আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পরেই চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা ইলিশ মাছ শিকারে নামবে জেলেরা। ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।

জাতীয় সম্পদ জাটকা সংরক্ষণে সরকারের মার্চ-এপ্রিল দুই মাস চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় অভয়াশ্রম শেষে ইলিশ আহরণে করবে তারা। করোনা পরিস্থিতিতে সরকার দুই মাস জেলেদের ৮০ কেজি চাল দিলেও সংসার কেটেছে দুর্ভোগে। এখনো আরও ২ মাসের চাল বিতরণ বাকী। এখন নদীতে নেমে মাছ না পেলে ঋন পরিশোধসহ অন্যান্য খরচ মেটানো আরো কষ্টকর হয়ে পড়বে তাদের। ১ মে মধ্য রাত থেকে ইলিশ আহরণে নামজে জেলেরা।

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার প্রতিবছর মার্চ-এপ্রিল দুই মাস চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা নদীতে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে। এ সময়ে ইলিশের পোনা জাকটাসহ সকল ধরণের মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মওজুদ ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিলো।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, গত দু’মাসে আইন অমান্য করে ৯০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় জাটকা ধরার অপরাধে প্রায় ৩শ’ জেলেকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। শতাধিক ভ্রাম্যমান আদালত ও সাড়ে ৫শ’ অভিযানে জব্দ হয়েছে প্রায় সোয়া দুই কোটি মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল। জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডের অভিযানে জাটকা জব্দ হয়েছে ৪০ মেট্টিক টন। বিশেষ করে এ বছর অভিযানে জব্দকৃত জেলে নৌকাগুলো নিলামে বিক্রি হয়েছে সাড়ে ১১ লাখ টাকা।

টাস্কফোর্সের কঠোর অভিযানের মধ্যে এক শ্রেনীর অসাধু জেলে জাটকা নিধন করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করেছে। আর প্রকৃত জেলেরা মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকলেও বর্তমানে তাদের দিন কাটছে মাছ না পাওয়ার শঙ্কায়। জেলার অর্ধলক্ষ নিবন্ধিত জেলে পরিবার এখন ইলিশ আহরণের উপর নির্ভর করে চলতে হবে। অভিযান শেষে ইলিশসহ সব ধরণের মাছ আহরণে জাল ও নৌকা মেরামতসহ সব ধরণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা।

জেলেরা জানান, সরকার যে অভিযান দিয়েছে তা মেনেছি। কিন্তু নদীতে নেমে মাছ না পেলে আবারও আমদের ঋণের বোঝাসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুর্ভোগ কাটাতে হবে। সব কিছুই আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী বলেন, সরকারের জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি ও অভয়াশ্রম বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স নিয়মিত নদীতে অবস্থান করেছে। আইন অমান্যকারী জেলেদের জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

Sharing is caring!