• ঢাকা
  • বুধবার, ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২২
সর্বশেষ আপডেট : ২৩ অক্টোবর, ২০২২

পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে ছেলেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ সৎ মায়ের বিরুদ্ধে

অনলাইন ডেস্ক
[sharethis-inline-buttons]

স্টাফ রিপোর্টার॥
পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে ছেলেকে বঞ্চিত করে সম্পত্তি অন্যত্র বিক্রয়ের চেস্টার অভিযোগ উঠেছে হাজীগঞ্জে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারী তার স্বামীর প্রথম ঘরের সন্তানকে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেছে ভূক্তভোগি।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের বেলঘর পাটওয়ারী বাড়ীতে।

জানাযায়. ওই বাড়ীর মৃত তাজুল ইসলাম বিভিন্নভাবে ৪টি বিয়ে করেন। এর মধ্যে প্রথম স্ত্রীর সাথে তালাক না হলেও পরের ২ ও ৩ নং স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তৃতীয় স্ত্রীর ছোট বোন হাসনে আরাকে বিয়ে করেন।

হাসনে আরা বেগমকে বিয়ের পর তার ঘরে ২জন কন্যা সন্তান জন্ম হয়। এক পর্যায়ে তাজুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন। তাজুল ইসলাম মৃত্যুর পূর্বে তার ৪র্থ স্ত্রী ধূর্ত হাসনে আরা প্রথম স্ত্রী ও সন্তানকে কোন সম্পাদ না দিয়ে গোপনে মাঠের জমি ও হাজীগঞ্জ পৌরসভার মধ্যে ৩৪ শতাংস তার নিজের নামে লিখে নেয়। তাজুল ইসলামের মৃত্যুর পর বিভিন্নভাবে বেলঘর মৌজায় ৩৬ শতাংস একই মৌজায় আরো ১২ শতাংস, হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন রান্ধুনীমুড়া এলাকায় ৩৪ শতাংস জমি বিক্রয় করে দেয়।

তাজুল ইসলাম জীবিত থাকাবস্থায় বাবার অছিয়তে বাড়ীতে একটি আধাপাকা বিল্ডিং তৈরী করেন তাজুল ইসলামের প্রথম ঘরের এক মাত্র সন্তান ফেরদৌস আলম বাবু পাটওয়ারী। ওই আধাপাকা ঘর নির্মাণ করার পর তাজুল ইসলাম ২০১০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। পরে বাবু পাটওয়ারী এ বাড়ীতে বসবাস শুরু করেন। পিতা জীবীত থাকাবস্থায় পিতার সকল খরচাদি ও ৪র্থ স্ত্রী এবং তার দু’সন্তানকে লেখাপড়াসহ যাবতীয় খরচও বাবু পাটওয়ারী বহন করে। এমনকি তার ছোট মেয়েকেও বাবু পাটওয়ারীর পরিচয়ে বাবু পাটওয়ারীর মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করে।

সম্প্রতি সময়ে তাজুল ইসলামের চতুর্থ স্ত্রী হাসনে আরা স্থানীয় কিছু কুচক্রীমহলকে সাথে নিয়ে বাবু পাটওয়ারীর পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাতের চেস্টা করে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও করে ওই হাসনে আরা বিষয়টি হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে আদালত থেকে সমাধান করার দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের সাথে নিয়ে সমাধানের লক্ষে কয়েক বসলেও হাসনে আরা দরবারটি মেনে নেইনি।

বাবুল পাটওয়ারী বলেন, আমার সৎ মা দাবী করেন বাড়ীতে বাবার ২২ শতাংস জমি আছে। সেখানে তার মেয়ে ও তিনি অংশিদার। তিনি বলেন, যদি ২২ শতাংস থাকে আমিতো মাত্র ১২ শতাংস দখলে আছে। আমি এ জায়গা ভরাট করেছি, ঘর করেছি। এটা পাড়া-প্রতিবেশী সবাই জানে। তাহলে আমার জায়গায় কেন তারা দাবী করছে? তারা অন্য যেখানে জায়গা আছে, সেখানে যাক।

পাটওয়ারী বাড়ীর মুরব্বি মাওলানা শাহ্ আলম বলেন, আমরা শুনেছি তাজুল ইসলাম পাটওয়ারী তার তৃতীয় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তার বোনকে বিয়ে করেছে। কিন্তু সে কখনো বাড়ীতে আসেনাই। এ পাটওয়ারী বাড়ীর সি এস ১০৯৬, বিএস ৩০৫০ দাগে তাজুল ইসলামের ১৫ শতাংশ জমি আছে, আরো ৭ শতাংস সে ক্রয় করেছে। তার মোট সম্পত্তি ২২ শতাংস। এখন হাসনে আরা যে জায়গা দাবী করছে এটাতো ডোবা ছিল। বাবু পাটওয়ারী এ জায়গা ভরাট করে, সে ঘর করেছে। হাসনে আরা কোন উদ্দেশ্যে বাড়ীতে দখল করতে আসছে, কে তারে এ সাহস দেয়!

একই বাড়ীর মৃত তাজুল ইসলামের আত্মীয় স্বজন তরিকউল্যাহ পাটওয়ারী, কাহার পাটওয়ারী, জাহাঙ্গীর আলম পাটওয়ারী, আবু তাহের পাটওয়ারী বলেন, শরীয়াহ অনুযায়ী বিচার করলেওতো বাবু পাটওয়ারী এক মাত্র ছেলে হিসেবে সব সম্পত্তির অংশিদার। তাহলে ওই নারী কিভাবে এ সম্পদ এককভাবে বিক্রয় করে দিলো।

ওই বাড়ীর গৃহবধু তাহমিনা বেগম বলেন, অনেক কস্ট করে টাকা খরচ করে বাবু পাটওয়ারী পুকুরের পাড় বেঁধে ডোবা ভরাট করে এখানে ঘর করেছে এখন কোথায় থেকে হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসতে চাই, হাসনে আরা। আমরা বাড়ীর বৌ হিসেবে কখনো হাসনে আরাকে দেখিও নাই।

হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কানোনগো মো. লোকমান জানান, আমরা সরেজমিনে তদন্ত করে বসত ঘরে তাজুল ইসলামের ছেলে ফেরদৌস আলম বাবুকে পেয়েছি। সে হিসেবে আমরা শিঘ্রই আমাদের তদন্ত রিপোর্ট আদালতে প্রেরণ করবো।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, ওই সম্পত্তির উপর আদালত ১৪৫ জারি করেছে।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট দেবেন। পরবর্তী হাসনে আরা ওই ভূমির উপর রিসিভার চেয়েছে আদালত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাজীগঞ্জকে রিসিভার নিয়োগ করেছে।

পরবর্তী আদালতে যে সিদ্ধান্ত দেয় সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!

[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন

  • সারা দেশ এর আরও খবর