গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতারের আগে পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা অভিযোগের জবাবে নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, সেদিন পরীমণি জোর করে দামি মদ নিতে গেলে বাধা দিয়েছিলেন তিনি, তাতে এই অভিনেত্রী উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘তারা তো নিতে পারে না, তারা তো মেম্বার না। আমি জাস্ট তাদের বাধা দিয়েছি, এটা নেওয়া যাবে না। এটা বিক্রিযোগ্য না। এরপরই সে (পরীমণি) উত্তেজিত হয়ে যায়। তারপর সে আমাকে গালাগালি শুরু করে। আমার স্টাফরা তাকে থামানোর চেষ্টা করে’। পরীমণির সঙ্গীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন বলেও পাল্টা অভিযোগ নাসির ইউ মাহমুদের।

এ ব্যবসায়াী বলেন, সেদিনের ঘটনায় প্রতিবেদন ক্লাবকে দেওয়া হয়েছিল।

নাসির বলেন, পরের দিনই আমাদের ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী রিপোর্ট করা হয়েছে। আমাদের স্টাফরা লিখিতভাবে সব রিপোর্ট দিয়েছে।

তিনি বলেন, পরিমণির সঙ্গে যে ছেলেগুলো ছিল, সে আমাকে চড় থাপ্পড় দেয়, ও (পরীমণি) গ্লাস মারলে আমার ঘাড়ে লাগে। এই অবস্থায় আমার সিকিউরিটিদের আমি নির্দেশ দেই, সিকিউরিটিরা তাকে নিয়ে যায়’ যোগ করেন নাসির।

এ সময় পরীমণি মাতাল ছিলেন বলে দাবি করেন নাসির।

এদিকে সোমবার পরীমণির করা মামলায় প্রধান আসামিসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। উত্তরার একটি বহুতল ভবন থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে তুহিন সিদ্দিকী অমি নাসির উদ্দিনের বন্ধু। গ্রেফতারদের মধ্যে অপর তিনজন কম বয়সী নারী। পুলিশ জানিয়েছে ফূর্তি করার জন্য তাদের ব্যবহার করতেন নাসির ইউ মাহমুদ।

এর আগে পরীমণিকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাটি কারও নাম উল্লেখ না করে ফেসবুকে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। সেখানে এই ঘটনার বিচার চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। এর পরের দিন রোববার তিনি বনানীর বাসায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে ঢাকা বোট ক্লাবের নির্বাহী সদস্য ও ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদের নাম উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুন উত্তরার পাশের বিরুলিয়ার ঢাকা বোট ক্লাবে নায়িকা পরিমণির উপর চড়াও হন নাসির ইউ আহমেদ। এ সময় তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

Sharing is caring!