মাচায় ঝুলছে হলুদ তরমুজ। সবুজ গাছের লতার ডগায় ছোট-বড় তরমুজে নুয়ে পড়েছে মাচা। কৃষক ব্যস্ত সময় পার করছেন তরমুজ গাছের পরিচর্যায়। আগামী পনেরো থেকে কুড়ি দিনের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হবে এসব তরমুজ। হলুদ তরমুজের এমন বাগান এখন কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার বলরামপুর এলাকায় গেলে দেখতে পাওয়া যায়।

কুমিল্লা জেলায় হলুদ তরমুজ প্রথমবারের মতো চাষ করেছেন জেলা সদর দক্ষিণ উপজেলার বলরামপুর এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেন। তিনি গত বছর চাষ করে সফল হয়েছিলেন কালো তরমুজ। কথা হয় তরমুজ চাষি আনোয়ার হোসেনের সাথে।

তিনি জানান, ৫০ দিন আগে ৬৫ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। যার মধ্যে ২০ শতাংশ জমিতে হলুদ তরমুজ এবং ৪৫ শতক জমিতে কালো তরমুজ চাষ করেছেন। আগামী পনের থেকে কুড়ি দিন পর তার তরমুজ বিক্রির উপযোগী হবে। এখন আনোয়ারের জমিতে ৩ হাজার ৫ শতটি বড় তরমুজ আছে। সব মিলিয়ে ৪০০০ তরমুজের ফলন হবে।

আনোয়ার হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছেন। বর্তমানে প্রতি কেজি তরমুজ ১০০ টাকা হিসাবে বিক্রি হয়। সে হিসাবে ৪ হাজার তরমুজ (গড়ে প্রতিটি তিন কেজি ওজন হলে) ১০ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন।

আনোয়ার হোসেন জানান ইউটিউবে দেখে তিনিও তরমুজ চাষ শুরু করেন। এলাকার কৃষি কর্মকর্তা শাহিদা আক্তার সব সময় তাকে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়েছেন। সদর দক্ষিণ উপজেলার দক্ষিণ গলিয়ারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামাল প্রধানসহ কৃষি কর্মকর্তারা আনোয়ারের হলুদ তরমুজ সম্পর্কে বলেন, আনোয়ার হোসেন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা। সে গত বছর কালো তরমুজ চাষ করেছেন। সে সময় তাকে অনেকেই পাগল বলে আখ্যায়াতি করেছিলেন। সবকিছু ছাড়িয়ে আনোয়ার এখন সফল তরমুজ চাষি। তার দেখাদেখি তরমুজ চাষ আগ্রহী হচ্ছে অনেকেই।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লা উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, আনোয়ার হোসেন যখন হলুদ তরমুজ চাষ শুরু করেন সে সময় কৃষি বিভাগ তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। এবার তিনি হলুদ তরমুজ চাষ করেছেন, তার ফলন ভালো হয়েছে। কুমিল্লার মাটি হলুদ তরমুজ চাষের উপযোগী। কুমিল্লার মাটি কালো ওহলুদ তরমুজ চাষের উপযোগী। কালোও হলুদ তরমুজ রসালো খেতে সুস্বাদু।

Sharing is caring!