হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মুখে তুলি ফার্মেসী। ফার্মেসির মালিক মফিজুল ইসলাম নিজেই দিচ্ছেন একজন টেকনিশিয়ানে সার্ভিস। তার কাজ কম্পিউটারে রিপোর্ট প্রদান করা। প্যাথলজীর পড়ালেখার বালাই নেই। ফার্মেসির আলমীরাতে ওষুধ সাজানো থাকলেও ভেতরে একটি কম্পিউটার ও একটি পিন্টার এবং একটি ফটোকপি মেশিন রয়েছে।
প্রশাসন থেকে কেউ আসলে বাহিরে ফার্মেসি ভিতরে ফটোকপি। এভাবে কেউ আসলে তালবাহানা করে চালিয়ে যাচ্ছেন রমরমা ফ্যাথলজী ব্যবসা।

সোমবার অনুসন্ধানে গিয়ে এই সংবাদকর্মী নিজেই তার পরীক্ষার জন্য ভিতরে প্রবেশ করে। সংবাদকর্মী মাত্র দুই মিনিটে তার ব্লাড পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেয়ে হতভম্ব।

যেখানে বসে ঔষধ বিক্রি করে, টাকা লেনদেন হয়, সেখানে বসেই ব্লাড টেনে, সেখানেই পরীক্ষা করে। ভিতরের রুমের কম্পিউটার থেকে রিপোর্ট প্রদান করে।
অবাক করা কান্ড হলো স্থানীয় তুলি ফার্মেসীর ভিতর যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, আর সেখানে বসে প্যাডের মধ্যে দেওয়া হয়েছে দি ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই বছর আগেই দি ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সত্যতা পাওয়ার পর সোমবার হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা সোহেব আহম্মেদ চিশতীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।

তাৎক্ষণিক হাজীগঞ্জ উপজেলার স্যানিটারী ইন্সপেক্টর সামছুল ইসলাম রমিজ ও সহকারী কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে এসে এই তুলি ফার্মেসীতে অনিয়মের তালিকা তৈরি করেন।

পরবর্তীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সমন্বয়ে তুলি ফার্মেসীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

তুলি ফার্মেসীর মালিক মফিজুল ইসলাম প্রথমে সবকিছু অস্বীকার করলেও পরে গোপন ভিডিও ও তথ্য বিবরণী উপস্থাপন করলে তিনিও সত্যতা স্বীকার করেন। পরে তিনি তার ভুলের জন্য অনুশোচনা করে বলেন, তিনি আর কখনো এই ফার্মেসিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ করবেন না।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক শামছুল ইসলাম রমিজ বলেন, আমরা সকল তথ্য সংগ্রহ করছি। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!