বৈশ্বিক মহামারি করোনার উধ্র্বগতির কারণে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মাঝ পথে বন্ধ হয়েগেছে। এতে বিপাকে পড়েছে বিদেশী খেলোয়াড়রা। তবে বিদেশী খেলোয়াড়দের সুরক্ষিতভাবে দেশে পৌঁছানোর দায়িত্ব নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডি। তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সেরা দুই খেলোয়াড় সাকিব-মোস্তাফিজকে ঢাকায় পৌঁছানোর দায়িত্ব নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ‍সুরক্ষিত ভাবেই তাদের দেশে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে তারা।

বড় ধরনের আর্থিক লোকসান এড়াতে করোনা সংক্রমণের মধ্যেই বাড়তি ঝুঁকি নিয়ে শুরু হয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)।

ভারতে করোনা পরিস্থিতি তুলনামূলক বেশি খারাপ হওয়ায় টি-টোয়েন্টির এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই বন্ধের দাবি ওঠে। পাকিস্তানের সাবেক তারকা ক্রিকেটার শোয়েব আখতারসহ অনেকেই করোনা পরিস্থিতে আইপিএল বন্ধের পরামর্শ দেন।

কিন্তু বড় ধরনের অর্থ আয়ের চিন্তায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আইপিএল চালিয়ে যায় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)।

আইপিএলের মাঝ পথেই একের পর এক খবর প্রকাশিত হতে থাকে আক্রান্ত হয়েছেন সাকিব আল হাসানদের কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) দুই তারকা ক্রিকেটার। এরপর করোনা পজেটিভ হন মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বাধীন চেন্নাই সুপার কিংসের বোলিং কোচসহ তিন সদস্য।

কেকেআরে করোনা সংক্রমণ হওয়ার পরই নাইট রাইডার্স ও বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মধ্যকার সোমবারের ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়।

এরপর সংবাদ আসে দিল্লি ক্যাপিটালস এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদের দুই তারকা ক্রিকেটার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

ক্রিকেটাররা একের পর এক করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন এমন সংবাদ প্রকাশ হতেই নড়েচড়ে বসে আইপিএল কর্তৃপক্ষ। অবশেষে মঙ্গলবার অনির্দিষ্ট সময়ে জন্য আইপিএল স্থগিত করা হয়।

আইপিএল স্থগিত হওয়ায় স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে বিদেশি ক্রিকেটারদের কি অবস্থা হবে?

ভারতে করোনা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক বিমান চলাচল বন্ধের আগেই দেশে ফিরে যান অস্ট্রেলিয়ান তিন তারকা ক্রিকেটার। কিন্তু ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথ ও ক্রিস লিনসহ অসি অনেক তারকা তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে ভারতে থেকে যান।

ক্রিস লিন অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে দাবি জানান আগামী ১৫ মে পর্যন্ত ভারত থেকে কোনো ফ্লাইট অস্ট্রেলিয়ায় আসা-যাওয়া নিষিদ্ধ হলেও সরকার যেন আইপিএল শেষে তাদের চার্টাড ফ্লাইটে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে।

ক্রিস লিনের এমন দাবির প্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, খেলোয়াড়দের দেশে ফেরার ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে। ক্রিকেটাররা ভারত গিয়েছে ব্যক্তিগত উদ্যোগে। এটা অস্ট্রেলিয়া দলের সফরের অংশ ছিল না।

অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পরই হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়া বিদেশি ক্রিকেটাদের সাহস জুগিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যাপারে আশ্বস্থ করে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বাধীন বোর্ড জানায় ক্রিকেটারদের দেশে ফেরানোর সব ব্যবস্থা করবে বিসিসিআই।

আইপিএল অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদেশি ক্রিকেটারদের দেশে ফেরানোর ব্যাপারে ইতিমধ্যে পদক্ষে নিতে শুরু করেছে ভারত।

বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব খেলোয়াড়কে বাড়ি ফেরানো হচ্ছে। বিসিসিআই তাদের সাধ্যমতো সব ব্যবস্থা করছে। যাতে আইপিএলে অংশ গ্রহণকারীরা সুরক্ষিতভাবে বাড়ি পাঠানো যায়।

Sharing is caring!