ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে’ 

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় সোমবার (৮ জুন) উপজেলা পর্যায়ে সচেতনায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
‘অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে’ এই স্লোগানের ওপর জোর দিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন। তিনি বলেন, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের এখতিয়ারাধীন এলাকায় কতিপয় দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ ও বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালত গঠিত হয়।
তিনি বলেন, বিরোধীয় পক্ষদের মনোনীত সমসংখ্যক সদস্য অর্থাৎ আবেদনকারী এবং প্রতিবাদী পক্ষ হতে দুইজন করে এবং ইউপি চেয়ারম্যান সহকারে মোট পাঁচজন নিয়ে গ্রাম আদালত প্যানেল গঠন করা হয়। দেওয়ানি মামলায় ২০ টাকা এবং ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে ১০ টাকা ফি দিয় মামলার শুরু করা হয় এবং শুনানির কার্যক্রম শুরু হবার অনধিক ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে না পারলে অতিরিক্ত ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
কর্মশালায় জানানো হয়, গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তিযোগ্য ফৌজদারি মামলার মধ্যে চুরি,  প্রতারণা, ঝগড়া বিবাদ, কলহ বা মারামারি, ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেয়া, নারীর শালিনতাকে অমর্যাদা বা অপমানের উদ্দেশ্যে কথা বলা, অঙ্গভঙ্গি করা বা অন্য কোনো কাজ করা, গচ্ছিত কোনো মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাৎ করা, পশুহত্যা, ক্ষতি সাধনসহ ইত্যাদি সংক্রান্ত মামলা দায়ের ও নিস্পত্তি করা হয়।
এছাড়া দেওয়ানী মামলার মধ্যে পাওনা টাকা আদায়, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধার বা তার মূল্য আদায়, কোনো অস্থাবর সম্পত্তি জবর দখল বা ক্ষতি করার জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়, গবাদিপশুর অনধিকার প্রবেশের কারণে ক্ষতিপূরণ, গবাদিপশুর মেরে ফেলা বা গবাদিপশুর ক্ষতি, কৃষি শ্রমিকদের পরিশোধযোগ্য মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত, স্ত্রী কর্তৃক বকেয়া খোরপোষ আদায় ইত্যাদি মামলা দায়ের ও নিস্পত্তি করা হয়।
উপজেলা গ্রাম আদালতের সমন্বয়কারী শহিদুল্লাহ্ কায়সারের উপস্থানায় কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন, হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব শর্মা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীম, সাজেদা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি তাজুল ইসলাম প্রমুখ।
এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহানসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি, গ্রাম আদালতের রেজিস্ট্রার’সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এদিকে কর্মশালা শেষে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও অগ্রগতি শীর্ষক হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ট্যাগস :
জনপ্রিয়

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল গ্রেপ্তার

‘অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে’ 

আপডেট : ১১:১১:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় সোমবার (৮ জুন) উপজেলা পর্যায়ে সচেতনায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
‘অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে’ এই স্লোগানের ওপর জোর দিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন। তিনি বলেন, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের এখতিয়ারাধীন এলাকায় কতিপয় দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ ও বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালত গঠিত হয়।
তিনি বলেন, বিরোধীয় পক্ষদের মনোনীত সমসংখ্যক সদস্য অর্থাৎ আবেদনকারী এবং প্রতিবাদী পক্ষ হতে দুইজন করে এবং ইউপি চেয়ারম্যান সহকারে মোট পাঁচজন নিয়ে গ্রাম আদালত প্যানেল গঠন করা হয়। দেওয়ানি মামলায় ২০ টাকা এবং ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে ১০ টাকা ফি দিয় মামলার শুরু করা হয় এবং শুনানির কার্যক্রম শুরু হবার অনধিক ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে না পারলে অতিরিক্ত ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
কর্মশালায় জানানো হয়, গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তিযোগ্য ফৌজদারি মামলার মধ্যে চুরি,  প্রতারণা, ঝগড়া বিবাদ, কলহ বা মারামারি, ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেয়া, নারীর শালিনতাকে অমর্যাদা বা অপমানের উদ্দেশ্যে কথা বলা, অঙ্গভঙ্গি করা বা অন্য কোনো কাজ করা, গচ্ছিত কোনো মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাৎ করা, পশুহত্যা, ক্ষতি সাধনসহ ইত্যাদি সংক্রান্ত মামলা দায়ের ও নিস্পত্তি করা হয়।
এছাড়া দেওয়ানী মামলার মধ্যে পাওনা টাকা আদায়, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধার বা তার মূল্য আদায়, কোনো অস্থাবর সম্পত্তি জবর দখল বা ক্ষতি করার জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়, গবাদিপশুর অনধিকার প্রবেশের কারণে ক্ষতিপূরণ, গবাদিপশুর মেরে ফেলা বা গবাদিপশুর ক্ষতি, কৃষি শ্রমিকদের পরিশোধযোগ্য মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত, স্ত্রী কর্তৃক বকেয়া খোরপোষ আদায় ইত্যাদি মামলা দায়ের ও নিস্পত্তি করা হয়।
উপজেলা গ্রাম আদালতের সমন্বয়কারী শহিদুল্লাহ্ কায়সারের উপস্থানায় কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন, হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব শর্মা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীম, সাজেদা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি তাজুল ইসলাম প্রমুখ।
এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহানসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি, গ্রাম আদালতের রেজিস্ট্রার’সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এদিকে কর্মশালা শেষে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও অগ্রগতি শীর্ষক হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।