চাঁদপুর সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২দিনে ১৩জনের মৃত্যু

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেনের জন্য হাহাকার চলছে। করোনা চিকিৎসায় চাঁদপুর জেলায় একমাত্র এটিই রোগীদের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা। অথচ অক্সিজেন সেবার জন্য করোনায় আক্রান্ত জটিল রোগীরাই পাচ্ছেনা চাহিদানুযায়ী অক্সিজেন। এ অবস্থায় রোগী ও তাদের স্বজনদের পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা পর্যন্ত অসহায় হয়ে পড়েছেন। চাহিদার অর্ধেক অক্সিজেনও সরবরাহ করতে না পেরে হিমসিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) চাঁদপুর সদর হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের চাপে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সরা। রোগীদের চাপ সামলাতে হাসপাতালের ৩য় তলায় নতুনভাবে করোনা ওয়ার্ড চালু করা হলেও শয্যা খালি নেই একটিও। ফলে করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ঠাসঠাসি করে থাকতে হচ্ছে রোগীদের। যার কারনে ফোরে রেখেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে অনেক রোগীদের। করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে বেডের চেয়ে এখন রোগী সংখ্যা অনেক বেশি। যদিও হাসপাতালের আইসোলেশনের বেড ৬০ থেকে ১২০টিতে উন্নিত করা হয়েছে। তারপরও ফরে রেখেই চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সকর্মীরা।

হাজীগঞ্জ উপজেলার জসিম বলেন, অক্সিজেনের জন্য পুরো হাসনপাতাল ঘুরেছি। এক রোগী থেকে অন্য রোগীর কাছে গিয়েছি কিন্তু কেউ অক্সিজেন দেয়নি। নার্সদের কাছে গিয়েও কোন সহযোগিতা পাইনি। শেষ পর্যন্ত অক্সিজেনের অভাবে আমার বাবাবে হারিয়েছি।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার উবায়েদ উল্লাহ বলেন, করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেন সমস্যা নিয়ে কোন কথা বলা যায় না। এক রোগীর কাছ থেকে আরেক রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। এখানে কোন চিকিৎসাই আমরা পাচ্ছি না। আমাদের রোগীকে ঢাকা নিয়ে যেতে বলছে নার্স ও চিকিৎসকরা। আমরা এম্বুলেন্স চালকদের সাথে কথা বলেছি, তারা বলেছে ২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে রোগী নিতে হবে। তার জন্য ১০ হাজার টাকা খরচ হবে। আমরা গরিব মানুষ ১০ হাজার টাকা দিয়ে যদি রোগী নিতেই লাগে, তাহলে বাকি টাকা জোগার করে চিকিৎসা করাবো কিভাবে। পরিবার আর আমার শিশু সন্তানের কান্না আর সহ্য হয় না।

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, সারাদেশের অন্যান্য জেলার মধ্যে চাঁদপুরে করোনা আক্রান্ত রোগী বেড়ে চলছে। যার কারনে অক্সিজেনের সংকট দেখা দিয়েছে। আমাদের যা রয়েছে, তা দিয়েই সাধ্যমত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রোগীদের অক্সিজেনের যে রকম চাহিদা রয়েছে, তা মেটাতে আমাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬০০ লিটার (২ লিটারের ২০০টি ও ২৫ লিটারের ৮টি) অক্সিজেন প্রয়োজন। সেখানে আমরা আবুল খায়ের গ্রুপ থেকে ১১০ লিটার এবং কুমিল্লা থেকে সরকারিভাবে ৬০ লিটার অক্সিজেন পেয়েছি। দ্রুত আমাদের অক্সিজেন প্লান্টটি শুরু হলে, করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেন সমস্যা নিরসন হবে।

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হাবিব উল করিম বলেন, ঈদের পর থেকে করনো ওয়ার্ডে রোগী বাড়তে থাকে। সবাই কিন্তু শরীর খারাপ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। প্রতিদিন দেড় শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। যারা ভর্তি হন, তাদের সকলেরই অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। আমাদের যে পরিমান অক্সিজেন রয়েছে, তা দিয়ে সকল রোগীদে অক্সিজেন দিতে সমস্যা হয়ে যায়। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করছি যাতে সবাই চাহিদামত অক্সিজেন পায়। আমাদের লিকুইড অক্সিজেনের কাজ প্রায় শেষ। আশা করি খুব দ্রুত অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারবো।

Sharing is caring!