ঢাকা ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহরাস্তিতে ৬ ছেলের ঘরে ঠাঁই হলো না ৮৫ বছরের বৃদ্ধা মায়ের

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ৮৫ বছর বয়সী জয়নব ভানু নিজ বাড়িতে ছেলের ঘরের দরজায় ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকেও ঠাঁই না পাওয়া নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বৃদ্ধা মাকে আশ্রয় দিতে ৬ সন্তানের কারো ঘরের দরজা খোলা হয়নি। বন্ধ দরজায় বার বার টোকা দিয়ে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে বসে বসে হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব কাদরা গ্রামের মৃত সৈয়দ আহমেদের স্ত্রী জয়নব ভানু বহুদিন পূর্বেই স্বামীকে হারিয়েছে। ওনার বেঁচে থাকার সম্বল ৬ ছেলে। কলিজার টুকরা ছয় সন্তানের কারো ঘরে ঠাঁই না পেয়ে দিশেহারা হয়ে স্বামীর ভিটায় একটি কুঁড়ের ঘর তৈরির আকুতি জানান।

জয়নব ভানু অভিযোগ করেন দীর্ঘ এক মাস কুমিল্লায় চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়িতে ফিরে ছেলেদের ঘরে প্রবেশ করতে পারেননি। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে দরজার সামনে অসহায় অবস্থায় বসে থাকেছেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁকে দেখতে পেয়ে খোঁজখবর নেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি স্বামীর ভিটায় একটি কুঁড়েঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আকুতি জানান।

এ বিষয়ে মেজো ছেলে আবুল কাশেম দাবি করেন, দীর্ঘ এক বছর মা কোথায় ছিলেন, তা তিনি জানেন না এবং কয়েকবার তাঁকে ডেকেছেন। বড় ছেলে শাহজাহানের স্ত্রী জানান, বৃদ্ধা তাঁদের দরজার সামনে কয়েক মিনিট বসেছিলেন; পরে কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না। সেজো ছেলে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রীও জানান, তিনি কখন এসেছেন, তা তারা জানেন না।
জয়নব ভানুর মেয়ে ঝর্ণা বেগম জানান, মায়ের খবর শুনে আমি ছুটে আসি বিশ বছর যাবৎ তারা আমার মায়ের সাথে এমন আচরন করছে। তারা চায় আমার মাকে আমার বাড়িতে তুলে দিতে।

স্থানীয় আব্দুল কাদের খান ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি এলাকাবাসী সাথে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নিবো।

জয়নব ভানুর ছয় ছেলের মধ্যে শাহজাহান ও আবুল কাশেম বাড়িতে বসবাস করলেও বাকি চার সন্তান প্রবাসী।

চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলম বেলাল জানান, বিষয়টি আমি অবগত না তবে বার্ধক্যে একজন মায়ের এমন ঘটনা সত্যিই হৃদয়বিদারক। সামাজিকভাবে ছেলেদের বিচার হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

শেষ পর্যন্ত ছেলেদের ঘর ঠাঁই না পেয়ে জয়নব ভানুকে নিয়ে যায় মেয়ে ঝর্না বেগম।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সাবেক মোতাওয়াল্লি ড. মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারী ও মোতাওয়াল্লি প্রিন্স শাকিল আহমেদের জামিন

শাহরাস্তিতে ৬ ছেলের ঘরে ঠাঁই হলো না ৮৫ বছরের বৃদ্ধা মায়ের

আপডেট : ০৬:৩৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ৮৫ বছর বয়সী জয়নব ভানু নিজ বাড়িতে ছেলের ঘরের দরজায় ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকেও ঠাঁই না পাওয়া নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বৃদ্ধা মাকে আশ্রয় দিতে ৬ সন্তানের কারো ঘরের দরজা খোলা হয়নি। বন্ধ দরজায় বার বার টোকা দিয়ে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে বসে বসে হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব কাদরা গ্রামের মৃত সৈয়দ আহমেদের স্ত্রী জয়নব ভানু বহুদিন পূর্বেই স্বামীকে হারিয়েছে। ওনার বেঁচে থাকার সম্বল ৬ ছেলে। কলিজার টুকরা ছয় সন্তানের কারো ঘরে ঠাঁই না পেয়ে দিশেহারা হয়ে স্বামীর ভিটায় একটি কুঁড়ের ঘর তৈরির আকুতি জানান।

জয়নব ভানু অভিযোগ করেন দীর্ঘ এক মাস কুমিল্লায় চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়িতে ফিরে ছেলেদের ঘরে প্রবেশ করতে পারেননি। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে দরজার সামনে অসহায় অবস্থায় বসে থাকেছেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁকে দেখতে পেয়ে খোঁজখবর নেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি স্বামীর ভিটায় একটি কুঁড়েঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আকুতি জানান।

এ বিষয়ে মেজো ছেলে আবুল কাশেম দাবি করেন, দীর্ঘ এক বছর মা কোথায় ছিলেন, তা তিনি জানেন না এবং কয়েকবার তাঁকে ডেকেছেন। বড় ছেলে শাহজাহানের স্ত্রী জানান, বৃদ্ধা তাঁদের দরজার সামনে কয়েক মিনিট বসেছিলেন; পরে কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না। সেজো ছেলে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রীও জানান, তিনি কখন এসেছেন, তা তারা জানেন না।
জয়নব ভানুর মেয়ে ঝর্ণা বেগম জানান, মায়ের খবর শুনে আমি ছুটে আসি বিশ বছর যাবৎ তারা আমার মায়ের সাথে এমন আচরন করছে। তারা চায় আমার মাকে আমার বাড়িতে তুলে দিতে।

স্থানীয় আব্দুল কাদের খান ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি এলাকাবাসী সাথে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নিবো।

জয়নব ভানুর ছয় ছেলের মধ্যে শাহজাহান ও আবুল কাশেম বাড়িতে বসবাস করলেও বাকি চার সন্তান প্রবাসী।

চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলম বেলাল জানান, বিষয়টি আমি অবগত না তবে বার্ধক্যে একজন মায়ের এমন ঘটনা সত্যিই হৃদয়বিদারক। সামাজিকভাবে ছেলেদের বিচার হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

শেষ পর্যন্ত ছেলেদের ঘর ঠাঁই না পেয়ে জয়নব ভানুকে নিয়ে যায় মেয়ে ঝর্না বেগম।