মহামারিকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপনের পরামর্শ দিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সংক্রমণে হার বেড়ে গেলে ১০ থেকে ১৫ হাজার শয্যার পরিবর্তে যদি ৪০ হাজার রোগী হয়, তখন সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে না। কাজেই সমালোচনা যাই করেন, বাস্তবতা এটাই।

শনিবার (১৭ জুলাই) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলমের লেখা সার্জারি বিষয়ক ‘খুরশীদস ডিকোডিং সার্জারি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। ধর্মীয় একটা বিষয় থাকে। জীবন-জীবিকার একটা বিষয় রয়েছে। সবকিছু বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই (লকডাউন শিথিল) নির্দেশনা দিয়েছেন। আশা করি, ঈদের এই কয়েকটা দিন আমরা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলব।

জাহিদ মালেক বলেন, দেশে করোনা রোগীর চিকিৎসায় ১৫ হাজার শয্যা রয়েছে। সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে এরই মধ্যে এসব শয্যা রোগীতে প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। ঈদের এই কয়েকটা দিনের মধ্যে আশা করব, যাতে সংক্রমণটা বৃদ্ধি না পায়। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মনে ঢাকায় ফিরবেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে হাসপাতালের শয্যা প্রায় শেষ হয়ে আসছে। সেবা দিতে দিতে চিকিৎসকরাও ক্লান্ত। প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন নির্দেশনা দিচ্ছেন। তার নির্দেশনায় নতুন আরও চার হাজার চিকিৎসক নিয়োগ হচ্ছে। চার হাজার নার্স নিয়োগ হচ্ছে।

তবে আমার যতই নিয়োগ দেই না কেনো, সংক্রমণে হার তিন-চারগুণ বেড়ে যায়। যদি ১০ থেকে ১৫ হাজার শয্যার পরিবর্তে ৪০ হাজার রোগী হয়, তখন সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে না। কাজেই সমালোচনা যাই করেন, বাস্তবতা এটাই।

তিনি বলেন, অনেকেই আমাদের অনেকভাবে সমালোচনা করেন। কিন্তু চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে হাসপাতালে। যারা সমালোচক তারা হাসপাতালে এসে চিকিৎসা দিচ্ছে না। সমালোচনা না করে কীভাবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা নিয়ে কাজ করা উচিত।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সচিব আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেনসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের সার্জানরা অংশ নেন।

Sharing is caring!