালয়ায় ধর্মীয় নাটক ‘মহিষাসুরমর্দিনী’, প্রশংসায় সমীর লাল দত্ত

  • সুজন দাস ॥
  • আপডেট : ১১:২৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • 30

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে প্রথমবারের মতো মহালয়া উপলক্ষে ধর্মীয় নাটক ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ মঞ্চস্থ হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আরতি, দেবী বন্দনা ও পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর নাট্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সমীর লাল দত্ত প্রশংসিত হচ্ছেন।
মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে তিনটি পর্বে শ্রী শ্রী রাজা লক্ষীনারায়ণ জিউড় আখড়ায় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়। প্রথম পর্বে ছিল আরতি ও দেবী বন্দনা। দ্বিতীয় পর্বে মহালয়ার তাৎপর্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মঞ্চস্থ হয় বহুল পরিচিত পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর নাটক ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। নাটকের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আবির্ভাব, অসুর শক্তির বিরুদ্ধে দেবীর লড়াই এবং অশুভ শক্তির বিনাশের পৌরাণিক কাহিনি তুলে ধরা হয়।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে মহালয়া শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচনাপর্ব। এদিন থেকেই দুর্গাপূজার আগমনী আবহ ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে। দেবীপক্ষের সূচনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, চণ্ডীপাঠ, দেবী বন্দনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়। হাজীগঞ্জে মহালয়াকে কেন্দ্র করে নাটক মঞ্চস্থ করার উদ্যোগ স্থানীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সমীর লাল দত্তের উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততার কথা আলোচনায় এসেছে। তাঁর সঙ্গে আয়োজনে সহযোগিতা করেন হাজীগঞ্জ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সুমন দেবনাথ রাজু। পাশাপাশি হাজীগঞ্জের চারটি পূজামণ্ডপভিত্তিক সংগঠন ত্রিনয়নী সংঘ, নবদুর্গা সংঘ, ত্রিশূল সংঘ ও দশভূজা সংঘ অনুষ্ঠানটি সফল করতে সহযোগিতা করে।

সন্ধ্যা আটটা থেকে আরম্ভ হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে অনুষ্ঠানমালা । স্থানীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এমন সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। একই মঞ্চে আরতি, দেবী বন্দনা, মহালয়ার সংক্ষিপ্ত আয়োজন এবং নাটক পরিবেশনের সমন্বয় অনুষ্ঠানটিকে বৈচিত্র্যময় করে তোলে।

আয়োজকদের এ উদ্যোগের ফলে মহালয়ার ধর্মীয় তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌরাণিক কাহিনি ও সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতি পরিচিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে দেবী দুর্গার মাহাত্ম্য তুলে ধরার এ প্রচেষ্টা হাজীগঞ্জের শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতিতে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

মহালয়া উপলক্ষে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের। তাঁদের মতে, ধর্মীয় মূল্যবোধ, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে একসঙ্গে ধারণ করে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা গেলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহ আরও বাড়বে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

চিপস কিনে দিয়ে দুই কন্যাসন্তানকে সড়কে ফেলে গেলেন ‘মা’

হাজীগঞ্জে প্রথমবারের মতো মহালয়ায় ধর্মীয় নাটক ‘মহিষাসুরমর্দিনী’, প্রশংসায় সমীর লাল দত্ত

আপডেট : ১১:২৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে প্রথমবারের মতো মহালয়া উপলক্ষে ধর্মীয় নাটক ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ মঞ্চস্থ হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আরতি, দেবী বন্দনা ও পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর নাট্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সমীর লাল দত্ত প্রশংসিত হচ্ছেন।
মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে তিনটি পর্বে শ্রী শ্রী রাজা লক্ষীনারায়ণ জিউড় আখড়ায় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়। প্রথম পর্বে ছিল আরতি ও দেবী বন্দনা। দ্বিতীয় পর্বে মহালয়ার তাৎপর্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মঞ্চস্থ হয় বহুল পরিচিত পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর নাটক ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। নাটকের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আবির্ভাব, অসুর শক্তির বিরুদ্ধে দেবীর লড়াই এবং অশুভ শক্তির বিনাশের পৌরাণিক কাহিনি তুলে ধরা হয়।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে মহালয়া শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচনাপর্ব। এদিন থেকেই দুর্গাপূজার আগমনী আবহ ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে। দেবীপক্ষের সূচনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, চণ্ডীপাঠ, দেবী বন্দনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়। হাজীগঞ্জে মহালয়াকে কেন্দ্র করে নাটক মঞ্চস্থ করার উদ্যোগ স্থানীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সমীর লাল দত্তের উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততার কথা আলোচনায় এসেছে। তাঁর সঙ্গে আয়োজনে সহযোগিতা করেন হাজীগঞ্জ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সুমন দেবনাথ রাজু। পাশাপাশি হাজীগঞ্জের চারটি পূজামণ্ডপভিত্তিক সংগঠন ত্রিনয়নী সংঘ, নবদুর্গা সংঘ, ত্রিশূল সংঘ ও দশভূজা সংঘ অনুষ্ঠানটি সফল করতে সহযোগিতা করে।

সন্ধ্যা আটটা থেকে আরম্ভ হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে অনুষ্ঠানমালা । স্থানীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এমন সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। একই মঞ্চে আরতি, দেবী বন্দনা, মহালয়ার সংক্ষিপ্ত আয়োজন এবং নাটক পরিবেশনের সমন্বয় অনুষ্ঠানটিকে বৈচিত্র্যময় করে তোলে।

আয়োজকদের এ উদ্যোগের ফলে মহালয়ার ধর্মীয় তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌরাণিক কাহিনি ও সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতি পরিচিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে দেবী দুর্গার মাহাত্ম্য তুলে ধরার এ প্রচেষ্টা হাজীগঞ্জের শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতিতে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

মহালয়া উপলক্ষে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের। তাঁদের মতে, ধর্মীয় মূল্যবোধ, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে একসঙ্গে ধারণ করে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা গেলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহ আরও বাড়বে।