মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, চীন সম্প্রতি ‘বিদেশে আরও আগ্রাসী ভূমিকা’ নিয়েছে এবং ক্রমেই ‘দ্বন্দ্বনির্ভর আচরণ বাড়িয়ে’ দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সিবিএস নিউজের অনুষ্ঠান ‘সিক্সটি মিনিট্স’-এ বাইডেন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সময় রবিবার টেলিভিশনে প্রচার হয়। খবর রয়টার্স।

বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেন, সেটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের স্বার্থবিরোধী। গত কয়েক বছরে আমরা যা দেখেছি, চীন দেশে সংবরণমূলক এবং বাইরে আগ্রাসী মনোভাব দেখিয়ে আসছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য গোপনীয়তার কয়েক হাজার কোটি ডলার ও মেধাস্বত্ব চুরির বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে ব্লিনকেন বলেন, মেধাস্বত্ব অধিকার ইস্যুতে বাইডেন প্রশাসনের ‘বিশেষ নজর’ রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মনে হচ্ছে, কেউ ক্রমাগত দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পন্থায় অন্যায্যভাবে লড়াইয়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। এটা চলতে পারে না, এভাবে চলবে না।

রবিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রশাসনের বিবৃতিতে বলা হয়, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র-চীন সাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ‘প্রথম ধাপে’ যুক্তরাষ্ট্রের মেধাস্বত্ব রক্ষায় ঘাটতি দেখিয়েছে চীন।

গত বছর বেইজিং ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে সমঝোতা হয়। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিভিত্তিক জৈবপ্রযুক্তি খাতের নিয়ন্ত্রণ এবং দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানির শর্ত রয়েছে।

এদিকে ব্লিনকেন জি৭ রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে রবিবার লন্ডনে পৌঁছেছেন। সেখানেও চীন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতাকে নিজের প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ক্ষমতা নেওয়ার পর গত বুধবার কংগ্রেস প্রথম বক্তৃতা করেন তিনি। সেখানে বাইডেন বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে প্রযুক্তিগত সামর্থ্য বাড়ানো হবে।

Sharing is caring!