চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে চাঁদপুরের স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকদের সাথে মতবিনিময় সভা শনিবার (২২ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টায় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, চাঁদপুর প্রেস ক্লাব আয়োজিত আজকের মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সকল সম্পাদককে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা জানাই। আমাদের মাঝে একজন নারী সাংবাদিক উপস্থিত রয়েছেন, ড়তাকে আমি অভিনন্দন জানাই। চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের মাধ্যমে আরও নতুন নারী সাংবাদিক তৈরি করা যায় কি না, সে বিষয়টি আপনারা গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।
তিনি বলেন, পত্রিকার সংখ্যা কম-বেশি হওয়া সম্পাদকদের ব্যক্তিগত বিষয়। অনেক সম্পাদক আর্থিক সংকটে রয়েছেন—বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। সরকারের কাছ থেকে স্থানীয় পত্রিকাগুলোর জন্যে কোনো আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলে প্রেস ক্লাবের মাধ্যমে তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
১৯৭৩ সালের ছাপাখানা আইন পরিবর্তনের বিষয়ে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, পত্রিকা ও ছাপাখানা সংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের বিষয়ে আমি মাননীয় তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। প্রয়োজনে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দকে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করবো।
চাঁদপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। কিছু অবকাঠামোগত কাজও চলছে। এসব কাজ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। উন্নয়নকাজ দৃশ্যমান হলে সাংবাদিকদের ডেকে তা প্রকাশের ব্যবস্থা করা হবে। অনেক সম্পাদক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খবর সময়মতো পান না-এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, তাদেরকে সংশ্লিষ্ট নিউজ কর্নারের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি চাঁদপুর জেলার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিই। এ বছর চাঁদপুর জেলার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দু-চারটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় আমি কষ্ট পেয়েছি। একজন শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষায় গড়ে তুলতে পারলে ১৫ বছর পর তার কাছ থেকে দেশ ও জাতির জন্য ভালো কিছু আশা করা যায়।
তিনি আরও বলেন, তরুণ সমাজকে খেলাধুলার পাশাপাশি পড়ালেখায় মনোযোগী করতে হবে। তরুণদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে। স্বাধীন সাংবাদিকতার বিষয়ে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, “আপনারা স্বাধীনভাবে পত্রিকায় লিখবেন। যার সম্পর্কে আপনারা লিখতে চান, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে লিখলে কেউ আপনাদের বাধা দেবে না। আমাদের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কেউ খারাপ কাজকে উৎসাহিত করবে না। তবে কোনো বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে একবার সতর্ক করার বিষয়টি বিবেচনা করবেন।”
চাঁদপুর পৌরসভার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পৌরসভার অনেক কাজ এখনও বাকি রয়েছে। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে সব কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে যতটুকু সম্ভব, পর্যায়ক্রমে সেসব কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, “আমার কাছে কাজ করতে পারলে আনন্দ লাগে। কাজ করতে না পারলে অসন্তুষ্টি লাগে।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব অনেক বেড়েছে। এটি বন্ধ করা সম্ভব নয় এবং সমস্যাটি শুধু চাঁদপুরের নয়, সারা বাংলাদেশের। তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোনো পত্রিকার নামে ভুয়া পেজ খুললে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভালো ও খারাপ-দুই দিকই রয়েছে। পত্রিকার পরিচয়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরই কার্ড দেবেন। তাই আপনারা আপনাদের পত্রিকায় যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে পত্রিকার কার্ড দেবেন না।
সম্পাদকদের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, অনেকেই পত্রিকার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তবে এ বিষয়ে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। সরকারের নির্ধারিত মানদণ্ড বা শর্ত পূরণ করে একটি পত্রিকা প্রকাশ করা যায়। পত্রিকা প্রকাশের বিষয়টি সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রকাশকের পারস্পরিক প্রক্রিয়ার বিষয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।























