জাটকা রক্ষায় দুই মাসের অভয়াশ্রম শেষে চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়তে শুরু করেছে ইলিশসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। সরগরম হয়ে উঠেছে জেলে পাড়া, আড়ৎ ও বাজার। মাছ আহরণ করতে শত শত জেলে মেঘনায় বিচরণ করছে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে নেমেছে জেলেরা। রাতে মাছ কম পাওয়া গেলেও দুপুরে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আসতে শুরু করে আড়তে।

শনিবার (০১ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদপুর সদরের দক্ষিণে সবচাইতে বড় মৎস্য আড়ৎ হরিণা ফেরিঘাটে গিয়ে ইলিশসহ সব ধরণের মাছ ধুমধাম ক্রয়-বিক্রয় করতে দেখা যায়। শহরের অধিকাংশ খুচরা বিক্রেতা এই আড়তে গিয়ে মাছ সংগ্রহ করে বরফে স্তুপ করছেন।

ওই আড়তের প্রবীণ মৎস্য ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম ছৈয়াল বলেন, অভিযান মাত্র শেষ হয়েছে। জেলেরাও মাছ ধরতে নেমেছে। কয়েকদিন গেলে বুঝা যাবে নদীতে মাছের অবস্থা। আজকে সকালে মাছের আমদানি কম থাকলে বেলা বাড়ার সাথে মাছে আমদানি বেড়েছে। বড় বড় আইড় মাছ, ইলিশ মাছ ও অন্যান্য প্রজাতির মাছ পেয়েছে জেলেরা।

হরিণা এলাকার জেলে ওসমান ও নজরুল ইসলাম বলেন, তারা এক নৌকায় ৫জন সকালে নদীতে নেমেছেন। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ জালে আটকেছে। বিক্রি করলে হয়তো ২হাজার টাকা বিক্রি করতে পারবেন। আরো কয়েকদিন পরে নদীতের মাছের প্রকৃত অবস্থা জানাযাবে বলে জানান তারা।

আড়ৎদার নেছার সৈয়াল বলেন, ছোট সাইজের ইলিশের হালি ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। আইড় মাছ মধ্যম সাইজের প্রতি কেজি ৭শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ টাকা, ছোট সাইজের ইলিশের কেজি ৫শ’ টাকা, ৮শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা।

ওই আড়তের কালু হালদারকে বিক্রি করতে দেখা যায় বর্তমান সময়ের বড় বড় সাইজের ইলিশ। প্রতিটি ইলিশ ৮শ’ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের। জেলেরা নদী থেকে আনা মাত্রই হাকডাক দিয়ে বিক্রি হচ্ছে এবং এসব ইলিশ ক্রয় করছেন শহরের খুচরা বিক্রেতারা।

এদিকে ছোট ছোট আড়ৎগুলো জেলেরা পোয়া, শিলন, রিডা, ছোট পাঙ্গাস ও তপসী মাছ বিক্রি করতে দেখাগেছে। বড় মাছের তুলনায় ছোট মাছের আমদানিও কম নয়।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকি বলেন, অভয়াশ্রম শেষ হলেও নভেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত জাটকা ধরা নিষেধ। কারণ এই সময়টাতে জাটকাগুরো বড় হয়ে ইলিশের রূপান্ত হয়। তবে এখন অন্যান্য মাছ ধরতে নিষেধ নেই। আজকে থেকে জেলেরা মাছ ধরতে নেমেছে মেঘনায়। বৃষ্টি হলে বেশী পরিমানে মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Sharing is caring!