বাজারে গরু আছে ক্রেতা নেই! কম দামে গরু ছেড়ে দিচ্ছে বিক্রেতারা

রাত পোহালেই ঈদ। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে শেষ মুহূর্তের বেচাকেনায় ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতারা। তবে দাম নিয়ে হতাশা বিক্রেতাদের কণ্ঠে। তারা বলছেন, হাটে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও সে অনুযায়ী ক্রেতা নেই, যারা আসছেন দামও বলছেন কম। ফলে বাধ্য হয়ে ‘কম দামেই’ গরু বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। আবার অনেকেই আর্থিক ক্ষতি কমাতে পশু ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আজ মঙ্গলবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে এমনি চিত্র দেখা দেছে। একই অবস্থা ঢাকা নগরীর কোরবানির পশুর হাট ঘুরেও এমন চিত্র দেখা গেছে। সকালে শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘের মাঠে গিয়ে দেখা গেছে হাটের নির্ধারিত এলাকা ছাড়িয়ে আশপাশের মানুষের বাসা বাড়ির সামনেও গরু বাঁধা হয়েছে। বৃষ্টিতে পুরো হাট এলাকা কাঁদামাটি আর পশুর মলমূত্রে একাকার হয়ে গেছে। হাটে বিক্রেতা থাকলেও ক্রেতাদের তেমন দেখা নেই। ইজারাদার তার মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলছেন, পশুরু হাটে পর্যন্ত গরু রয়েছে। তিনি পশু কেনার জন্য ক্রেতাদের আহ্বান জানাচ্ছেন।

চাঁদপুর সফরমালি বাজারের গরু ব্যবসায়ী আবদুর রহিম জানান, বাজারে ১৫টি গরু এনেছি। ৫টি বিক্রয় হয়েছে। বাকী ১০টির দাম নেই বললেই চলে।

ঝিনাইদহ থেকে গরু নিয়ে এসেছেন সিরাজ মিয়া। তিনি বলেন, গত ১৫ জুলাই বাড় ছোট মিলিয়ে ১৬টি গুরু নিয়ে হাটে এসেছেন। এর মধ্যে ১০টি গরু তার বিক্রি হয়েছে। সেগুলোতেও প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম পাননি। তাতে যা আয় হয়েছে তা দিয়ে গরু লালন-পালনের ব্যয় উঠবে না বলেও দাবি করেন তিনি। আর বাকি ৬টি গরু নিয়ে তখনও অপেক্ষায় রয়েছেন। ভালো দাম না পেলে গরু নিয়ে বাড়িতে চলে যাবেন বলে জানান তিনি। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যে পরিমাণ ক্রেতা আছে তাতে পশুগুলো বিক্রি হবে বলে মনে হচ্ছে না।

মেরাদিয়া হাটে আসা গরু ব্যবসায়ী আকবর আলী বলেন, ১২টি গরু নিয়ে এসেছি। কিন্তু ক্রেতারা পর্যাপ্ত দাম বলছেন না। এর মধ্যে ছয়টি গরু বিক্রি হয়েছে, আশা করছি বাকি ছয়টিও বিক্রি হবে। কিন্তু দাম তো পাচ্ছি না। যেই গরু গ্রামের বাড়ি থেকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে এনেছি, সেটি এখনে ৭০ হাজার টাকার বেশি বলছে না। প্রথম দুই দিন যে দাম দেখেছি আজ সেই দামও নেই।

তিনি আরও বলেন, গত দুই বছর গরু নিয়ে যে পরিমাণ কাড়াকাড়ি ছিলো, এবছর তার উল্টোটা দেখা গেছে। কারণ দেশে পর্যাপ্ত গরু রয়েছে। করোনাকালে মানুষ বাড়িতে গরু মহিষ পালন করতে পেরেছে। ট্রাকের পাশাপাশি ট্রেনেও গরু এসেছে। আগের মতো কোথাও তেমন কোনও চাঁদাবাজি হয়নি। সেজন্য পশুরও সংকট নেই এবার। সেই তুলনায় এবছর ক্রেতা সংকট রয়েছে। করোনার কারণে মানুষের কাছে টাকা-পয়সা নেই। অনেকেই কোরবানি দিচ্ছেন না। যারা অন্য বছর বড় গরু দিয়ে কোরবানি দিতো তারা এবছর ছোট গরু দিয়ে দিচ্ছে। আবার অনেকেই ছাগল দিয়েই শেষ করছে।

বনশ্রীর বাসিন্দা হাজী আশরাফুল ইসলাম মেরাদিয়া হাট ঘুরে এসে আফতাবনগর হাট থেকে একটি গরু কিনেছেন। মাঝারি আকারের একটি গরু দাম পড়েছে ৭০ হাজার টাকা। এতে তিনি যেমন খুশি, তার ক্রেতাকেও খুশি দেখা গেছে। আশরাফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা চাই না কোনও খামারি বা কৃষক তার গরুটি কম দামে বিক্রি করুক। তারাও যেন যথাযথ দাম পায় সেদিকেই আমাদের ক্রেতাদের খেয়াল রাখা উচিত। কারণ তারা খুশি থাকলে আল্লাহও খুশি থাকবেন।

উত্তর সিটি করপোরেশনের রূপনগর হাট ঘুরে এসেছেন সাংবাদিক রুমানা জামান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অনেক কম দামেই এই হাটে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। অনেকেই দাম না পাওয়ায় বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এর কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, করোনার কারণে অনেক মানুষ এবছর কোরবানি দিচ্ছেন না। আবার অনেকেই যারা বড় গরু দিয়ে কোরবানি দেন তারাও এবার ছোট গরু দিচ্ছেন। হাটে পর্যাপ্ত গরু থাকলেও ক্রেতা নেই। তাছাড়া দীর্ঘ ছুটি পাওয়ায় অনেক কোরবানি দাতা এবার গ্রামে চলে গেছেন। তারা গ্রামেই কোরবানি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

Sharing is caring!