চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের বেলঘর ছোট হাটখোলা এলাকায় প্রবাসী বাবুল মিয়ার স্ত্রী পারভিন বেগমের বিষপানে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে নিহতের পরিবারের অভিযোগ ও অভিযুক্ত পক্ষের পাল্টা বক্তব্যে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (৩ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে নিজ বসতঘরে পারভিন বেগম বিষপান করেন। পরে স্বজনরা তাকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, কয়েকদিন ধরে একটি আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে তারা চরম মানসিক চাপ ও হুমকির মধ্যে ছিলেন। তাদের অভিযোগ, প্রবাসী বাবুল মিয়ার মেঝ ছেলে বাবলু স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য হুমায়ূন কবির সর্দারের ছেলে ইমরান হোসেনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন।
সেই টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে ইমরান হোসেন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। পরিবারের দাবি, এসব ঘটনার কারণে পারভিন বেগম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং বিষপান করেন।
পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, এ ঘটনায় ইমরান হোসেনের সহযোগী হিসেবে ছৈয়াল বাড়ির জসিমের ছেলে রাকিব ও সর্দার বাড়ীর শরীফউল্যার সাইদুল জড়িত ছিলেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, সাবেক ইউপি সদস্য হুমায়ূন কবিরের পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। হুমায়ূন কবিরের স্ত্রী বলেন, তাদের ছেলে বাবুল মিয়ার ছেলের কাছে টাকা পেতেন এবং পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছিল।
তবে তারা কখনো ওই বাড়িতে হামলা চালাননি। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।
সাবেক ইউপি সদস্য হুমায়ূন কবির বলেন, বাবুল মিয়ার ছেলে বাবলু দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং বিষয়টি এলাকায় পরিচিত। তিনি দাবি করেন, পারিবারিক কলহের জেরেই পারভিন বেগম আত্মহত্যা করেছেন।
একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, এ বিষয়ে আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে।























