হাজীগঞ্জের বাকিলায় আবারো চুরির ঘটনা ঘটেছে। এবার নগদ লক্ষাধীক টাকাসহ শতাধীক মোবাইল ফোন চুরি হয়।

গত রোববার দিবাগত রাতের কোন এক সময়ে বাকিলা বাজারের আনোয়ার হোসেন কালুর মোবাইল ফোনের দোকানে এই চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা টিনের চাল কেটে দোকানের ভিতর প্রবেশ করে। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এর আগে গত ২৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোন এক সময়ে বাকিলা বাজারের সাত্তার ষ্টোরের সত্ত্বাধিকারী মামুন মিজির দোকানে থাকা ২২ টি ব্যারেলে থাকা প্রায় সাড়ে চার হাজার লিটার সয়াবিন তেল চুরি ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় মামুন মিজি থানায় অভিযোগ দিলেও কোন চোর আটক বা চুরিকৃত তেল উদ্ধার হয়নি। এতে করে ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভ দিন দিন পুঞ্জীভুত হচ্ছে।

জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে আনোয়ার হোসেন কালুর দোকানের টিনের চাল কেটে দোকানের ভিতর প্রবেশ করে প্রায় শতাধিক মোবাইল ফোন ও নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে যায় চোরেরা। এর আগে প্রায় ৩ মাস আগে একই দোকান থেকে বৈদ্যুতিক ক্যাবল, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা চুরি হয়। তারও আগে গত বছর একই দোকানে মোবাইলসহ বিকাশের সিম চুরির ঘটনায় থানায় সাধারন ডায়েরি করেন এই ব্যবসায়ী।

গত সপ্তাহে বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে খোলা তেল ব্যবসায়ী মনির নামাজ পড়তে গেলে তার ক্যাশে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা চুরি হয়। একই দিন জুমার নামাজের সময় সন্না সড়কে কাঠ ব্যবসায়ী আবু গাজির নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন চুরি হয়। কিছু দিন আগে বাকিলা গরুর বাজার সংলগ্ন নেপালের হলুদ-মরিচ ভাঙ্গানোর দোকান থেকে মরিচের বড় বস্তা চুরি হয়ে যায়।

চুরি যাওয়া সেই মরিচ শাহতলী এলাকা থেকে উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী। গত বছর বাজারের শৈলি গার্মেন্টে টিনের চাল কেটে নগদ টাকাসহ মালামাল চুরি হয়। সেই ঘটনায় এই ব্যবসায়ী থানায় অভিযোগ দিয়েছিলেন কিন্তু কোন চোর আটক বা মালামাল উদ্ধার হয়নি। চুরির বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, এ পর্যন্ত বাকিলা বাজারে যত চুরির ঘটনা ঘটেছে তার কোনটিরই সুরাহা হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী জানান, এই বাজারের ফুটপাত পুরোটাই দখল করে টং দোকান তুলে ভাড়া দিচ্ছে একটি চক্র। আবার সরকারি খাস জমিতে দোকান তুলে ভাড়া দিচ্ছে আরেকটি চক্র। এ ছাড়াও ইজারার গলি দখল করে স্থায়ী, অস্থায়ী দোকান-ঘর তুলে ব্যবসা করেছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। যার ফলে বাজারে কোন শৃঙ্খলা নেই বললেই চলে। তাছাড়া বাজারে মাত্র তিনজন পাহারাদার রয়েছে। তারাও আজ পর্যন্ত একজন চোর ধরতে পারলোনা।

এ বিষয়ে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম পাটোয়ারী জানান, বাজারে চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় নৈশ প্রহরী বাদ দেয়া হয়েছে। এখন থেকে ব্যাবসায়ীরা ভাগ ভাগ হয়ে পাহারা দিবে। নৈশ প্রহরী থাকাবস্থায় ৬০ ভাগ ব্যবসায়ী প্রহরীদের টাকা দিতো না।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, চুরির খবর পেয়ে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিলসহ অন্যান্য অফিসার পাঠানো হয়েছে। তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সহকারে দেখছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Sharing is caring!