করোনা গুজব উড়িয়ে বৃহস্পতিবারই (২৯ এপ্রিল) কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট দিয়ে এসেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। আর শুক্রবারই (৩০ এপ্রিল) নরেন্দ্র মোদির তারকা সেনাপতির মুখে আসানসোল দক্ষিণের বিজেপিপ্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের ভূয়সী প্রশংসা। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পদ্ম ফুল ফোটার বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত মিঠুন। সেই সঙ্গে অগ্নিমিত্রার উদ্দেশেও তার দরাজ সার্টিফিকেট।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার দুপুরে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে অগ্নিমিত্রা পালের সমর্থনে নেটমাধ্যমে সরাসরি মুখ খুললেন মহাগুরু। কী বললেন বিজেপি সদস্য? শুরু থেকেই তিনি স্বমহিমায়, ‘নমস্কার, আমি মিঠুন চক্রবর্তী। মিঠুনদা…।’

তার পরেই জানালেন, অগ্নিমিত্রার সমর্থনে তার সভা করার কথা ছিল। কিন্তু অতিমারির দাপটে নিয়মনীতি বাড়ায় বাধ্য হয়ে তিনি পিছিয়ে এসেছেন। মিঠুনের কথায়, ‘আমি অগ্নির সভায় আসতে পারিনি। কিন্তু কথা দিচ্ছি, খুব শিগগিরি আসব।’

প্রসঙ্গত, ৮ দফার নির্বাচন শেষ বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল)। হঠাৎ কেন অগ্নিমিত্রার হয়ে বক্তব্য রাখলেন তিনি? এই ধরনের মন্তব্যও বা কেন করলেন মিঠুন? তার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত, নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা রয়েছে অগ্নিমিত্রার। জিতলে সেই আনন্দ উদযাপনে তিনিও সামিল হবেন। আসবেন অগ্নিমিত্রার নির্বাচনী কেন্দ্রে। সবার সঙ্গে দেখাও করবেন। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদি অগ্নিমিত্রার মতোই শিক্ষিত, ভদ্র বিধায়ক চান। যিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বুঝবেন। সবার দিকে সমান নজর রাখবেন। ‘সোনার বাংলা’ গড়তে সাহায্য করবেন।

উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন নিজের ব্যক্তিগত জীবন। জানান, ‘মাঝে বেশ কিছুটা সময় আমার খুবই খারাপ গিয়েছে। সেই সময় অগ্নি নিয়মিত আমার খবর নিত। ও আমার খারাপ সময়ের বোন। আমার স্ত্রী যোগিতাকে রোজ ফোন করত।’ তার পরেই তার যুক্তি, যিনি মুম্বাইয়ের দাদার নিয়মিত খবর নিতে পারেন তিনি নিজের নির্বাচিত এলাকার মানুষদের দেখভাল আরও বেশি করে করবেন। অগ্নিমিত্রা তার দায়িত্ব সম্বন্ধে যথেষ্ট সজাগ। অগ্নিমিত্রার জয় আসানসোল (দক্ষিণ)-এর গর্ব।

অগ্নিমিত্রার প্রশংসার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে এবার বিজেপি সরকার গঠন করলে কী কী সুবিধে পাওয়া যাবে, তারও একটি তালিকা দেন মহাগুরু। তারকা অভিনেতা জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বদলে যাবে পশ্চিমবঙ্গ। সমস্ত জেলা হাসপাতালগুলো শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হবে। কমানো হবে বিদ্যুতের বিল। নারীরাও বিনামূল্যে সরকারি বাসে যাতায়াত করতে পারবেন। বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার যাবতীয় খরচ বহন করবে বিজেপি সরকার। রাজ্যের মেয়েরা প্রাপ্তবয়স্ক হলেই তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকার থেকে পৌঁছে যাবে ২ লাখ টাকা। ভাগচাষীরা পাবেন ৪ হাজার টাকা করে। অগ্নিমিত্রার অঞ্চলে পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যাও প্রার্থী মেটাবেন, এমনও আশ্বাস শোনা গেছে মহাগুরুর কথায়।

Sharing is caring!