হাজিগঞ্জ উপজেলায় কাজিরখিল মল্লিক বাড়ির জানে আলম মল্লিকের বড় মেয়ে লিজা আক্তার ফরিদগঞ্জ গুয়াটোবা স্বামীর বাড়ি থেকে বাপের বাড়িতে বেড়াতে এসে নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে হাজিগঞ্জ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি প্রায় ২২ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ লিজার সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন হাজিগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক সেলিম ও মজিবুর রহমান এবং উভয় পরিবারের লোকজন।

জানা যায় যে ৫/৬ বছর পূর্বে উভয় পরিবারের লোকজনের মাধ্যমে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুয়াটোবা সর্দার বাড়ির মরহুম আব্দুর রব সর্দারের ছেলে প্রবাসী বেলায়েতের সঙ্গে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক তিন লক্ষ টাকা মোহরানা ধার্য করিয়া দেড় লক্ষ টাকা উসুলে বিয়ে দেওয়া হয় হাজিগঞ্জ উপজেলার ৬নং পূর্ব বড়কূল ইউনিয়নের কাজিরখিল মল্লিকের বাড়ির জানে আলম মল্লিকের বড় মেয়ে লিজা আক্তার কে,

বিয়ের পর দুজনের দাম্পত্য জীবনে হাসিখুশির সংসাারে লাভলী নামের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম নেয়।

বিয়ের কয়েক বছর দুই পরিবারের মাঝে সু-সম্পর্ক থাকায় শশুর পরিবারের প্রতি দুর্বল হয়ে প্রবাসী বেলায়াত স্বাচ্ছন্দ্যবোধে কাটিয়েছেন বিগত বছরগুলো।

কিন্তু স্ত্রী হিসেবে লিজার মনে স্থান করে নিতে পারেননি বেলায়াত, দাম্পত্য জীবনের ৫/৬ বছর অতিবাহিত হলেও তৈল আর পানির মত ছিল লিজার মনের ভাব। স্বামী হিসেবে প্রবাসী বেলায়াতকে মন থেকে মেনে নিতে পারেননি সে।

শেষের দিকে এসে লিজা হয়ে ওঠে অন্যমনস্ক স্বামীর অগোচরে অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে গোপনে ফোন আলাপ করে যাচ্ছেন এমনটাই জানিয়েছেন স্বামী বেলায়াত।

তবে কার সাথে লিজা কথা বলতো তা বলতে না গেলেও প্রবাসী স্বামী বেলায়াত বুঝতে বাকি কিছুই রইল না সে পরকীয়ায় আসক্ত।

নানান অজুহাতে স্ত্রী লিজা বাপের বাড়িতে চলে আসতো, জানতে চাইলে প্রবাসী বেলায়াত এর গর্ভধারিনী মা ফিরোজা বেগম বলেন।

বড় বউ ছোট বউ এর মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান ছোট বউ লিজা সংসারের কারো সাথে মিলেমিশে থাকতে চাইতো না। সব সময় একাই থাকতে চাইতো আমাদের সেবা করাতো দূরের কথা তার ইচ্ছামত চলত কেউ তাকে বাধা দিত না।

যেদিন বাড়ি থেকে চলে গিয়েছে সেদিন দুইটা সি, এন,জি এনে আমার ছেলের অর্থে কেনা যাবতীয় মালামাল স্বর্ণালঙ্কার টাকা পয়সা নিয়ে গেছে। এখন শুনি সে পালিয়ে গিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে তার বাবা-মায়ের হাত থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

প্রবাসী স্বামী বেলায়েত বলেন, আমার স্ত্রী লিজা অবুঝ শিশু কন্যা লাভলীকে নিয়ে গেছে সঙ্গে। তার কোন ক্ষতি হলে আমি কাউকে বাঁচবো না।

আমার স্ত্রী লিজাকে তারাই সরিয়ে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে নিজের মা পারভীন বেগম বলেন নিজা আমার মেয়ে সে আমার বাড়িতে বেড়াতে এসে কোথায় চলে গেছে আমরা তা জানি না। তবে তাকে না পেয়ে নিখোঁজ ডায়েরি করেছি,

হাজিগঞ্জ থানার জিডি নং ২৩৬, তিনি বলেন আমার মেয়ের সাথে কারো কারো অবৈধ সম্পর্ক আছে কিনা তা আমরা জানিনা। সে কোথায় গেছে আমরা তার খোজে দিশেহারা মেয়েটি কাউকে না বলে পালিয়ে গিয়েছে।

তাকে খুঁজে পেলে একটা সমাধানে আমরা করবো।

নিজার স্বামীর সম্পত্তি তার নামে রেজিস্ট্রি হবে। যার সম্পদ তার নামে রয়েছে, আগে লিজাকে খুঁজে বের করা হোক পরে তার সমাধান হবে।

এ ব্যাপারে বেলায়েত আরও বলেন ,জানে আলম আমার অর্থনৈতিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে তার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে। লিজা কোথায় রয়েছে জানে অথচ তথ্য দিচ্ছে না এ ব্যাপারে আমি বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

Sharing is caring!