গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের সফরকে কেন্দ্র করে হেফাজতের জ্বালাও পোড়াও কাণ্ডে বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতা ফেঁসে যেতে পারে। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া হেফাজতে ইসলামের নেতারা জিজ্ঞাসাবাদের একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য দিচ্ছেন। এসব তথ্য যাছাই বাছাই করে বিএনপি নেতারা জড়িত রয়েছে বলে মন্তব্য করে ডিবি পুলিশ।

হেফাজতের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দল ষড়যন্ত্রে জড়িত কি না- এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মো. মাহবুব আলম বলেছেন, ইসলামপন্থীর বাইরেও মূলধারার রাজনৈতিক দল আছে। তাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলেরও (বিএনপি) বেশ কিছু নেতার যোগসাজশ রয়েছে। ২০১৩ সালেও ছিল, চলতি বছরেও আছে।

নিজ কার্যালয়ে হেফাজত নেতাদের গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ সম্পর্কে গণমাধ্যমকে মাহবুব আলম এ তথ্য দেন।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, হেফাজতকে কাজে লাগিয়ে ২০১৩ সালে সরকার পতনের অনেক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে হেফাজতের চক্রান্ত হয়। এ বছর আবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে আগমনকে ঘিরে যে নাশকতা হলো, সেখানে একই ধরনের আরেকটি চক্রান্ত হয়েছে। এটা তদন্তে অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে।

মাহবুব আলম আরও বলেন, অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতাই মনে করেন যে হেফাজত একমাত্র প্ল্যাটফর্ম যেটা ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে কাজে লাগতে পারে। মাদ্রাসার ছাত্রদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এমন ‘অপচেষ্টা’ করছে বা নাশকতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন।রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে হেফাজত তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এগুলো তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পেয়েছি। ২০১৩ সালে বাবুনগরী ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে মুফতি ফখরুল জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে পুলিশ এসব ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পেরেছে।

হেফাজত এমনই এক সংগঠন যার ডাকে মাদ্রাসার ছাত্রদের আনা ও ব্যাপক লোক সমাগম সম্ভব হয়।এ জন্য প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের এজেন্ডাগুলো হেফাজতকে দিয়ে বাস্তবায়ন করতে চায় বলে জানান ডিবির এই কর্মকর্তা।

Sharing is caring!