ইসরাইল একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র এবং এর সেনাবাহিনীও সন্ত্রাসী বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলি সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া সেনাবাহিনীর স্নাইপার নাদাভ ওয়েইম্যান।

তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বীভৎসতা বর্ণনা করেন এভাবে- “আমরা একদিন মধ্য রাতে জেনিন শরণার্থী শিবিরে এক নিষ্পাপ ফিলিস্তিনির ঘরে হামলা করি। তাদের ঘর তছনছ করে দেই।’

তিনি বলতে থাকেন- “তখন আমি ছিলাম ২০ বছরের যুবক। আমি দেশপ্রেমের নেশায় অন্ধ ছিলাম। কিন্তু অনেক পরে আমার বোধোদয় হয় যে আমরা শুধু ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কর্তৃত্ব রক্ষার জন্য গভীর রাতে নিরীহ মানুষের ওপর আক্রমণ করছি। এখনো আমার চোখে ভাসে সেই পরবারটির করুণ আহাজারি, মায়ের কোলে অবুঝ শিশু, আর বন্দুকের নলের সামনে বাবার শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর আর্তনাদ।”

তিনি বলেন, “যখন ফিলিস্তিনে ইসরায়েলী দখলদারিত্বের কথা বলা হয় তখন হয়তো আপনাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে সেনাবাহিনীর কিছু চেকপোস্ট অথবা ফিলিস্তিনিদের আলাদা করে রাখা কিছু উঁচু দেয়াল। কিন্তু আমার চোখের সামনে ভেসে উঠে সেই ফিলিস্তিনি শিশুটির মুখ যাকে গ্রেফতার করার জন্য গভীর রাতে ঘুমের ঘরে আমরা তার ওপর হামলা চালাই। ভেসে উঠে সেই মায়ের মুখ যার বুক থেকে কেড়ে নেই তার সন্তান এবং সেই বাবার মুখ যার সামনে গুঁড়িয়ে দেই তার ভিটে মাটি।’

এগুলো ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সাবেক এক অফিসারের স্বীকারোক্তি। যিনি তার কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা করছেন। সেনাবাহিনী ছেড়ে দিয়ে এখন বিশ্বের নানা প্রান্তে ইসরাইলি বর্বরতার বিরুদ্ধে জনমত গঠন করছেন। এরকম আরও বহু ইসরাইলি সেনা অফিসার আছেন যারা তাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত। যাদের বর্ণনায় বেড়িয়ে আসে ইসরাইলি বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বীভৎস রূপ।

তারাই বলেন এ বাহিনীটি একটি সন্ত্রাসী বাহিনী এবং এই রাষ্ট্রটি একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র।

পশ্চিমাদের মদদে আর মুসলিম বিশ্বের নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় রক্তের নেশায় মেতে উঠেছিল যে ইসরাইলি হানাদার বাহিনী সেই প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ২৬০ জনের লাশ পেয়েই অবশেষে খ্যান্ত দিলেন। অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলো ইসরাইল এবং হামাস। অবসান হলো এক রক্তপিপাসু হায়েনার নৃশংস তাণ্ডব। রক্তাক্ত গাজা ভূখণ্ডে শেষ হলো ইসরাইলের ১১ দিনের ধ্বংসযজ্ঞ। মানবতাবিরোধী অপরাধের আপাতত ইতি টানলেন নেতানিয়াহু। তবে আবার যে কোনো সময় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে পারেন তার সন্ত্রাসী বাহিনী।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরে উভয়পক্ষই নিজেকে বিজয়ী বলে দাবি করছে। এই যুদ্ধে কে বিজয়ী আর কে পরাজিত সে আলোচনায় একটু পরে আসছি। তবে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মদদে ইসরাইলি সন্ত্রাসী বাহিনী মানবতাবিরোধী যে অপরাধ সংঘটিত করল তার বিচার হবে কোন আদালতে?

গাজা ভূখণ্ডে প্রায় দুই হাজার হাউজিং ইউনিট, ৭৪টি সরকারি ভবন, ৩টি মজসিদ পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এছাড়াও ১৬৮০০ হাউজিং ইউনিট, ৬৬টি স্কুল, ৪০টি মসজিদ আংশিক ধসে গেছে তাদের বোমার আঘাতে। সেখানকার পুলিশ হেড কোয়ার্টারও ধ্বংস হয়ে গেছে। ১৩ তলাবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক মিডিয়া ভবনটি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ইন্টারনেট সেবাদানকারী বহুতল ভবনটি বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি হায়েনারা। গাজা ভূখণ্ডে বিশাল এলাকা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে এক লাখ ২০ হাজার মানুষ। অন্যদিকে ২৫৯ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। যাদের ৬৫ জন শিশু, ৩৯ জন নারী এবং ১৭ জন বয়স্ক মানুষ। সমূলে শেষ করে দেওয়া হয়েছে বহু পরিবারকে। আট হাজার লোক আহত হয়েছেন। হাসপাতালগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ইলেকট্রিক পাওয়ার সিস্টেম ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এগুলো কি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ নয়? এগুলোর বিচার কি হওয়া উচিত নয়?

আর ইসরাইলি বাহিনী যে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন সে কথা অনেক সাবেক ইসরাইলি সেনা কর্মকর্তাই বলেছেন। তারা কোনো রাখঢাক ছাড়া স্পষ্টই বলেন যে, ইসরাইলের সরকার, তার সেনাবাহিনী এবং সেনা কর্মকর্তারা যুদ্ধাপরাধী। তাদের বিচার হওয়া উচিত।

যাই হোক, ১১ দিনের মাথায় বন্ধ হলো ইসরাইলের এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস।

এই যুদ্ধে কে জিতল? 

যুদ্ধে আসলে মূলত বিজয় হয় আজরাইলের। কারণ দুই পক্ষ থেকেই প্রচুর মানুষ মারা যায়। তবে এখানে আমি মূল্যায়ন করব- ইসরাইল, ফিলিস্তিন, মুসলিম বিশ্ব, আরব বিশ্ব এবং তুরস্কের এরদোগানকে। এ যুদ্ধে তাদের কে কতটুকু জিতেছেন কতটুকু হেরেছেন।

ইসরাইল ও নেতানিয়াহু 

এই যুদ্ধে নেতানিয়াহু কিছুটা জিতেছেন আবার কিছুটা হেরেছেন। জিতলেন কারণ তিনি দেশের মধ্যে এবং দেশের বাইরে বিশেষ করে ইউরোপ এবং আমেরিকাতে তার পক্ষে সাপোর্ট বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন। এ ঘটনার পরে হয়তো মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। বাইডেন তো অলরেডি ঘোষণাই দিয়েছেন যে ইসরাইলের আয়রন ডোম-মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনরায় গড়ে তুলতে সাহায্য করবে যুক্তরাষ্ট্র। আসলে এ ঘোষণার মাধ্যমে খোদ আমেরিকার প্রেসিডেন্টও স্বীকার করলেন যে ইসরাইলের এই মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামাসের রকেট হামলার বিরুদ্ধে যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আবার নেতানিয়াহু হেরেছেন। কারণ তিনি তার ওই বর্বর হামলাকে সারা দুনিয়ার কাছে হামাসের তথাকথিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে “ইসরাইলিদের আত্মরক্ষা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার যে ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলেন তা শুধু আমেরিকা এবং ইউরোপের কিছু ইসরাইল প্রেমিক দেশ ছাড়া আর কেউই বিশ্বাস করেনি। আর বিশ্বের কাছে হামাসকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উপস্থাপন করার যে চেষ্টা তিনি করেছিলেন তাতেও সফল হননি নেতানিয়াহু।

ফিলিস্তিন ও হামাস 

আবার ফিলিস্তিনিদের কথা যদি বলি। এই যুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা হারিয়েছেন অনেক কিছু। একদিকে নিরীহ মানুষের মৃত্যুর মিছিল, অন্যদিকে বাড়িঘরের বিশাল ধ্বংসস্তূপ। তবে তারা পেয়েছেনও অনেক কিছু।

হামাস তাদের নতুন স্টাইলের রকেট হামলার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করল এই যুদ্ধে। তারা এই যুদ্ধ বিরতিকে আনন্দজনক বিজয় হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে এ যুদ্ধের ফলে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আত্মকলহের কিছুটা হলেও অবসান হবে। অর্থাৎ পশ্চিম তীরে ক্ষমতায় থাকা মাহমুদ আব্বাসের দল ফাতাহ এবং গাজা ভূখণ্ডে ক্ষমতায় থাকা হামাসের মধ্যকার দূরত্ব কিছুটা হলেও কমে আসবে।

অন্যদিকে মিসরের সাথে গাজা ভূখণ্ডের সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হবে এই যুদ্ধ। মিসর এখন থেকে গাজাবাসীর আরেকটু সদয় হবে। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে এবারই প্রথম মিসরের সঙ্গে গাজার রাফাহ সীমান্ত খুলে দেয়া হয়।

আবার এ যুদ্ধের মাধ্যমে সারা বিশ্ব আবারো নগ্ন চোখে দেখল যে গাজা ভূখণ্ডে লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে অবরোধ করে রেখে তাদের সাথে কী অমানবিক আচরণই না করছে ইসরাইল! তাই এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সারা বিশ্বে সমর্থন আরেকটু বেড়ে গেল।

আর ফিলিস্তিনিদের সবচেয়ে বড় বিজয় হলো তাদের মনোবল। সারা বিশ্ব যখন তাদের আধুনিক সব অস্ত্রের সামনে ঠেলে দিয়ে ইসরাইলের তাণ্ডব আর তামাশা দেখায় ব্যস্ত, তখন এই ফিলিস্তিনিরা বৃষ্টির মতো বোমা বর্ষণের পরেও কিন্তু মনোবল হারাননি। এটিই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় বিজয়।

আপনি যখন সামরিক দিক থেকে দুর্বল থাকবেন যুদ্ধবিরতি তখন প্রতিপক্ষের চেয়ে আপনারই বেশি দরকার। কারণ এতে বেঁচে যাবে অনেক নিরীহ মানুষ। এদিক থেকে মূল্যায়ন করলে যুদ্ধবিরতিতে হামাস তথা ফিলিস্তিনিদেরই লাভ। আর এ কারণেই হাজার হাজার ফিলিস্তিনি রাস্তায় নেমে বিজয় উল্লাস করছে।

মুসলিম বিশ্ব

মুসলিম বিশ্ব হেরে গেছে। কারণ ইসরাইলের বিরুদ্ধে শক্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে গত কয়েক বছর ধরে মুসলিম বিশ্বে নিজেদের মধ্যে যে বিবাদে জড়িয়ে ছিল, এ আক্রমণের কারণে তারা কিছুটা হলেও নিজেদের মধ্যে এই কলহ বিবাদ ছেড়ে ফিলিস্তিন ইস্যুতে অন্তত এক জায়গায় আসতে পেরেছেন। যদিও তাড়া শক্ত কোনো বিবৃতি দিতে পারেননি বা অ্যাকশনও নেয়নি। তারপরও যে এক-আধটু বিবৃতি দিয়েছেন তাই বা কম কী? নাই মামার চেয়ে কানা মামা তো ভালো।

আর ফিলিস্তিনের বাইরে এই যুদ্ধের আসল বিজয়ী হলেন তারা, যারা বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনের পক্ষে তাদের অবস্থান ঘোষণা করেছেন, রাস্তায় নেমেছেন, বিক্ষোভ করেছেন। তাদের দেশের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চেয়েছেন। এমনকি যারা কোনো কিছু না করতে পেরে শুধু দোয়া করেছেন তারাও বিজয়ী।

আরব বিশ্ব 

আর এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় পরাজয় হয়েছে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর। তারা আরও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারতো ইসরাইলের বিরুদ্ধে। কিন্তু পারেননি। আমি তাদের সামরিক আক্রমণের কথা বলছি না। কারণ তাদের সে শক্তি, সাহস, সামর্থ্য নেই। কিন্তু তারা আরও শক্ত এবং কড়া বিবৃতি নিয়ে আসতে পারত। এ নিয়ে এর আগেও লিখেছি।

এরদোগান ও তুরস্ক 

আর এ যুদ্ধে তুরস্কের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন অনেকে। এ বিষয়েও আমি অনেকবার লিখেছি। সেগুলোতে আলোচনা করেছিলাম কেন তুরস্ক কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবে না।

তারপরও এ যুদ্ধে বরাবরের মতো তুরস্ক ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তুরস্কের রাষ্ট্রপতি এরদোগান সারা মুসলিম বিশ্বকে এবং পশ্চিমা বিবেককে জাগিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন। কয়েক ডজন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে ফোন করে ইসরাইলের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। ফিলিস্তিন ও আল আকসা মসজিদ রক্ষার জন্য নতুন প্রস্তাব পেশ করেছেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে। যদিও খুব বেশি কোনো ফল পাননি এসব পদক্ষেপে। তবে এর মাধ্যমে তিনি আবারো জয় করলেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি এবং সাধারণ মানুষের মন।
অন্যদিক দিয়ে বিবেচনা করলে এরদোগান এই যুদ্ধে হেরেও গেলেন। কারণ তার কাছ থেকে বিশ্বের সাধারণ মানুষ ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানোর আশা পোষণ করেছিল। কিন্তু তিনি তাদের সে আশা পূরণ করতে পারেননি। তাই তিনি হেরে গেলেন সাধারণ মানুষের দাবির কাছে।

যুদ্ধবিরতি কতদিন চলবে? 

এ যুদ্ধবিরতি ততদিনই চলবে ইসরাইল যতদিন ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালানো বন্ধ রাখবে। আর এ যুদ্ধবিরতির মনিটরিং করবে মিসর। এর মাধ্যমে মূলত মিসর অনেক দিন পর ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে আবার সামনে এলো। মিসরকে কৌশলে সামনে নিয়ে আসা হলো।

যদিও এ যুদ্ধবিরতির চুক্তি নিয়ে কোনো পক্ষ থেকেই বিস্তারিত কোনো তথ্য শেয়ার করা হয়নি। ইসরাইল শুধুমাত্র বলেছে এ যুদ্ধ বিরতি হবে- দ্বিপক্ষীয় ও শর্তহীন।’ এর বেশি কিছু না। তাই এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।

জয়-পরাজয়ের এ হিসাব নিয়ে যতই আলোচনা করব লেখা ততই দীর্ঘায়িত হবে। কিন্তু এক কোথায় বলতে গেলে- এই যুদ্ধবিরতি একটি বিজয়। বড় একটি বিজয়। এ বিজয় ফিলিস্তিনি নিরীহ মানুষের বিজয়। মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের বিজয়। বাতিলের বিরুদ্ধে হকের বিজয়।

Sharing is caring!