হাজীগঞ্জে সম্পতিগত বিরোধের জেরে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জি. মমিনুল হক ও স্থানীয় মিজানুর রহমান কমলসহ গণ্যামান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অশালিন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী’সহ স্থানীয়রা। শনিবার (৬ জুন) দুপুরে উপজেলার দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের কাপাইকাপ এলাকায় ওই সম্পত্তি’র ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পরিবার লোকজন এমন অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা।
এর আগে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে সংসদ সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অশালিন মন্তব্য করেন ওই এলাকার আলী আকবর মিজি, মুছাব্বর মিজি, বিল্লাল হোসেন ও এমদাদ মিজির পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচিত হলে পরে তিনি লাইভটি ডিলাইট করে দেন বলে অভিযোগ করেন, ওই সম্পত্তির বিক্রেতা করিম মিজি, খালেদা আক্তার ও ক্রেতা রিজনের পরিবারের সদস্যরা।

তারা জানান, ওই এলাকার করিম মিজির কাছ থেকে উপজেলার সাবেক ১৬৮নং কাপাইকাপ মৌজার সিএস ৮১, এসএ ৭৫, বিএস ৮০নং খতিয়ানভুক্ত সিএস ৩১৭, বিএস ৬৭৮ দাগে মোট ৪৪.৫০ শতাংশ ভূমি ক্রয় করেন, একই এলাকার মো. সফিকুল ইসলাম। পরবর্তীতে সফিকুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী মোসা. খালেদা বেগম একই এলাকার রিজন হোসেন, মিজানুর রহমান, হানিফ প্রধানীয়া ও শফিক প্রধানীয়ার কাছে ওই সম্পত্তি বিক্রি করে দেন।
এই সম্পত্তি নিয়ে আলী আকবর মিজি, মুছাব্বর মিজি, বিল্লাল হোসেন ও এমদাদ মিজির পরিবারের সদস্য বিরোধ চলে আসছে, মৃত সফিকুল ইসলামের পরিবারের সাথে। বিষয়টি নিয়ে ১৪৫’ধারাসহ একাধিক মামলা এবং মামলায় উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিবাদী/প্রতিপক্ষ করা হয়। এর মধ্যে ১৪৫’র রায় এবং আপিলে খালেদা আক্তারের মালিকানা ও বৈধ দখলদার হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। যার মিস মামলা নং- ১৬/২০১৯ইং, দরখাস্ত নং- ৪৮৭/২০১৮ইং।
এরপর বতর্মান ক্রেতা রিজন, মিজানুর রহমান, হানিফ ও শফিক প্রধানীয়া শুক্রবার ওই সম্পত্তিতে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিপক্ষ আলী আকবর মিজি, মুছাব্বর মিজি, বিল্লাল হোসেন ও এমদাদ মিজির পরিবারের সদস্যরা ওই ভূমিতে গিয়ে সাইনবোর্ড ভেঙ্গে ফেলেন এবং সংসদ সদস্য ইঞ্জি. মমিনুল হক ও মিজানুর রহমান কমল’সহ স্থানীয় গণ্যামান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অশালিন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এসময় হাসানাত মজুমদার নামের অপর এক ভুক্তভোগী বলেন, আমাদের ১৩ শতক জমি রয়েছে এবং যার দাগ ও খতিয়ান সম্পূর্ণ আলাদা। অথচ তারা (আলী আকবর মিজি, মুছাব্বর মিজি, বিল্লাল হোসেন ও এমদাদ মিজির পরিবারের সদস্যরা) আমাদের জমিও জোরপূর্বক দখলে করে আমাদেরকে হয়রানি করে যাচ্ছে।
একই সময়ে কিছু স্থানীয় তরুণ ও যুবক জানান, সম্পত্তিগত বিরোধ তাদের পারিবারিক বিষয়। এখানে ইঞ্জি. মমিনুল হক এমপি মহোদয় ও মিজানুর রহমান কমল ভাইয়ের কি দোষ ? তারা ওনাদের নামে মিথ্যা অপবাদ ও অশালিন মন্তব্য এবং অপ-প্রচার কেন? আমরা এর প্রতিবাদ জানাই এবং তাদের বিচার চাই। নূর আলম ফ্যাসিস্টের দোষর। সে আওয়ামী লীগের ব্যানারে মেম্বার (ইউপি) নির্বাচন দাঁড়িয়েছিলো। সে ৫ আগস্টের পর সে নতুন বিএনপি করে।
এদিকে ঘটনাস্থলে থাকা মুছাব্বর মিজির স্ত্রী শাহিদা বেগম জানান, এই সম্পত্তি নিয়ে ৩টি মামলা হয়েছে। আমরা ৭ বছর মামলা চালিয়ে রায় পেয়েছি। এরপর তারা আবার একটি মামলা দিয়েছে, আমরাও মামলা দিয়েছি এবং পরে তারা আবার ঢাকায় রিট করেছে। ওই রিটও আমরা পেয়েছি। এখন তারা আমাদের গাছপালা কেটে এবং সাইনবোর্ড ভেঙ্গে দিয়ে আমাদের উপর দোষ চাপিয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে নুর আলম বলেন, এমপি মহোদয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে কিছু লোক আমাদের সম্পত্তি দখল করতে গেছে। আমরা এমপি সাহেবের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আলমগীর ফেসবুকে লাইভ করেছে। পরে সে তার লাইভ কেটে দিয়েছে। আমার লাইভ ফেসবুকে এখনো আছে। এদিকে ওই লাইভে তিনি ইঞ্জি. মমিনুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তবে তিনি স্থানীয় মিজানুর রহমান কমলের বিরুদ্ধে বিষেধাগার করেন।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান জানান, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
























