ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়কার দাপুটে অভিনেত্রী ছিলেন শাবানা। তিন দশকের ক্যারিয়ারে প্রায় তিনশ’র মত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ঢালিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা। ইন্ডাস্ট্রিতে তার অভিষেক শিশু শিল্পী হিসেবে। ১৯৬২ সালে ‘নতুন সুর’ শিরোনামে সিনেমাটি মুক্তি পায়। অভিনয় দিয়ে তিনি জয় করেছেন কোটি ভক্তের হৃদয়। অভিনয় ছেড়ে শাবানা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ‘অবসর জীবন’ কাটাচ্ছেন।  নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে অভিনয় জগতকে টা টা বলে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্বামী-সন্তান নিয়ে থিতু হন শাবানা।

এদিকে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাবানা বলেছেন, আমার কাছে গল্প ও চরিত্রের প্রাধান্য সবার আগে। এরপর পরিচালক কে সেটা দেখতাম। আর বিপরীতে কোন নায়ক রয়েছেন তা কখনও ভাবিনি। আমি কতটুকু ভালো অভিনয় করতে পারব সেদিকে নজর ছিল সবসময়।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাবানা। শুটিংয়ের আগে আশেপাশে তেমন চরিত্রগুলোকে অনুসরণ করতেন তিনি। শাবানা এই প্রসঙ্গে বলেন, গ্রামের চরিত্র যখন পেতাম, তখন দেখতাম গ্রামের একটা মেয়ে কীভাবে কথা বলে বা তার চালচলন কেমন। অন্যদিকে কোনও ধনী মেয়ে চরিত্র পেলেও, বিভিন্ন শপিং মলে তাদের দেখতাম।

এই প্রসঙ্গে শাবানা আরও বলেন, তবে আমি পোশাকে ব্যাপারে সবসময় সচেতন ছিলাম। কারণ সবারই একটা নিজস্বতা থাকে। আমি সেখান থেকে কখনও বের হইনি।

উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ১৫ জুন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাবানা।  প্রায় পাঁচ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাবানা। পাশাপাশি প্রযোজনাও করেছেন তিনি। সফলতার ঝুলিতে রয়েছে ১১ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।  এত সফলতার পরেও ১৯৯৭ সালে সিনেমাকে বিদায় জানান শাবান। তার শেষ সিনেমা ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ মুক্তি পায় একই বছরে। এরপর ২০০০ সালে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তার দুই মেয়ে সুমি ও ঊর্মি এবং এক ছেলে নাহিন।

তিন দশকের বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে নাদিম, রাজ্জাক, আলমগীর, ফারুক, জসীম, সোহেল রানার মতো অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে জুটি বেঁধে শাবানা উপহার দেন ২৯৯টি সিনেমা। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হচ্ছে: ‘ভাত দে’, ‘অবুঝ মন’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘সত্য মিথ্যা’, ‘রাঙা ভাবী’, ‘বাংলার নায়ক’, ‘ওরা এগারো জন’, ‘বিরোধ’, ‘আনাড়ি’, ‘সমাধান’, ‘জীবনসাথী’, ‘মাটির ঘর’, ‘লুটেরা’, ‘সখী তুমি কার’, ‘কেউ কারো নয়’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘স্বামী কেন আসামি’, ‘দুঃসাহস’, ‘পুত্রবধূ’, ‘আক্রোশ’ ও ‘চাঁপা ডাঙ্গার বউ’।

Sharing is caring!