কৈশোরে একেবারে হ্যাংলা পাতলা গড়নের ছিলেন সুমন দাস। বন্ধুরা এ নিয়ে হাসি তামাশা করত। একদিন এক বড় ভাই পরামর্শ দিলেন জিমে ভর্তির। শুধু শরীর চর্চার লক্ষ্যেই তখন বডি বিল্ডিংয়ে শুরু তার। কখনো প্রতিযোগিতায় নাম লেখাবেন এমন ভাবনা ছিল না।

আরও জানুন: যে মামলায় গ্রেফতার হলেন মামুনুল

সেই সুমনই এখন দেশের বডি বিল্ডিং খেলায় হয়ে উঠেছেন সবার আদর্শ। লিখে চলেছেন ধারাবাহিক সাফল্যের গল্প; যার রহস্য জানিয়েছেন তিনি।সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশ গেমসে বডি বিল্ডিং ডিসিপ্লিনের ছেলেদের ৮৫+ কেজি ওজন শ্রেণিতে সেরা হন সুমন দাস। ২০১৩ বাংলাদেশ গেমসেও নিজ ইভেন্টে সেরা হয়েছিলেন তিনি। সবশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপেও ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ খেতাব জেতেন সুমন।

মাঝে ‘মিস্টার ঢাকা’ উন্মুক্ত শরীরগঠন চ্যাম্পিয়নশিপে ওভার-অল চ্যাম্পিয়নের (মেনস বডি বিল্ডিং) মুকুটও পড়েছেন। সাউথ এশিয়ান বডি বিল্ডিং প্রতিযোগিতাতেও সেরা হওয়ার গৌরব রয়েছে তার। সব মিলে পাঁচবার ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ খেতাবজয়ী বাংলাদেশ আনসারের এই প্রতিযোগীর সাফল্যের পেছনে আর কিছু নয়- অধ্যবসায়।

নিজের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে এমনই বলেছেন সুমন। তার কথায়, ‘আসলে পরিশ্রমই সব। এখানে প্রকৃতি প্রদত্ত কোনো ব্যাপার নেই।’ জানতে চাইলে সুমন বলছিলেন, ‘আমি একটা জিনিসই চিন্তা করি, আমি চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, এরপর যেন আমি কোনোভাবেই রানার্সআপ না হই। প্রথম হওয়াটা আমাকে ধরে রাখতে হবে এটা আমার লক্ষ্য থাকে।’

তবে খুব সহজেই যে জিতে যাওয়া, ব্যাপারটা মোটেও এমন নয়। অন্য যে কোনো খেলার ক্রীড়াবিদদের মতোই সুমনকে পাড়ি দিতে হয় কঠিন পথ। বলছিলেন, ‘সত্যি কথা এটা ধরে রাখাটা অনেক কঠিন। সারা বছরই আমাকে অনুশীলনের মধ্যে থাকতে হয়। একটা ব্যাপার দেখবেন, যেকোনো স্পোর্টসেই যারা চ্যাম্পিয়ন হয়, তারা সবাই কিন্তু অন্যদের থেকে বেশি পরিশ্রম করে। দূর থেকে আমরা হয়তো ভাবি এটা গড গিফটেট। ব্যাপারটা কিন্তু এমন না। হয়তো গড গিফটেড সামন্য কিছু থাকতে পারে। আমি সব সময় চেষ্টা করি, আমার চ্যাম্পিয়নটা ধরে রাখার জন্য সারা বছর ওয়ার্কআউটে থাকতে।’

আর এ ক্ষেত্রে অন্যদের থেকে সব সময়ই ভিন্ন পরিকল্পনা সাজান সুমন, ‘যখন কোনো প্রতিযোগিতা আসে, তখন আমার প্ল্যান-প্রোগ্রাম মোটামুটি একটু ভিন্ন থাকে। আমি বলব না, অন্যদের প্ল্যান-প্রোগ্রাম ঠিক থাকে না। তাদেরও হয়তো থাকে। আমার কাছে মনে হয়, আমি আমার প্ল্যান এমন ভাবে তৈরি করি, যেভাবেই হোক আমাকে চ্যাম্পিয়ন হতে হবে।’

সুমন বলে দেন তার এই সাফল্যের পেছনে গোপন কোনো রহস্য নেই, ‘এটার রহস্য আমি একটাই বলব- প্র্যাকটিসের কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত প্র্যাকটিস, হার্ড ওয়ার্ক ও ডায়েটের কোনো বিকল্প নেই।’

সুমন এখন আরো বড় স্বপ্ন নিয়ে সামনে তাকাচ্ছেন। স্বপ্ন দেখছেন প্রো কার্ড অর্জনের। পেশাদার বডি বিল্ডার হওয়ার প্রধান শর্ত যেটি। এর আগে সামনে কিছুদিন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই বিরতি অবশ্য নিজেকে প্রস্তুত করার জন্যই। নিজেকে ভালোভাবে তৈরি করে বিদেশে বড় কোনো প্রতিযোগিতায় থেকে প্রো কার্ড অর্জন করতে চান তিনি।

এ ক্ষেত্রে সুমনের প্রেরণা ২০১৭ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত অলিম্পিয়ন অ্যামেচার প্রতিযোগিতা। এশিয়ার ৪৪টি দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে সুমন ৯ম হয়েছিলেন সেবার। তার বিশ্বাস এর চেয়েও ভালো করা সামর্থ্য রাখেন তিনি।

Sharing is caring!